ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন প্রদত্ত সেবাসমূহ

প্রকাশ: June 1, 2015
DNCC

১. সড়ক খনন অনুমতি:
সড়ক খনন অনুমতির জন্য সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগে নির্ধারিত ফরমে হালনাগাদ পরিশোধিত হোল্ডিং টাক্সের প্রমানসহ আবেদন করতে হয়। প্রকৌশল বিভাগ সরেজমিনে পরিদর্শন পূর্বক পরিমাপ গ্রহন করে অনুমোদিত রেট শিডিউল অনুযায়ী ফি নির্ধারন করে দেবে। সড়ক খনন ক্ষতিপূরন/ফি পরিশোধের পর অনুমতি মিলবে।

১-৩ দিন এই সেবা প্রাপ্তির প্রয়োজনীয় সময়।

২. নতুন হোল্ডিং নম্বর প্রদান:

সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগ নতুন হোল্ডিং নম্বর প্রদাণ করে থাকে। সাদা কাগজে কর কর্মকর্তা বরাবর জায়গার মালিককে মালিকানা সংক্রান্ত কাগজসহ আবেদন করতে হয়। পরবর্তীতে সরেজমিনে তদন্ত করে জায়গার মালিকানা সঠিক পাওয়া গেলে হোল্ডিং নাম্বার প্রদান করা হয়।

প্রয়োজনীয় তথ্য/দলিল প্রাপ্তি সাপেক্ষে খালি জায়গা ও নির্মাণাধীন কাঠামোর ক্ষেত্রে ১৫ দিন এই সেবা প্রদানের প্রয়োজনীয় সময়। কাঠামো থাকলে ৯০ দিন।

খালি জায়গা ও নির্মানাধীন কাঠামোর ক্ষেত্রে বাৎসরিক কর ২৭ টাকা, ত্রৈমাসিক কর ৬.৭৫ টাকা। কাঠামো থাকলে সেক্ষেত্রে কাঠামোর ধরন অনুসারে বাৎসরিক কর নির্ধারন করা হয়। ১৯৮৬ সনের মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (ট্যাক্সেশন রুলের ২৬(১) ধারা অনুযায়ী কর নির্ধারিত হয়।

৩. হোল্ডিং ট্যাক্স সার্ভিস:

সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগ এই সার্ভিস দিয়ে থাকে।

কোন বাড়ি-ঘর নতুন নির্মাণ/ পরিবর্তন/ পরিবর্ধন করা হলে উহার কর নির্ধারনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্ব প্রাপ্ত রেভিনিউ সুপারভাইজার নয়াবাদী ফরম পূরণ করে দাখিল করেন। পরবর্তীতে বাড়ীর মালিকের বরাবর প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সহ ৭ দিন সময় দিয়ে কর আইনের ২৬(২), ধারা মতে শুনানীর নোটিশ জারী করা হয়। পরবর্তীতে হোল্ডিংটি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রাপ্ত তথ্য ও জোতের বিবরণের ভিত্তিতে ঢাকা সিটি করপোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার অনুসরনে বার্ষিক মূল্যায়ন নির্ধারণ করা হয়।

প্রয়োজনীয় সকল তথ্য দলিল পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ৯০ দিনের মধ্যে এই সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। নির্ধারিত বার্ষিক মূল্যায়নের উপর বাৎসরিক ১২% হারে কর আদায় করা হয়। বাড়ী/ভবন/ ফ্ল্যাট নতুন নির্মানের ক্ষেত্রে কর আইনের ২৬(১), ধারা, পরিবর্তন/ পরিবর্ধন করা হলে ২৬(১)ডি, ধারা, ভাড়া বৃদ্ধি হলে ২৭, ধারা অনুসরণ করা হয়।

৪. হোল্ডিংয়ের নামজারী ও নাম পরিবর্তন:

এই সেবাও রাজস্ব বিভাগের আওতাভুক্ত। খরিদ/দান/ওয়ারিশ সূত্রে আংশিক/সম্পূর্ণ মালিকানা প্রাপ্ত হয়ে সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ে নামজারী করতে ইচ্ছা হলে আবেদনকারীকে হোল্ডিংয়ের মালিকানা রেজিষ্টার্ড দলিল, পর্চা, ডিসিআর, খাজনার রশিদ এর সত্যায়িত কপিসহ নির্ধারিত ‘এম’ ফরমে সংশ্লিষ্ট কর কর্মকর্তার বরাবর আবেদন করতে হয়। আবেদন প্রাপ্তির পর হোল্ডিংয়ের পূর্ববর্তী মালিকের আপত্তি আছে কি না তাহা জানার জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়। উক্ত নোটিশ প্রদানের ৩০(ত্রিশ) দিনের মধ্যে আপত্তি না থাকলে নামজারীর বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। এই ক্ষেত্রে উক্ত হোল্ডিংয়ের পৌরকর হাল সন পর্যন্ত পরিশোধ করতে হয়।

প্রয়োজনীয় সকল তথ্য/ দলিলপত্রাদি প্রাপ্তি সাপেক্ষে ৬০ দিনের মধ্যে এই সেবা প্রদান করে কর্পোরেশন। এই সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ১৯৮৬ সনের মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (ট্যাক্সেশন রুলের ২৬(বি) ধারা অনুসরন করা হয়।

৫. ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন পদ্ধতি:

সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগ এই সেবা দেয়। ট্রেড লাইসেন্সের জন্য নির্ধারিত ‘কে’ ফরমে আবেদন করতে হয়। আবেদন পত্রের সাথে ৩ কপি ছবি, ভাড়ার চুক্তি পত্র ও ভাড়ার রশিদ, কর পরিশোধের রশিদসহ কর কর্মকর্তার বরাবর আবেদন করতে হয়। লিমিটেড কোম্পানীর ক্ষেত্রে মেমোরেন্ডামের কপি দাখিল করতে হয়। পরবর্তীতে লাইসেন্স সুপারভাইজার কর্তৃক সরেজমিনে তদন্ত করে সঠিক পাওয়া গেলে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা হয়।

সাধারণত ৩ দিন তবে স্বাস্থ্য বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগের তদন্তের প্রয়োজন হলে ৭ দিনের মধ্যে এই সেবা প্রদাণ করা হয়। এই সেবা প্রাপ্তির জন্য নামজারীর ফরমের মূল্য ১০ টাকা। এছাড়াও ব্যবসার ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি আদায় করা হয়। কর আইনের ৪৪(১), ধারা অনুসরন করে এই সেবা দেয়া হয়।

ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন:

ট্রেড লাইসেন্স বহির সাথে নবায়নের চালান বহি থাকে। বৎসর ভিত্তিক নবায়ন সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় নির্ধারিত ফি জমা প্রদানের মাধ্যমে করা হয়। একদিনের মধ্যেই এই পাওয়া যায়।

৬. জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন:

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত নিয়মকানুন জানতে ক্লিক করুন এখানে।

৭. ধূমপানমুক্তকরণ নির্দেশিকা:

ধূমপানমুক্তকরণ নির্দেশিকা পাবেন এখানে।

৮. কবরস্থান:

উত্তরা কবরস্থান ঢাকা উত্তরের জোন ১’র ১ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান ঢাকা উত্তরের জোন ৪’র ১০ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। বনানী কবরস্থান ঢাকা উত্তরের জোন ৩’র ১৯ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। এখানে ২০০৬ সাল থেকে কবরের জমি সংরক্ষণ বন্ধ রয়েছে।

সংরক্ষণ ১০/১৫/২০ বা ২৫ বছরের জন্য সম্ভব। এর জন্য যথাক্রমে ২/৪/৬ বা ৮ লক্ষ টাকা দিয়ে মেয়র বা প্রশাসকের অনুমোদন নিতে হয়। সংশ্লিষ্ট জোনের সহকারী সমাজকল্যাণ অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

৯. কমিউনিটি সেন্টার বুকিং:

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন কমিউনিটি সেন্টার বুকিংযের জন্য জোনাল নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর নির্দিষ্ট আবেদন ফর্মে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্র পেলে জোনাল নির্বাহী কর্মকর্তা তা সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা বরাবর পাঠাবেন। বুকিং অনুমোদনের জন্য দুইদিন সময় লাগে। কমিউনিটি সেন্টারের অনুমোদিত ভাড়া নগদ/ পেঅর্ডার/ বা ব্যাংক চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হয়।

১০. বৃহদায়তন বা বিশেষ প্রকল্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অনাপত্তি ছাড়পত্র প্রদান:

নগর পরিকল্পনা বিভাগের উপরে এই দায়িত্ব ন্যস্ত। এই সেবা কার্যক্রম শুধুমাত্র আবাসিক/বানিজ্যিক/শিল্প বৃহদায়তন বা বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

চালানের মাধ্যমে ২৫০/-(দুইশত পঞ্চাশ) টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে প্রদান করে ছাড়পত্রের আবেদনপত্র নগর পরিকল্পনা বিভাগ হতে সংগ্রহ করতে হয়। আবেদনপত্র পুরন করে সকল কাগজপত্রসহ (দরকারী কাগজপত্র-ডকুমেন্ট, অংশে বিবরন) আবেদনপত্র মেয়র/প্রশাসক অথবা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে দাখিল করতে হয়। প্রাপ্ত আবেদনপত্র প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সরেজমিনে পরিদর্শনসহ আবেদনপত্রে উল্লেখিত তথ্যের মিল আছে কি না সামগ্রিকভাবে তা যাচাইপূর্বক প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনসহ ফাইল (নম্বরসহ) পরীক্ষাকারীর নিকট উপস্থাপন করেন। পরীক্ষাকারী দাখিলকৃত ডকুমেন্ট পরীক্ষান্তে নিয়ম মোতাবেক স্থাপত্য নকশা দাখিল হয়েছে কি না তা পরীক্ষার জন্য স্থপতির নিকট প্রেরন করেন।

স্থাপত্য নকশা পরীক্ষান্তে সঠিক হলে নথিতে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের নিকট স্থপতি উপস্থাপন করেন। পরীক্ষান্তে ফাইল/নথিটি পজিটিভ হলে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ প্রস্তাবিত ভবনের ছাড়পত্রের জন্য নথি উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছাড়পত্রের জন্য প্রস্তাবনা পরীক্ষাকারী ও স্থপতির মাধ্যমে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের নিকট উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ নথিটি অনুমোদনের জন্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট প্রেরন করেন। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নথিটি মেয়র/প্রশাসকের নিকট অনুমোদনের জন্য প্রেরন করেন।

অনুমোদন হওয়ার পর ছাড়পত্র ফি এবং সিকিউরিটি জামানত (ছাড়পত্র ফির ১০% ভাগ) এর পে-অর্ডার (সংযুক্ত তালিকা মোতাবেক) গ্রহন করে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়। সকল কাগজপত্র জমা প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়।

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন