ঢাকা ক্লাব

প্রকাশ: May 16, 2015
DC

ঢাকা ক্লাব ঢাকায় অবস্থিত অভিজাত শ্রেণির লোকদের প্রধান সামাজিক সমিতি। এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত প্রাচীনতম বিনোদনমূলক সংগঠন যা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫১ সালে।। রমনা এলাকায় অবস্থিত এই পার্কটি ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ ও অন্যান্য ইউরোপীয়দের বিনোদনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং বিংশ শতকের প্রথম ভাগ পর্যন্ত এখানে কেবল শ্বেতাঙ্গদেরই প্রবেশাধিকার ছিল। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকাকে নবগঠিত পূর্ববাংলা এবং আসাম প্রদেশের রাজধানী করা হয়। নতুন প্রদেশ শাসনে আগত ইংরেজগণ কলকাতার বেঙ্গল ক্লাবের আদলে ঢাকায় একটি সামাজিক ক্লাবের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯১১ সালের ১৯ আগস্ট ঢাকা ক্লাব প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ক্লাবটি শাহবাগে অবস্থিত এবং এর চারপাশ ঘিরে রয়েছে ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয়, জাতীয় জাদুঘর, রূপসী হোটেল, বারডেম হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রমনা পার্ক এবং সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যান। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফেরার পর ঢাকা ক্লাবের জন্য ৫ একর জমি রেখে বাকিটা বারডেম হাসপাতাল নির্মাণের জন্য দিয়ে দেন। ক্লাবের নামে যে ৫ একর জমি দেওয়া হয় সেটা ছিল নির্দ্দিষ্ট মেয়াদের লিজ। ১৯৪১ সালে রমনা এলাকার ৫২৪ বিঘা জমি ক্লাবটিকে ইজারা দেয়া হয়। পরে ঐ জমিতে স্থাপিত হয়েছে ঢাকা শেরাটন হোটেল, বেতার ভবন, বারডেম, ইত্যাদি। ঢাকার নওয়াব পরিবার ঢাকা ক্লাবকে ভূমি লিজ দিয়েছিল।

১৯১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ১৮৮২ সালের ভারতীয় কোম্পানি আইনের অধীনে ক্লাবটিকে আইনি মর্যাদা প্রদান করা হয়। প্রতিষ্ঠার পরপরই ক্লাবটি বর্ণগতভাবে একটি মিশ্রক্লাবে পরিণত হয়, যদিও ১৯৪৭ পর্যন্ত শ্বেতাঙ্গদের আধিপত্য বজায় থাকে। ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন লে. কর্নেল ই.এ হল (সিভিল সার্জন, ঢাকা), সি.আর ব্রায়ান, এইচ. জি বেলি (কমান্ড্যান্ট, মিলিটারি পুলিশ ব্যাটেলিয়ান, ঢাকা), জে.ও রেনি (পিডব্লিউডি, ঢাকা) এবং ঢাকাস্থ ভারতীয় পুলিশ বাহিনীর জে.এস উইলসন ও এ.টি হ্যালিডে।

প্রতিষ্ঠাকালে ঢাকা নবাব এস্টেট থেকে ক্লাবের জমি বন্দোবস্ত নেওয়া হয়েছিল। ক্লাবটির সদস্য সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায় বিশ শতকের বিশ ও তিরিশের দশকে, যখন বহু ইউরোপীয়রা পাট ব্যবসায়, বাষ্পীয় পোত চলাচল, রেলওয়ে এবং জমিদারি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কাজে ঢাকায় আসে। ১৯৪১ সালে বাংলার গভর্নর ৫২৪ বিঘা (১৭৩ একর) পরিমাণ জমি ঢাকা ক্লাবকে বন্দোবস্ত দেন। এ জমির অধিকাংশই একটি ঘোড়দৌড়ের মাঠ ( রমনা রেসকোর্স, বর্তমানে সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানের অধিকাংশ), গলফ খেলার মাঠ, ক্লাবের কিছু ভবন ও খেলার মাঠের কাজে ব্যবহূত হয়। বর্তমানে ক্লাবটির নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে আছে ৫ একর পরিমাণ জমি। এ জায়গাটুকুতে সভাকক্ষ, সেমিনার কক্ষ, হল ঘর, অতিথি কক্ষ, রান্নাঘর ও খাবার ঘর এবং টেবিল টেনিস, বিলিয়ার্ড, তাস, স্কোয়াশ, সাঁতার, লন টেনিস ইত্যাদি খেলার সুবিধাদি প্রদান করা হয়েছে।

কাল পরিক্রমায় ক্লাবটির সদস্য সংখ্যা, ভৌত সুবিধাদি ও সেবা কার্যক্রম যথেষ্ট সম্প্রসারিত হয়েছে। এটি এখন সকল পেশার অভিজাত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে। অতীতে অভ্যন্তরীণ ও বহিরাঙ্গন খেলাধুলাই ক্লাবটির প্রধান চিত্র ছিল তবে বর্তমানে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডকেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা ক্লাবের সদস্য, তাদের পরিবার ও অতিথিদের জন্য রয়েছে নানা আয়োজন ও সুযোগ সুবিধা। এখানে উন্নতমানের একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। অভিজ্ঞ দেশি-বিদেশি শেফ এখানে রকমারি খাবার তৈরি করেন। ক্লাবের ভেতরে ১৯টি কক্ষের অতিথিশালা রয়েছে। একটি প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটসসহ মোট ১৮টি ডাবল বেডরুম রয়েছে।

এখানকার সদস্যরা হেলথ ক্লাবে নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। সদস্যদের পরিবারের জন্য রয়েছে গানের স্কুল, নাচের স্কুল, ছবি আঁকার স্কুল, সাঁতার শেখার ব্যবস্থা। প্রায় ১০ হাজার দুষ্প্রাপ্য বইয়ের একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারও রয়েছে। ক্লাব সদস্যরা বাড়িতে বই নিয়ে পড়ার সুযোগ পান।

একজন সভাপতি এবং দশজন সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি কর্তৃক ক্লাবটি পরিচালিত হয়। সদস্যদের সাধারণ সভায় এক বছর মেয়াদি কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হয়। ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন আজীবন সদস্য, সাধারণ সদস্য, অনরারি সদস্য, বিশেষ সদস্য এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা। অবশ্য, ভোট দেয়ার অধিকার আজীবন ও সাধারণ সদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন