ঢাকা মেডিকেল কলেজ

প্রকাশ: May 18, 2015
DMC1

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত একটি সরকারী মেডিকেল কলেজ। এটি ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় যা বর্তমানেবাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে ৫ বছর মেয়াদি এমবিবিএস কোর্সে প্রতি বছর ১৭৫ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ভবন নগরীর কেন্দ্রস্থলে শহীদ মিনার ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝে অবস্থিত।

ইতিহাস
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ সালে ভারতবর্ষের ক্ষমতা দখলের প্রায় একশ বছর পর ১৮৫৩ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। কলকাতায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠারও একশ’ বছরে এ অঞ্চলে কোন মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয়নি। মধ্যবর্তী এ দীর্ঘ সময়ে কিছু মেডিকেল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মিটফোর্ড হাসপাতালের সাথে মিটফোর্ড মেডিকেল স্কুল (যা বর্তমানে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ), ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও সিলেট মেডিকেল স্কুল।

তবে পূর্ববঙ্গে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিতে নিতে চলে আসে ১৯৩৯ সাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার বছরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিল তদানীন্তন বৃটিশ সরকারের কাছে ঢাকায় একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব পেশ করে। কিন্তু যুদ্ধের ডামাডোলে হারিয়ে যাওয়া প্রস্তাবটি ১৯৪৫ সালে যুদ্ধ শেষে আলোর মুখ দেখে। বৃটিশ সরকার উপমহাদেশের ঢাকা, করাচী ও মাদ্রাজে (বর্তমানে চেন্নাই) তিনটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। এ উপলক্ষে ঢাকার তৎকালীন সিভিল সার্জন ডাঃ মেজর ডব্লিউ জে ভারজিন এবং অত্র অঞ্চলের প্রথিতযশা নাগরিকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তাদের প্রস্তাবনার উপর ভিত্তি করেই ১০ জুলাই ১৯৪৬ তারিখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ চালু হয়।

প্রারম্ভিক পরিস্থিতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৩৬ সালের একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত। সরকারি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষার দরুন প্রতিষ্ঠানটি শুরু করতে প্রায় দশ বছর লেগে যায়। বঙ্গভঙ্গের কারণে নবগঠিত বাংলা ও আসাম প্রদেশের সচিবালয়ের জন্য ১৯০৪ সালে নির্মিত ভবনটি ১৯২১ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল এবং এ ভবনের একাংশে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্র, আরেকটি অংশে ডরমিটরি এবং অবশিষ্টাংশে কলা অনুষদের শিক্ষা ভবন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সম্পূর্ণ ভবনটি আমেরিকান বেস হাসপাতালরূপে ব্যবহূত হয় এবং যুদ্ধ শেষে আমেরিকানরা চলে গেলে ওখানে একটি একশ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে এভবনটিতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (Dhaka Medical College and Hospital/DMCH) চালু হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ গঠনের প্রাক্কালে স্থাপিত কমিটির প্রধান ডব্লিউ জে ভারজিন এর উপরেই ন্যস্ত হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালনার গুরুদায়িত্ব। শুরুতে এনাটমি ও ফিজিওলজি ডিপার্টমেন্ট না থাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের মিটফোর্ড মেডিকেল স্কুলে ক্লাস করতে হত। একমাস পর এনাটমি বিভাগের অধ্যাপক পশুপতি বসু এবং ফিজিওলজি বিভাগে অধ্যাপক হীরালাল সাহা শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর হাসপাতালে ২২ নং ওয়ার্ডে ক্লাস শুরু হয়। তখন ছিল না কোন লেকচার গ্যালারি বা ডিসেকশান হল। ১৯৫৫ সালে কলেজ ভবন স্থাপনের পর সেই অভাব পূরণ হয়।

এছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষাদানের পথিকৃতেরা ছিলেন ফরেনসিক মেডিসিনের ডাঃ এম হোসেন, ফার্মাকোলজি বিভাগে প্রফেসর আলতাফ আহমেদ, প্যাথলজি বিভাগে প্রফেসর আনোয়ার আলী এবং ডাঃ কাজী আবদুল খালেক, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যায় প্রফেসর হাবিব উদ্দিন আহমেদ ও প্রফেসর হুমায়রা সাঈদ, মেডিসিন বিভাগে প্রফেসর নওয়াব আলী ও প্রফেসর মোঃ ইব্রাহীম, সার্জারি বিভাগে প্রফেসর মেজর এফ ডব্লিউ এলিসন, প্রফেসর ই ভন নোভাক, লেঃ কর্নেল গিয়াস উদ্দিন এবং প্রফেসর আমির উদ্দিন প্রমুখ।

প্রথম অবস্থায় এ হাসপাতালে মাত্র চারটি বিভাগ ছিল, যেমন: মেডিকেল, সার্জারি, স্ত্রীরোগবিদ্যা (গাইনিকলজি) এবং ইএনটি (নাক, কান, গলা)। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের জন্য কোনো হোস্টেল বা আবাসিক ব্যবস্থা ছিল না। ছাত্রদেরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহে থাকার অনুমতি দেওয়া হতো কিন্তু ছাত্রীদের নিজ নিজ বাসা থেকে এসে ক্লাস করতে হতো।

১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের পর কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এক বিরাট সংখ্যক ছাত্র চলে এসে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়। একইভাবে অনেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছেড়ে কলকাতা মেডিকেল কলেজে চলে যায়। কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে সাময়িক ছাউনি বানিয়ে সেগুলির কয়েকটিতে হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও কয়েকটিতে ছাত্রদের হোস্টেল খোলা হয়। অতঃপর পর্যায়ক্রমে ছাত্রাবাস, কলেজ ও হাসপাতালের জন্য নতুন নতুন ভবন নির্মিত হতে থাকে। ১৯৫২ সালে ছাত্রীনিবাস, ১৯৫৪-৫৫ সালে ছাত্রাবাস, ১৯৫৫ সালে অনেকগুলি শিক্ষাভবন, ১৯৭৪-৭৫ সালে ইন্টার্নি ডাক্তারদের হোস্টেল নির্মাণ করা হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি
একটি মাত্র ভবন নিয়ে পথচলা শুরু করা ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নিজস্ব প্রায় ২৫ একর জমিতে বর্তমানে রয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা- কলেজ ভবন, অডিটোরিয়াম, পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্র, ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেল, বার্ন ইউনিট ইত্যাদি। শুরুতে হাসপাতাল ভবনেই প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ক্লাস হলেও ১৯৫৫ সালে একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য বর্তমান কলেজ ভবনটি নির্মিত হয়। এতে বেসিক সাবজেক্টগুলির জন্য স্থান বরাদ্দের পাশাপাশি আরও কিছু স্থাপনা রয়েছে। ২৮টি বিভিন্ন বিভাগ এবং হাসপাতালে ৪২টি ওয়ার্ডে ২৩৪ জন ডাক্তার, ২০০ জন ইন্টার্নি ডাক্তার, ৫৬০ জন নার্স এবং ১১০০ জন অন্যান্য কর্মচারী নিয়োজিত আছেন রোগীদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দিতে। প্রায় ১৭০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৩০০০ জনকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। একই সাথে চলতে থাকে ৩য় থেকে ৫ম বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের হাতে কলমে শিক্ষাদান।

প্রতিবছর ১৮০ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয় এমবিবিএস কোর্সে। তিনটি পেশাগত পরীক্ষা দিয়ে একজন শিক্ষার্থী ডাক্তার হবার যোগ্যতা অর্জন করে এবং এরপর একবছর ইণ্টার্নশিপ করতে হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বর্তমানে বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতকোত্তর কোর্স (এমডি ও এমএস) চালু করা হয়েছে।
প্রথম থেকে একই কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকলেও ১৯৭৫ সালে প্রশাসনিক সুবিধার্থে কলেজ ও হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ পৃথকীকরণ করা হয়। কলেজের দায়িত্বভার অর্পিত হয় অধ্যক্ষের উপর এবং হাসপাতাল পরিচালনার ভার পরিচালকের উপর। তবে উভয় কর্তৃপক্ষই বিভিন্ন কার্যক্রমে একে অপরকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করে শিক্ষাদান ও চিকিৎসা সেবাদানের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করে থাকে।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
১৯৪৮ এর মার্চ মাসে রমনার রেসকোর্সে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ যেদিন ঘোষণা দেন, ‘উর্দু, শুধু উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ সেদিন বিক্ষুব্ধ ছাত্রসমাজই ক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল, প্রতিবাদে হয়েছিল সরব। ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানে মুখর প্রতিবাদী যুবকদের প্রতিহত করতে শাসকেরা বেছে নিয়েছিল নির্যাতনের কৌশল। লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ তো ছিলই, ছিল বিপ্লবী ছাত্রদের গ্রেফতার। অনেকের সাথে সেদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র এম আই চৌধুরী, আবু সিদ্দিক, আলী আসগর, জসিমুল হক ও ফরিদুল হক কারাবরণ করেন।

এরপরে ১৯৫২ পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেল (যা ব্যারাক নামে পরিচিত ছিল) ভাষা আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র রূপে আবির্ভূত হয়। এখন যেখানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সেখানেই ছিল ব্যারাক। টিনশেড প্রায় ২০টি ব্যারাক ছিল, যেখানে মেডিকেলের ছাত্ররা থাকত। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সংসদ ভবন (বর্তমান জগন্নাথ হল) এর নিকটবর্তী হওয়ায় কৌশলগত কারণেই সকল ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে মেডিকেল হোস্টেল গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।

বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই ঢাকা শহরের সকল ছাত্ররা মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের সামনে সমবেত হতে শুরু করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের সংসদ ভবন অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করার- কারণ তখন সংসদ অধিবেশন চলছিল। সশস্ত্র পুলিশি প্রহরা এবং ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকায় কোন মিছিল আয়োজন সম্ভব ছিল না। কিনতু অকুতোভয় ছাত্ররা বিকাল ৪টার দিকে ঐতিহাসিক আমতলা (যা বর্তমান জরুরি বিভাগের পাশে অবস্থিত ছিল) থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়। মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউর।

একুশে ফেব্রুয়ারি সূর্যাস্তের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা সিদ্ধান্ত নেয় শহীদদের রক্তরঞ্জিত স্থানে একটি মিনার স্থাপন করার। ১২ নং ব্যরাকের ৬নং রুম ও হোস্টেলের পূর্ব পাশের গেটের মধ্যবর্তী এক জায়গায় মিনারটি ২২শে ফ্রেব্রুয়ারি ও ২৩শে ফেব্রুয়ারি রাতভর কাজ করে গড়ে তোলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা। আর এ জন্য হাসপাতালের নির্মাণ কাজের জন্য সংরক্ষিত ইট, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহৃত হয়।

প্রথম গড়া শহীদ মিনারটির বেদী ছিল ছয় বর্গফুট এবং উচ্চতায় দেড় ফুট। বেদী থেকে একটি কলাম গোড়া থেকে শীর্ষ পর্যন্ত সরু হয়ে উঠে গিয়েছিল। যা গোড়ায় ছিল চার বর্গফুট এবং শীর্ষে দুই বর্গফুট। পুরো মিনারটির উচ্চতা ছিল ১৪-১৫ ফুট। তৎকালীন ছাত্রনেতারা ঢামেকসুর ভিপি গোলাম মওলা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাশেম, পূর্বতন সাধারণ সম্পাদক শরফউদ্দিন আহমেদ, মুহাম্মদ জাহেদ, আব্দুল আলীম চৌধুরী, আহমদ রফিক প্রমুখ এ নির্মাণ কাজে নেতৃত্ব দেন। সাঈদ হায়দারের নকশা ও বদরুল আলমের লেখা অনুসরণে এই শহীদ মিনার গড়ে তোলা হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারটির প্রথমে উদ্বোধন করেন শহীদ শফিউরের পিতা এবং পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দৈনিক আজাদ সম্পাদক জনাব আবুল কালাম শামসুদ্দিন। কিনতু ২৬শে ফেব্রুয়ারি বিকেলে পাকিস্তানীরা এই শহীদ মিনার গুঁড়িয়ে দেয়।

ষাটের দশকের বিভিন্ন আন্দোলন
ষাটের দশকে ছাত্র ও জাতীয় রাজনীতিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। আইয়ুব খানের সামরিক সরকার ছাত্র-রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপর নিপীড়ন শুরু করলে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্র নেতৃবৃন্দের মধ্যে সর্বজনাব সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক, কে এম ওবায়দুর রহমান, মোঃ ফরহাদ(প্রয়াত), কাজী জাফর আহমেদ, রাশেদ খান মেনন, হায়দার আকবর খান রনো, নুরুজ্জামান, শেখ মনি (প্রয়াত), সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক(প্রয়াত)প্রমুখ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বকশীবাজারে ছাত্রদের হোস্টেলে থাকতেন। আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচী বা রূপরেখা নির্ধারণের বেশির ভাগ সভাই সে সময় কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হত। ১৯৬২ সালে সামরিক শাসন ও হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনে মেডিকেল কলেজ ও ছাত্রাবাস শুধুমাত্র তৎকালীন ছাত্রনেতাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বা সভার স্থানই ছিল না, এই কলেজের অনেক ছাত্র জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন। আইয়ুব খান জেল, হুলিয়া ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে কিছুকাল আন্দোলন দমন করে রাখলেও ’৬৮ সালের শেষের দিকে ছাত্রনেতৃবৃন্দ পুনরায় আন্দোলন গড়ে তুলতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন হলে ছাত্রদের সঙ্গে গোপনে আলোচনা শুরু করেন। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ’৬৯ এর ২০ জানুয়ারি ছাত্রদের বিক্ষোভ মিছিল শুরু হলে পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্তমান জরুরি বিভাগের নিকট মিছিলে প্রথমে লাঠিচার্জ ও পরে গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান গুরুতর আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় কিন্তু চিকিৎসা শুরুর পূর্বে তিনি বর্তমান ৮ নং ওয়ার্ডে মারা যান। মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা শহীদ আসাদুজ্জামানের রক্তমাখা শার্ট নিয়ে প্রথম শোক মিছিল বের করে। এই দশকে বিভিন্ন আন্দোলনকে দমন করার জন্য সরকার প্রায়ই ঢাকা শহরে কারফিউ দিতো। ছাত্র-জনতা কারফিউ ভেঙ্গে মিছিল বের করলে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ এমনকি গুলিবর্ষণ পর্যন্ত করত। তখনকার ছাত্র-চিকিৎসকরা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে সেই কারফিউর মধ্যেই ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসত। এই দুঃসাহসিক কাজ করতে গিয়ে অনেকে নির্যাতন পর্যন্ত ভোগ করেছে। ’৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বটতলায় ছাত্রদের স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের কয়েকদিন পরেই হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা বর্তমান ডক্টরস ক্যাফেটেরিয়ার চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ
১৯৭১এর মুক্তিযুদ্ধে এই কলেজ থেকে পাশ করা চিকিৎসক, তৎকালীন ছাত্র, কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। এদের অনেকেই অস্ত্রহাতে পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। আবার কেউ কেউ হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধা এবং অসহায় বাঙালিদের চিকিৎসা করেছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভূমিকা তিনভাগে বর্ণনা করা যেতে পারে- এক ভাগে যারা ঐ সময়ে কলেজের ছাত্র ছিলেন এবং প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাঁদের তৎপরতা, আরেকভাগে এই কলেজ থেকে পাশকৃত চিকিৎসকদের একটি অংশ যাঁরা অন্যান্য হাসপাতাল ও সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরে কর্মরত ছিলেন কিনতু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করেছেন এবং শেষভাগে যারা অস্ত্রহাতে যুদ্ধ না করলেও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বাঙালিদের চিকিৎসা করেছেন।

এই কলেজের তৎকালীন ছাত্রদের মধ্যে বিভিন্ন সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মোয়াজ্জেম হোসেন, সেলিম আহমেদ, আলী হাফিজ সেলিম, আবু ইউসুফ মিয়া, ইকবাল আহমেদ ফারুক, মুজিবুল হক, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মোজাফ্‌ফর, আমজাদ হোসেন, ওয়ালী, ওসমান, গোলাম কবীর, জিল্লুর রহিম, ডালু, নুরুজ্জামান, শাহাদত প্রমুখ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এদের অনেকেই ঢাকা শহর কমান্ডের তত্ত্বাবধানে থেকে যুদ্ধ করেছেন। এই কলেজের কয়েকজন ছাত্র মুক্তিযোদ্ধা শহরের কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাসহ বর্তমান শহীদ ডাঃ ফজলে রাব্বি ছাত্রাবাসে রাজাকারদের উপর হামলা চালায়। ছাত্রাবাসের ১০৭ নং রুমে সে সময় রাজাকারদের ঘাঁটি ছিল। তাঁদের গোপন হামলায় হোস্টেল গেটে পাহারারত ২ জন রাজাকার নিহত হয়। গুলির শব্দ শুনে ১০৭ নং রুমে অবস্থানরত অন্যান্য রাজাকাররা পালিয়ে যায়। এদের একজন সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে থাকলে সেও মুক্তিযোদ্ধাদের গুলির আঘাতে নিহত হয়। একই দিনে তাঁরা ২১৯নং রুমে হামলা চালায়। এই গ্রুপটি কলেজ-ডি সেকশন হলেও বোমা চালিয়েছিল।

এই কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্রী নিপা লাহিড়ী যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ভারতে যাবার পথে ফতুল্লাতে নিহত হন। আর একজন ছাত্র সিরাজুল ইসলাম হাসপাতালে বিভিন্নভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করেতেন। তিনি রাতে হোস্টেলে না গিয়ে হাসপাতালের ক্যান্সার ওয়ার্ডে ঘুমাতেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের কিছু স্বাধীনতা বিরোধী ছাত্রের সহায়তায় তাঁকে ১১ ডিসেম্বর রাতে রাজাকার বাহিনী ক্যান্সার ওয়ার্ড থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নির্মমভাবে হত্যা করে।

তৎকালীন সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরের সদস্যদের মধ্যে স্কোয়াড্রন লীডার এম শামসুল হক, মেজর খুরশীদ, মেজর শামসুল আলম, ক্যাপ্টেন আব্দুল লতিফ মল্লিক, ক্যাপ্টেন মোশায়েফ হোসেন, ক্যাপ্টেন আঃ মান্নান, লে আখতার, লে নুরুল ইসলাম প্রমুখ অফিসারবৃন্দ বিভিন্ন সেক্টরে নিয়োজিত ছিলেন। এদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ক্যাপ্টেন খুরশীদ বীরউত্তম ও লেফটেন্যান্ট আখতার বীরপ্রতীক উপাধি পেয়েছিলেন। তৎকালীন পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরের যে সমস্ত সদস্য শহীদ হয়েছেন তাঁদের মধ্যে ডাঃ লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এফ জিয়াউর রহমান, ডাঃ মেজর আসাদুল হক, ডাঃ লেফটেন্যান্ট আমিনুল হক, ডাঃ লেফটেন্যান্ট খন্দকার আবু জাফর মোঃ নূরুল ইমাম প্রমুখ ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছিলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত প্রায় সকল চিকিৎসকই আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা করতেন। মুক্তিযোদ্ধারা আসল নাম গোপন রেখে হাসপাতালে ভর্তি হতেন। হাসপাতালে এই সমস্ত কাজের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করতেন অধ্যাপক ফজলে রাব্বি। তিনি তাঁর আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় করতেন মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করে। শহীদ অধ্যাপক আলিম চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সময় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে কর্মরত থাকলেও বেশীরভাগ সময় কাটাতেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করা অনেক চিকিৎসক ভারতে গিয়ে বিভিন্নভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঐ সমস্ত চিকিৎসকদের অনেকে অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করেছেন। আবার কেউ আহত মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের চিকিৎসা করেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাশকৃত চিকিৎসকদের মধ্যে যারা মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন তারা হলেন- ডাঃ শিশির মজুমদার, ডাঃ সরওয়ার আলী, অধ্যাপক সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, ডাঃ ওয়াজেদুল ইসলাম খান, ডা. মাকসুদা নার্গিস, ডাঃ কাজি তামান্না, ডাঃ ফৌজিয়া মোসলেম ও ডাঃ সমীর কুমার শর্মা প্রমুখ (অনেকের নাম সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি)। দেশের ভিতর থেকে অসংখ্য চিকিৎসক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করার জন্য পাকবাহিনী ও রাজাকারদের হাতে অনেককে জীবন দিতে হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করা চিকিৎসক, তৎকালীন ছাত্রছাত্রী এবং এই কলেজে কর্মরত চিকিৎসকদের তালিকা:
• ডাঃ মোঃ ফজলে রাব্বি
• ডাঃ আব্দুল আলীম চৌধুরী
• ডাঃ সামসুদ্দিন আহমেদ
• ডাঃ আজহারুল হক
• ডাঃ এ বি এম হুমায়ূন কবির
• ডাঃ সোলায়মান খান
• ডাঃ গোলাম মর্তুজা
• ডাঃ আব্দুল জব্বার
• ডাঃ নরেন ঘোষ
• ডাঃ জিকরুল হক
• ডাঃ হাসিময় হাজরা
• ডাঃ মফিজ উদ্দিন খান
• ডাঃ গোপাল চন্দ্র সাহা
• ডাঃ লেঃ কঃ এ এফ জিয়াউর রহমান এ এম সি
• ডাঃ লেঃ কঃ এন এ এম জাহাঙ্গীর এ এম সি
• ডাঃ মেজর রিয়াজুর রহমান এ এম সি
• ডাঃ মেজর এ কে এম আসাদুল হক এ এম সি
• ডাঃ লেঃ মোঃ আমিনুল হক এ এম সি
• ডাঃ লেঃ খন্দকার আবু জাফর নূরুল ইমাম এ এম সি
• মোঃ সিরাজুল ইসলাম (ছাত্র)
• নীপা লাহিড়ী (ছাত্রী)
• মোঃ হুমায়ুন ফরিদি (ছাত্র)
• মোঃ হাসান শহিদ (ছাত্র)

নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
ডাক্তাররা এরশাদ সরকার ঘোষিত গণবিরোধী স্বাস্থ্যনীতির বিরুদ্ধে বিএমএর ব্যানারে ডাক্তাররা ১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ২৭ নভেম্বর পিজি হাসপাতালে বিএমএর এমনই একটি সভায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে যাবার পথে এরশাদ সরকারের ভাড়াটিয়া গুণ্ডাবাহিনীর গুলিতে শহীদ হন ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৩৪ ব্যাচের ছাত্র, ফিজিওলজি বিভাগের প্রভাষক ডাঃ শামসুল আলম খান মিলন।

হাসপাতাল ভবন
১৯০৪ সালে নবগঠিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের সচিবালয় হিসেবে ভবনটি স্থাপিত হয়। নতুন প্রদেশের স্বল্পস্থায়ী মেয়াদে এটি সচিবালয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ১৯২১ সালে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার যাত্রা শুরু করে, ভবনটির কর্তৃত্ব পায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই সময় বিশাল এই ভবনের একপাশে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার, একাংশে ছিল ছাত্রদের ডরমেটরি এবং বাকি অংশ কলা অনুষদের প্রশাসনিক শাখা হিসেবে ব্যবহৃত হত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে তখন পুরো ভবনটিতেই স্থাপিত হয় ‘আমেরিকান বেস হাসপাতাল’। তবে যুদ্ধ শেষে মার্কিনীরা চলে গেলেও ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি থেকে যায়।

ছাত্রাবাস
তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রমেশ চন্দ্র মজুমদার ছাত্রদের আবাসনের ব্যবস্থা করেন। এ সময় মুসলমান ছাত্ররা সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে, হিন্দু ছাত্ররা ঢাকা হলে (বর্তমানে জগন্নাথ হল), খ্রিস্টান ছাত্ররা সদরঘাটের ব্যাপ্টিস্ট মিশনে থাকত। আর ছাত্রীরা থাকত নার্সিং হোস্টেলে। ১৯৪৭ সালে বর্তমান নার্সিং ইনস্টিটিউটের স্থানে নিজস্ব ছাত্রী হোস্টেল স্থাপিত হয়। । প্রথমে ১১টি, পরে আরো দুই দফায় ৬টি ও ৩টি মোট ২০টি ব্যারাক নির্মিত হয়।

বর্তমানে যে ছাত্রী হলটি ‘ডাঃ মিলন হল’ নামে পরিচিত, তা ১৯৯২ সালের পূর্বে ডাঃ আলীম চৌধুরী হলেরই অংশ ছিল। এ হলে রয়েছে ১১৬টি রুম।
ছাত্রদের বকশীবাজার মোড়ের বর্তমান হলটি নির্মিত হয় ১৯৫০ থেকে ১৯৫৫ সালে। ১৯৭২ সালে যার নামকরণ করা হয় শহীদ ডাঃ ফজলে রাব্বির নামে। এই হলে একটি মূল ভবন ও ৩ টি ব্লকসহ মোট রুম এর সংখ্যা ২২৫ যা MBBS প্রথম বর্ষ থেকে পঞ্চম বর্ষ পর্যন্ত ছাত্রদের জন্য সংরক্ষিত। প্রতি বছর ২০০ আসন এর বিপরীতে গড়ে ৭৫ জন ছাত্র এই কলেজে ভর্তি হয় এবং এই হল এ থাকার অনুমতি পায়।

১৯৭৪-৭৫ সালে ইন্টার্নি ডাক্তারদের জন্য শহীদ ডাঃ ফজলে রাব্বি হলের পাশে পৃথক হোস্টেল প্রতিষ্ঠিত হয়, পরবর্তীতে এর নামকরণ করা হয় ‘শহীদ ডাঃ মিলন ইন্টার্নি হোস্টেল’। এর পূর্বে ইন্টার্নি ডাক্তাররা চাঁনখারপুলের কাছে ওল্ড পিজি হোস্টেলে থাকত।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলামনি ট্রাস্ট
ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ১৯৮৯ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলামনি ট্রাস্ট গঠিত হয়। এর অফিস ঢাকা মেডিকেল কলেজ ভবনের নিচতলায় অবস্থিত।

অধ্যক্ষ
শুরু থেকেই অদ্যাবধি যাঁরা ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

নম্বার

নাম

মেয়াদকাল

১.

ডাঃ মেজর ডব্লিউ জে ভারজিন

০১.০৭.৪৬ – ১৪.০৮.৪৭

২.

ডাঃ কর্নেল ই জি মন্টোগোমারি

১৫.০৮.৪৭ – ১৯.০৭.৪৮

৩.

অধ্যাপক টি আহমেদ

১৯.০৭.৪৮ – ০১.০১.৫২

৪.

ডাঃ কর্নেল এম কে আফ্রিদি

০১.০১.৫০ – ২০.০৩.৫৩

৫.

অধ্যাপক নওয়াব আলী

২১.০৩.৫৩ – ১০.০৪.৫৪

৬.

অধ্যাপক এ কে এম এ ওয়াহেদ

১১.০৪.৫৪ – ২০.০১.৫৫

৭.

অধ্যাপক নওয়াব আলী

২১.০১.৫৫ – ০১.০২.৫৭

৩৮.

অধ্যাপক কাজী দীন মোহাম্মদ

২৭.০১.০৮ –

ছাত্র সংসদ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদ (ঢামেকসু) কলেজের ছাত্র কল্যাণমূলক কার্যক্রমের জন্য নির্বাচিত ছাত্র সদস্যদের সংগঠন। ঢামেকসু তার জন্মলগ্ন হতেই তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অন্য এক উচ্চতায় আরোহণ করে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে তৎকালীন সহ-সভাপতি গোলাম মওলা সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সদস্য হিসেবে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন