নটর ডেম কলেজ

প্রকাশ: May 19, 2015
Notre dame college

নটরডেম কলেজ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে অবস্থিত একটি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশের সেরা একটি কলেজ যেখানে বি.এ. পড়ার সুযোগও আছে। পবিত্র ক্রুশ সংঘের ধর্মযাজকদের দ্বারা নটরডেম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে কলেজটির ৬০ বছর পূর্ণ হয়েছে। বর্তমানে এটি কমলাপুর রেলস্টেশনের কাছাকাছি মতিঝিল-আরামবাগে অবস্থিত।

নটর ডেম কলেজ ১৯৪৯ সালে ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে হলিক্রস ফাদারগণ কর্তৃক ‘সেন্ট গ্রেগরি কলেজ’ নামে প্রথমে ক্যাথলিক কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৫০ সালে ৬১/১ সুভাষবোস এভিনিউ’র একটি ভবনে কলেজটি স্থানান্তরিত হয় এবং একটি পূর্ণাঙ্গ কলেজ হিসেবে কাজ শুরু করে। ১৯৫৪ সালে এটি মতিঝিলের বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত হয় এবং মা মেরির নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় নটর ডেম কলেজ। পবিত্র ক্রুশ সন্ন্যাস সংঘের ফাদারদের নীতি ও আদর্শ দ্বারা কলেজটি পরিচালিত হয়।

এই প্রতিষ্ঠানটি রোমান ক্যাথলিকদের দ্বারা পরিচালিত এবং গরিব-ধনী, বাঙালি, আদিবাসী, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ সকলের জন্য উন্মুক্ত। গত শতকের পঞ্চাশের দশকে স্কুল ফাইনাল পরীক্ষায় নটর ডেম কলেজের ছাত্ররা অত্যন্ত ভাল ফলাফল অর্জন করে। ১৯৫২ থেকে ১৯৫৯ সালের মধ্যে পরপর সাতবার নটর ডেম কলেজ উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষার সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে।

কলেজটি প্রথমে কলা ও বাণিজ্য বিষয়ে পড়ালেখা চালু করলেও পরবর্তিতে ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে বিএ এবং ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে বিএসসি চালু করে। ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে নটরডেম কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়ে ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাসমূহে নজরকাড়া সাফল্য অর্জন করে এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে সেরা কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

নামকরণ, মূলনীতি ও প্রতীক
নটরডেম কলেজের ‘নটরডেম’ শব্দ দুটো ফরাসি ভাষা থেকে নেয়া হয়েছে। ইংরেজিতে যার অনুবাদ হলো ‘Our Lady’। রোমান ক্যাথলিকগণ ‘আওয়ার ল্যাডি’ বলতে যিশুখ্রিষ্টের মা মেরি বুঝিয়ে থাকেন। তাই ক্যাথলিকদের দ্বারা পরিচালিত এই কলেজটির নাম সেই মহিয়সী নারীকে উৎসর্গ করে রাখা হয়।
কলেজের মূলনীতি হলো: Diligite Lumen Sapientiae, যার ইংরেজি অনুবাদ Love the Light of Wisdom (জ্ঞানের আলোকে ভালোবাসো)। ক্যাথলিক ধর্মমতে, যিশুখ্রিষ্টের মা মেরি হলেন জ্ঞানের প্রতীক। “জ্ঞান” (Sapientiae) শব্দটি কলেজের মূখ্য উদ্দেশ্য একাধারে জ্ঞানার্জন ও জ্ঞানের উৎস স্রষ্টাকে লাভ করার প্রতি ইঙ্গিত করে। “আলো” (Lumen) শব্দটি দ্বারা অন্ধকারকে দূরিভূত করা ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করতে পারার প্রতি ইঙ্গিত করে। আর “ভালোবাসো” (Diligite) শব্দটি দ্বারা ভালোবাসার সাথে জ্ঞান আহরণের প্রতি ইঙ্গিত করে।

নটরডেম কলেজের প্রতীকের সবচেয়ে উপরে রয়েছে একটি খোলা বই, যার বাম পাতায় বড় ছাদের গ্রিক অক্ষর ‘আলফা’ (Α) এবং ডান পাতায় বড় ছাদের ‘ওমেগা’ (Ω) রয়েছে। আলফা-ওমেগা হলো গ্রিক বর্ণমালার, যথাক্রমে প্রথম ও শেষ অক্ষর। এর দ্বারা একই সাথে সমগ্র জ্ঞান এবং বাইবেলের রিভিলেশন অধ্যায়ের যিশুর একটি উক্তির প্রতি ইঙ্গিত করে। এছাড়া বই হচ্ছে জ্ঞানের বাহন। সম্মিলিতভাবে এই প্রতীকগুলো প্রকাশ করছে: যুগ যুগ ধরে আহরিত যাবতীয় জ্ঞান বইয়ের মধ্যে সঞ্চিত হয়ে আছে এবং তা অর্জন করতে পারলেই জীবন আলোকময় হয়ে উঠবে। এই প্রতীকটির নিচের অংশে তিনটি ক্ষেত্র রয়েছে। বাম দিকের ক্ষেত্রে দেখা যায় ৭টি ফ্লুর দে-লিস (Fleurs de-lis); “ফ্লুর দে-লিস” ফরাসি শব্দটির অর্থ হলো ‘পদ্মফুল’। পদ্ম হলো বিশুদ্ধতার প্রতীক। যিশুর মা ম্যারি ছিলেন পদ্মের ন্যায় শুচি এবং পবিত্র। প্রতীকে, ৭টি পদ্ম দ্বারা ম্যারির জীবনের সাতটি শোককে প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁর জীবনের সাতটি দুঃখময় ঘটনার স্মরণে তাঁকে “সপ্তশোকের জননী” বলা হয়ে থাকে। এই প্রতীকগুলো একত্রে কষ্টসাধ্য জ্ঞানার্জনকে ইঙ্গিত করে। ডানদিকের ক্ষেত্রটির জলময় নদী, চলমান নৌকা, সোনালি ধানক্ষেত আর সীমাহীন নীলাকাশশোভিত দৃশ্যটি সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশের বুকে কলেজটির অবস্থান প্রতীকায়িত করে। নিচের ক্ষেত্রটিতে আড়াআড়িভাবে স্থাপিত দুটি নোঙরের বুকে স্থাপিত ক্রুশ হলিক্রস সন্ন্যাস-সংঘের প্রতীক। এই প্রতীক দ্বারা প্রতীকায়িত করা হয়: ক্রুশে বিদ্ধ হয়ে যিশুখ্রিষ্টের মৃত্যু যেমন মানব জাতিকে মুক্তি এনে দিয়েছিলো, তেমনি ক্রুশার্পিত সেই যিশুকে নোঙরের ন্যায় আঁকড়ে ধরে পরিত্রাণ লাভ সম্ভব। নোঙর আশার প্রতীক। ক্রুশ থেকে চারদিকে যে আলো ছড়িয়ে পড়েছে, তা যিশুখ্রিষ্টের আলো ও মহানুভবতার প্রতীক।

নটরডেম কলেজ, রোমান ক্যাথলিকদের দ্বারা পরিচালিত হলেও সকল ধর্মাবলম্বী ছাত্ররাই এখানে অধ্যয়নের সুযোগ পান। কলেজটিতে শুধুমাত্র ছাত্ররা পড়তে পারে, ছাত্রীদের জন্য এখানে কোনো স্থান রাখা হয়নি। কলেজটি পরিচালিত হয় পবিত্র ক্রুশ সন্ন্যাস-সংঘের ফাদারদের দ্বারা পরিচালিত হয়। এই সন্ন্যাস-সংঘের ফাদারগণ উত্তর আমেরিকাতে নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয়, পোর্টল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়, কিংস মহাবিদ্যালয়, স্টোনহিল মহাবিদ্যালয়, এবং দক্ষিণ আমেরিকার চিলির সান্তিয়াগোতে সেন্ট জর্জ মহাবিদ্যালয় পরিচালনা করেন। কলেজে সন্ন্যাসব্রতী ধর্মযাজক ছাড়াও অযাজকীয় শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন।

কলেজের সূচনালগ্নেই ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে কলেজের অভ্যন্তরে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা হয়, যার প্রাক্তন নাম ছিলো, কলেজের প্রাক্তন নামেই, “সেন্ট গ্রেগরীজ কলেজ লাইব্রেরি”। পরবর্তিতে, ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে, কলেজের নাম পরিবর্তন করে নটরডেম কলেজ রাখা হলে গ্রন্থাগারের নামও পরিবর্তন করে রাখা হয় “নটরডেম কলেজ লাইব্রেরি”। কলেজের নতুন ভবনের (গাঙ্গুলী ভবন) নির্মাণ কাজ শুরু হলে ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দের ২১ আগস্ট গ্রন্থাগারটি, কলেজের যুক্তিবিদ্যার প্রাক্তন অধ্যাপক ফাদার রিচার্ড নোভাক, সিএসসি-এর স্মৃতির উদ্দেশ্যে তাঁকে উৎসর্গ করে রাখা হয় “ফাদার রিচার্ড নোভাক ম্যামোরিয়াল লাইব্রেরি”। ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলাকালে ফাদার নোভাক একটি দুর্দশাগ্রস্থ পরিবারের খোঁজ নিতে সাইকেলযোগে রওয়ানা হলে পথিমধ্যে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ফাদার রিচার্ড নোভাকের বড় ভাই মাইকেল নোভাক তাঁর সংগ্রহের অনেক বই এই গ্রন্থাগারে দান করেছেন এবং গ্রন্থাগারের জন্য নিয়মিত অর্থ অনুদান দিয়ে আসছেন। নতুন গ্রন্থাগারকক্ষ নির্মাণের জন্যও তিনি অনুদান দিয়েছেন। আর্চবিশপ গাঙ্গুলী ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থিত লাইব্রেরীটির মোট ১৩০ আসনবিশিষ্ট দুটি পাঠকক্ষ রয়েছে। কলেজে ভর্তির সাথে সাথে ছাত্ররা গ্রন্থাগারের সদস্য হয়ে যান এবং লাইব্রেরী কার্ড পেয়ে যান। গ্রন্থাগারে নিয়মিত ৬টি দৈনিক পত্রিকা, ৪টি সাপ্তাহিক ও ৪টি মাসিক ম্যাগাজিন রাখা হয়। এছাড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ জার্নাল ও ম্যাগাজিন অনিয়মিতভাবে রাখা হয়। বইসমূহ লাইব্রেরী কার্ডের প্রেক্ষিতে ধার নেয়া যায়, তবে অভিধান, এনসাইক্লোপিডিয়া, হ্যান্ডবুক ইত্যাদি দুষ্প্রাপ্য বইসমূহ কেবল গ্রন্থাগারেই ব্যবহার্য। গ্রন্থাগারে ফটোকপিরও ব্যবস্থা আছে।

খেলাধুলায়, কলেজ পর্যায়ে নটরডেম কলেজ বিভিন্ন সময় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। কলেজ প্রাঙ্গনে ফুটবল, ক্রিকেট ইত্যাদি আউটডোর খেলার সুবিধা দিতে বিশাল মাঠ রয়েছে। এছাড়া আছে বাস্কেটবল মাঠ। কলেজের ছাত্রদেরকে খেলাধুলার সুবিধা দিতে রয়েছে একটি খেলার-সরঞ্জাম-ধার-দেয়ার-অফিস। সেখানে ছাত্ররা নিজেদের কলেজ আইডি কার্ড প্রদর্শণপূর্বক বিভিন্ন প্রকার খেলার সামগ্রী বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে পারেন।

শুরু থেকেই এ কলেজে দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ কর্তৃক পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু ১৯৬০ সালে এখানে শিক্ষক ঘাটতি দেখা দিলে ব্রিটিশ স্বেচ্ছাসেবী সার্ভিস (ব্রিটিশ ভলানটিয়ার্স সার্ভিস ওভারসিজ) নামের একটি ব্রিটিশ সংস্থার কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং তাঁরা ১৯৬৩ থেকে ১৯৭০ সাল অবধি শিক্ষকতা করেন। এ সময়ই বিখ্যাত শিক্ষাবিদ ও গবেষক ফাদার টিম সরাসরি এ কলেজের সঙ্গে সংযুক্ত হন। ফাদার হেরিংটন ছিলেন কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ।

ঢাকা হলি ক্রসের আদেশ অনুসারে ক্যাথলিক ফাদার কর্তৃক এটি পরিচালিত হয়। স্থাপনের পর থেকে এ পর্যন্ত ১০ জন পাদ্রী এই কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।
জন হ্যারিংটন, ১৯৪৯-৫৪
জেমস মার্টিন, ১৯৫৪-৬০
থিওটিনিয়াস অমল গাঙ্গুলি, মার্চ, ১৯৬০ – অক্টোবর, ১৯৬০
উইলিয়াম গ্রাহাম, ১৯৬০-৬৭
জন ভ্যান্ডেন বোস, ১৯৬৭-৬৯
জোসেফ পিশোতো, ১৯৬৯-৭০
রিচার্ড উইলিয়াম টিম, ১৯৭০-৭১
অ্যামব্রোস হুইলার, ১৯৭১-৭৬
জোসেফ পিশোতো, ১৯৭৬-৯৮
বেঞ্জামিন কস্তা, ১৯৯৮-২০১২
হেমন্ত পিউস রোজারিও, ২০১২-বর্তমান

১৯৭২-১৯৯৭ সময়কালে কলেজে শিক্ষার মাধ্যম ছিল বাংলা এবং পরবর্তীকালে বাংলা বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও এটি ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষাদান পুনঃপ্রবর্তন করে। ১৯৯২ সালে কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়।

নটরডেম কলেজে বর্তমানে (২০১২) ১৯টি ক্লাব রয়েছে। কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ এখানে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করলেও ছাত্ররাই এসব ক্লাবের প্রাণ। সারা বছর জুড়ে এই ক্লাবগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন ও কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে কলেজের ছাত্রদের উৎকর্ষ সাধনে কাজ করে যাচ্ছে। এইসব ক্লাবের আয়োজিত কিছু কিছু অনুষ্ঠান ও কার্যক্রম বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান হিসাবে মর্যাদা লাভ করেছে। দেশের বিভিন্ন কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ এ কার্যক্রমগুলোকে ভিন্নমাত্রা দান করে।

এই কলেজের ক্লাবসমূহ হলো:
নটরডেম ডিবেটিং ক্লাব (প্রতিষ্ঠা: ১৯৫৩; প্রতিষ্ঠাতা: ফাদার আর. ডব্লিউ. টিম সিএসসি)
১৯৫৩ সালে, কলেজের তৎকালীন জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফাদার রিচার্ড উইলিয়াম টিম, সিএসসি ছিলেন এই ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা মডারেটর। ফাদার টিম উপমহাদেশের একজন প্রতিথযশা জীববিজ্ঞানী, ম্যাগসেসাই পুরস্কার বিজয়ী এবং নেমাটোডা পর্বের জনক।
ক্লাবের বার্ষিক মুখপত্র ‘দ্বৈরথ’। এছাড়া ক্লাব প্রতিবছর দ্রোহ নামে একটি বিতর্ক কড়চা প্রকাশ করে। ক্লাব প্রতিবছর ডিবেটার’স লীগ, মিক্স-আপ, ইন্টার গ্রুপ ডিবেট, পালাবদলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
নটরডেম বিজ্ঞান ক্লাব (প্রতিষ্ঠা: ১৯৫৫; প্রতিষ্ঠাতা: ফাদার আর. ডব্লিউ. টীম সিএসসি)
নটরডেম আউটওয়ার্ড বাউন্ড এ্যাডভেঞ্চার ক্লাব (OBAC) (এডভেঞ্চার ক্লাব) (প্রতিষ্ঠা: ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দের ১১ অক্টোবর; প্রতিষ্ঠাতা: ফাদার আর. ডব্লিউ. টীম সিএসসি)
নটরডেম রোভার দল(প্রতিষ্ঠাঃ ১৯৭২)
নটরডেম বিজনেস ক্লাব (নটরডেম ব্যবসায় সংঘ)(প্রতিষ্ঠাঃ ১৯৭৩)
নটরডেম চেস ক্লাব (নটরডেম দাবা সংঘ)(প্রতিষ্ঠাঃ ২৮ মার্চ, ১৯৮৪)
নটরডেম মানবিক সংঘ(প্রতিষ্ঠাঃ ২৯ আগস্ট, ১৯৮৪)
নটরডেম ন্যাচার স্টাডি ক্লাব (নটরডেম প্রকৃতি নিরীক্ষণ সংঘ)(প্রতিষ্ঠাঃ ২৯ আগস্ট, ১৯৮৪)
দেশের প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিষয়ক বিভিন্ন তত্ত্ব ও তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার করা এবং এ বিষয়ে দেশের ছাত্র ও জনগণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালের ২৯ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হয় ‘নটরডেম ন্যাচার স্টাডি ক্লাব’ (নটরডেম প্রকৃতি নিরীক্ষণ সংঘ)। নটরডেম কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক জনাব মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, তৎকালীন মাত্র ২০ জন ছাত্র নিয়ে ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশে, এই ক্লাবটিকেই এ ধরণের কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রথম ক্লাব হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ এই ক্লাব থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে তৈরি হয়েছে আরো বিভিন্ন ন্যাচার স্টাডি ক্লাব, ঢাকার বিভিন্ন কলেজে। নিয়মিতভাবে ক্লাবের তরফ থেকে বেশ কিছু কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ছাত্র সদস্যদের মাঝে গঠনমূলক মনোবৃত্তির বিকাশই এসব কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য। এ ক্লাবের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে দৈনিক সংবাদ সংগ্রহ, সাপ্তাহিক ক্লাস ও সভা, পাক্ষিক ন্যাচার স্টাডি স্থান পরিদর্শন, মাসিক দেয়ালিকা, ত্রৈমাসিক পত্রিকা “নিসর্গ” প্রকাশ, মাসিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, মাসিক সভা ও মাসিক বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, বার্ষিক সভা ও সেমিনার, বার্ষিক পত্রিকা প্রকাশ। ক্লাবের সদস্যদের উদ্যোগে প্রকাশিত বার্ষিক পত্রিকা “প্রকৃতি” সারা বছরের ক্লাব কার্যক্রমের বহিঃপ্রকাশ। এছাড়া ক্লাবটি ছাত্রদের বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী করে তোলার জন্য প্রায়ই বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করে থাকে, যেমন: গ্রাউন্ড ট্রেনিং প্রোগ্রাম (GTP), ফটোগ্রাফি ট্রেনিং প্রোগ্রাম (PTP), অফিস ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম (OMTP), ফিল্ড ওয়ার্ক ট্রেনিং প্রোগ্রাম (FWTP), নিউজলেটার পাবলিকেশন ট্রেনিং প্রোগ্রাম (NPTP), ন্যাচার জার্নালিজম ট্রেনিং প্রোগ্রাম (NJTP), কম্পিউটার ট্রেনিং প্রোগ্রাম (CTP), ক্লাব ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম (CMTP), সায়েন্টিফিক রিসার্চ প্রিপেয়ার্ডনেস ট্রেনিং প্রোগ্রাম (SRPTP) ইত্যাদি। প্রকৃতি সংরক্ষণে নটরডেম ন্যাচার স্টাডি ক্লাব শুধু নটরডেম কলেজ ক্যাম্পাসেই নয়, এ ক্লাবের চেতনা ছড়িয়ে দিয়েছে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। এই ক্লাবের আজীবন সদস্যরা মিলিত হয়ে ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দের ৩০ আগস্ট গড়ে তুলেছেন “ন্যাচার স্টাডি সোসাইটি অফ বাংলাদেশ” (NSSB) নামে একটি সংগঠন, যা নটরডেম ন্যাচার স্টাডি ক্লাবকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকে।
নটরডেম ডিগ্রী ক্লাব(প্রতিষ্ঠাঃ ২০ এপ্রিল, ১৯৮৬)
যুব রেড ক্রিসেন্ট নটরডেম ক্লাব(প্রতিষ্ঠাঃ ২৬ নভেম্বর, ১৯৮৬)
রোটার্যা ক্ট ক্লাব অব নটরডেম কলেজ(প্রতিষ্ঠাঃ ১৪ মার্চ, ১৯৯০)
নটরডেম নাট্য দল(প্রতিষ্ঠাঃ ১৯৯১)
নটরডেম আবৃত্তি দল(প্রতিষ্ঠাঃ ১৮ আগস্ট, ১৯৯২)
১৯৯২ সালের ১৮ আগস্ট বাংলা বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক মিসেস মারলিন ক্লারা পিনেরু-র নিতৃত্বে ছাত্রদের আবৃত্তি ও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার উদ্দেশ্যে গঠিত হয় নটর ডেম আবৃত্তি দল । তখন থেকেই ছাত্রদের সৃজনশীলতা, মনন ও সুপ্ত প্রতিভার বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। নিয়মিত সভা, কর্মশালা, প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্রদের মাঝে বাংলা সাহিত্যকে ছড়িয়ে দেয়াই নটর ডেম আবৃত্তি দলের প্রধান লক্ষ্য। অন্তঃকলেজ ও আন্তঃকলেজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আবৃত্তিচর্চা-কে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য নটর ডেম আবৃত্তি দল বদ্ধপরিকর। জাতীয় আবৃত্তি উৎসব দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিভবান আবৃত্তিকার খুঁজে পেতে অনেক সাহায্য করে। এছাড়া ছাত্রদের মাঝে বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্য-কে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য-ও জাতীয় আবৃত্তি উৎসব-এর জুড়ি নেই।
নটরডেম হিস্ট্রি ক্লাব(প্রতিষ্ঠাঃ ২৬ আগস্ট, ১৯৯২)
নটরডেম এনভায়রনমেন্টাল প্রমোশন ক্লাব(প্রতিষ্ঠাঃ ২৮ অক্টোবর, ১৯৯২)
ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং এন্ড রিলেসনস্ ক্লাব(প্রতিষ্ঠাঃ ২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৩)
নটরডেম সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী(প্রতিষ্ঠাঃ ৪ ডিসেম্বর, ১৯৯৬)
নটরডেম লেখককুঞ্জ(প্রতিষ্ঠাঃ ২৯ জুলাই, ২০০১)
নটরডেম ইংলিশ ক্লাব(প্রতিষ্ঠাঃ ১৯ অক্টোবর, ২০০৫)
নটরডেম এ্যালামনাই এসোসিয়েশন (এনডিএএ): ২০১১ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে নটরডেম এ্যালামনাই এসোসিয়েশন সংক্ষেপে এনডিএএ। অবশ্য নটর ডেমের প্রাক্তন ছাত্ররা Old Boys কলেজের খ্রিস্টীয় দীক্ষা ও আদর্শের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিপ্রায়ে এরকম একটি সংগঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন সেই ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দের দিকে। তারই প্রেক্ষিতে তৎকালীন অধ্যক্ষ ফাদার জে. এল. মার্টিন, সিএসসি এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি খসড়া গঠনতন্ত্র তৈরি করেন। ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে কলেজের ৫০ বছর (সুবর্ণ জয়ন্তী) এবং ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে ৬০ বছর উদযাপনের সময় ছাত্রগণ এব্যাপারে পুণরায় উৎসাহ প্রকাশ করলে, তৎকালীন অধ্যক্ষ ফাদার বেঞ্জামিন কস্তা, সিএসসি ২০১১ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জানুয়ারি কলেজের প্রাক্তন ১৬ জন ছাত্রের সাথে একটি সভা করে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এরপর কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ড. কামাল হোসেনকে সাম্মানিক সভাপতি, ফাদার বেঞ্জামিন কস্তা, সিএসসি-কে সভাপতি, অধ্যাপক ড. রাশিদউদ্দিন আহমেদকে সহসভাপতি (১ম), ড. আব্দুল মঈন খানকে সহসভাপতি (২য়), ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জন গমেজকে সাধারণ সম্পাদক, ফাদার বকুল এস. রোজারিও, সিএসসি-কে কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক এবং ফাদার আদম এস. পেরেরা, সিএসসি-কে কোষাধ্যক্ষ করে সর্বমোট ১৯জন সদস্য নিয়ে গঠিত অ্যাড-হক কমিটি দিয়ে যাত্রা শুরু হয় সংগঠনের। এরপর ২০১২ খ্রিস্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর কলেজ প্রাঙ্গনে বার্ষিক সাধারণ সম্মেলন আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংগঠনের যাত্রার আনুষ্ঠানিক প্রচারণা করা হয়। সংগঠনের গঠনতন্ত্র হিসেবে ফাদার জে. এল. মার্টিন, সিএসসি কর্তৃক ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দের ৮ ডিসেম্বর প্রণিত গঠনতন্ত্রের ২০১২ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুনের পরিমার্জিত সংস্করণ গ্রহণ করা হয়।

নটরডেম কৃতী শিক্ষার্থী:
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী – লেখক,শিক্ষাবিদ।
ড. কামাল হোসেন – সংবিধানপ্রণেতা, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ।
শাইখ সিরাজ – সাংবাদিক, কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।
গিয়াসউদ্দিন আহমেদ – সিনিয়র লেকচারার, ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

নটরডেম লিটারেসি স্কুল:
নটরডেম কলেজের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নয় এরকম একটি সেবামূলক উদ্যোগ হলো নটরডেম লিটারেসি স্কুল, যা মূলত একটি নৈশ স্কুল। প্রকল্পটি নটরডেম কলেজের ‘স্টুডেন্ট ওয়ার্কিং প্রোগ্রাম’-এর অংশ। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে এখানে চলছে কর্মজীবী এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের শিক্ষাদান। সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ফাদারদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত হয় এই স্কুল। প্রথম দিকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার সুযোগ থাকলেও পরবর্তিতে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত তা উন্নীত করা হয়। বর্তমানে (২০১২) প্রায় ৪৫০জন শিক্ষার্থী এখানে লেখাপড়া করছে। এখান থেকে পাশ করে অনেকে নটরডেম কলেজেও পড়ার মতো যোগ্যতাও অর্জন করে থাকে। মূলত নটরডেম কলেজের ছাত্ররাই স্বেচ্ছায় শিক্ষাদান করছেন এখানে। তবে নটরডেম কলেজ ছাড়াও পড়ান বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া অনেক শিক্ষকও। কলেজশিক্ষক, ছাত্র এবং বিভিন্ন অনুদান থেকেই এই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন-ব্যয় নির্বাহ করা হয়। শিক্ষার্থীদেরকে হীনমন্মতা থেকে মুক্ত রাখতে তাদের থেকেও সামান্য বেতন নেয়া হয়। এই স্কুলে রয়েছে মর্নিং শিফ্‌ট, ডে শিফ্‌ট ও ইভনিং শিফ্‌ট। এছাড়াও এই উদ্যোগের সাথে রয়েছে নটরডেম জাগরণী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড, নটরডেম ন্যাভিন সিক শেল্টার, নটরডেম ফীডিং প্রোগ্রাম, নটরডেম সিউইং সেন্টার, এবং নটরডেম বয়েজ হোম।

ফলাফলের উপর ভিত্তি করে কলেজ বছরের সেরা ছাত্র, বিশেষ সম্মাননা, বিভিন্ন ক্লাবে সদস্যপদ এবং ক্লাসে শতভাগ উপস্থিতির জন্য সনদপত্র প্রদান করে। অনেক সময় ক্লাবের পক্ষ থেকেও বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি প্রদান করে। কলেজ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। খেলাধুলা, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় কলেজের ছাত্ররা নিয়মিত অংশগ্রহণ করে। প্রতিবছর কলেজের ছাত্ররা বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করে। ১৯৯৯ সালে কলেজটি ৫০ বছর পূর্ণ করেছে। এ উপলক্ষ্যে কলেজ বর্তমান ও পুরাতন ছাত্রদের নিয়ে সুবর্ণ জয়ন্তি উৎসবের আয়োজন করে। সুবর্ণ জয়ন্তিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য কলেজের প্রতিপালিকা মাতা মেরীর প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়। ২০০৯ সালে পালিত হয়েছে ৬০ বছর পূর্তি উৎসব।

লেখাপড়ার পাশাপাশি নটরডেম কলেজে শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রমকেও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। এ কারণে প্রতিবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষায় ভালো ফল অর্জনের পাশাপাশি দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় এ কলেজের ছাত্ররা বরাবরই ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জন করে আসছে।

স্বাধীন বাংলাদেশে নটর ডেম কলেজ উন্নত শিক্ষা ও ছাত্রদের চরিত্র গঠনের কাজ অব্যাহত রাখে এবং পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেশকিছু পরিবর্তন ঘটায়। এ কলেজে একজন শিক্ষাবিষয়ক পরিচালক নিয়োগ এবং একটি সহায়তা ও পরামর্শ বিভাগ খোলা হয়। এ ব্যবস্থা ছাত্রদের সামাজিকভাবে সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করে। বস্তির শিশুদের শিক্ষার জন্য নটর ডেম কলেজের একটি কর্মসূচি রয়েছে। সমাজকল্যাণ বিষয়টিকে এই কলেজে একটি বিশেষ বিষয় হিসেবে দেখা হয় এবং সেইভাবেই শিক্ষা দেওয়া হয়। এখানে ছাত্রদের জন্য উপার্জনমুখী কাজেরও ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে কাজ করে প্রায় ১২৫ জন ছাত্র তাদের লেখাপড়া ও থাকার ব্যয় নির্বাহ করে। নটর ডেম কলেজের নিজস্ব ছোট ক্লিনিক রয়েছে।

ওয়েবসাইট: notredame.ac.bd

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন