পোগোজ স্কুল

প্রকাশ: May 19, 2015
pogoj school

পোগোজ স্কুল (ইংরেজি: Pogose School) বাংলাদেশের প্রাচীনতম বিদ্যালয় গুলোর মধ্যে অন্যতম। এ বিদ্যালয়টি ঢাকা শহরে স্থাপিত দেশের প্রথম বেসরকারী বিদ্যালয়। পোগোজ স্কুলের প্রতিষ্ঠা করেন এন. পি. পোগোজ বা নিকি পোগোজ, যিনি ছিলেন একজন আর্মেনীয় ব্যবসায়ী, জমিদার এবং ঢাকার একজন প্রভাবশালী নাগরিক। তিনি ১৮৪৮ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। পোগোজ স্কুল প্রথম স্থাপিত হয় পোগোজের বাসার নিচতলায় তখন স্কুলটির নাম ছিল পোগোজ অ্যাংলো-ভারনাকুলার স্কুল।১৮৫৫ সালে আরমানিটোলায় জেসি পেনিওটির ভাড়া বাসায় স্কুলটি স্থানান্তরিত করা হয়। তারও পাঁচ বছর পর ১৮৬০ সালে ঢাকার সদরঘাট এলাকার একটি দোতলা ভবনে স্কুলটি স্থানান্তর করা হয় যেখান থেকে বিদ্যালয়টিকে অবশেষে বর্তমান ঠিকানায় চিত্তরঞ্জন এভিনিউতে স্থাপন করা।

১৮৪৮ সালে ঢাকায় একজন আর্মেনীয় ব্যবসায়ী ও জমিদার এন.পি পোগোজ কর্তৃক দেশের প্রথম বেসরকারি স্কুল হিসেবে চালু হয় পোগোজ স্কুল । শুরুতে এই স্কুল পোগোজ-এর বাড়ির নিচতলায় স্থাপিত হয়েছিল এবং ‘পোগোজ অ্যাংলো ভার্নাকুলার স্কুল’ নামে পরিচিত ছিল। সেখান থেকে ১৮৫৫ সালে আর্মানিটোলার জে.পি পানিওতির মালিকানাধীন ভাড়া বাড়িতে এবং আরও পাঁচবছর পর সদরঘাটে একটি দোতলা বাড়িতে স্কুলটি স্থানান্তরিত হয়। সদরঘাটের অবস্থান থেকে অবশেষে স্কুলটি তার বর্তমান ঠিকানা চিত্তরঞ্জন এভিনিউতে স্থানান্তরিত হয়। ১৮৬৭ সালে এই স্কুলে ৫০০ ছাত্র তালিকাভুক্ত ছিল এবং তখন তা বাংলার সবচেয়ে বড় স্কুলের অভিধা অর্জন করে। পোগোজের মৃত্যুর একবছর পর ১৮৭১ সালে মোহিনীমোহন দাস নামের একজন ব্যাংকার ও জমিদার এই স্কুলটির মালিকানা গ্রহণ করেন। ১৮৯৬ সনে মোহিনীমোহন দাসের মৃত্যুর পর তাঁর প্রতিষ্ঠিত এস্টেট স্কুলের স্বত্ব বহাল রাখে। মোহিনীমোহন স্কুলের প্রথম প্রতিষ্ঠাতার প্রতি সম্মান দেখিয়ে এর নামের সঙ্গে নিজের নাম সংযুক্ত করার অনুমতি দেন নি।

১৯০৭ সালে ভারতে স্কুলের স্বত্বাধিকার পদ্ধতি পরিবর্তিত হলে এই স্কুলটি পরিচালনার জন্য একটি ব্যবস্থাপনা কমিটির ওপর দায়িত্ব অর্পিত হয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় পোগোজ স্কুল নানারকম সমস্যায় পড়ে এবং ১৯৫০ সাল নাগাদ প্রায় ভেঙে পড়ার অবস্থা সৃষ্টি হয়। সৌভাগ্যক্রমে, স্কুলটি দ্রুত তার সংকট কাটিয়ে উঠতে সমর্থ হয় এবং সে সময়ের সেরা স্কুলগুলির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সামনে এগুতে থাকে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পোগোজ স্কুলের ছাত্রদের অংশগ্রহণের রেকর্ড রয়েছে।

দায়িত্ব পালনকারী প্রধান শিক্ষকগণ

নম্বর নাম ভারপ্রাপ্তের তারিখ অবসরের তারিখ
মিস্টার এন. পি. পোগোজ জুন, ১৮৪৮ অজানা
মিস্টার সি. পোট ডিসেম্বর, ১৮৫৫ নভেম্বর, ১৮৫৮
মিস্টার হুর কোমার বসু (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডিসেম্বর, ১৮৫৮ অজানা
মিস্টার কাশি কান্তা মুখার্জী জানুয়ারি, ১৮৫৯ ডিসেম্বর, ১৮৬০
মিস্টার হুর কোমার বসু (দায়িত্বপ্রাপ্ত) জানুয়ারি, ১৮৬১ ১২ই ফেব্রুয়ারি, ১৮৬১
মিস্টার দীননাথ সেন ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ১৮৬১ ডিসেম্বর, ১৮৬৪
মিস্টার হুর কোমার বসু (দায়িত্বপ্রাপ্ত) জানুয়ারি, ১৮৬৪ ৪ঠা এপ্রিল, ১৮৬৫
মিস্টার গোপী মোহন ব্যাক ৫ই এপ্রিল, ১৮৬৫ ডিসেম্বর, ১৮৭২
মিস্টার কুমুদ বন্ধু বসু জানুয়ারি, ১৮৭৩ ৭ই ফেব্রুয়ারি, ১৮৭৪
মিস্টার কৈলাস চন্দ্র দত্ত ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ১৮৭৪ ১২ই এপ্রিল, ১৮৭৫
মিস্টার অমর চাঁদ লাহা ১৩ই এপ্রিল, ১৮৭৫ ২৪শে জানুয়ারি, ১৮৭৬
মিস্টার জে. এস. রুশ (অধ্যক্ষ) ২৫শে জানুয়ারি, ১৮৭৬ ২০শে জুলাই, ১৮৭৬
মিস্টার অমর চাঁদ লাহা ২১শে জুলাই, ১৮৭৬ ২০শে জুলাই, ১৮৮২
মিস্টার মহেশ কান্দ্র দত্ত (দায়িত্বপ্রাপ্ত) জানুয়ারি, ১৮৮৩ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৩
১০ মিস্টার বৃন্দাবন চন্দ্র ধর মার্চ, ১৮৮৩ অক্টোবর, ১৯০৬
১১ মিস্টার প্রসন্ন কুমার সেন নভেম্বর, ১৯০৬ ২১শে জানুয়ারি, ১৯৪১
মিস্টার জোগেশ চন্দ্র সেন (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ২২শে জানুয়ারি, ১৯৪১ ১৭ই এপ্রিল, ১৯৪১
১২ মিস্টার মানিন্দ্রা চন্দ্র ভট্টাচার্য্য ১৮ই এপ্রিল, ১৯৪১ জুন, ১৯৬১
মিস্টার জীবন চন্দ্র সাহা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) জুলাই, ১৯৬১ নভেম্বর, ১৯৬১
১৩ মিস্টার ফাজহুল হক ১৯শে নভেম্বর, ১৯৬১ ৪ঠা এপ্রিল, ১৯৭৩
১৪ মিস্টার মোহাম্মেদ ইব্রাহিম খালিল ৯ই এপ্রিল, ১৯৭৩ ১৯শে সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪
মিস্টার জীবন চন্দ্র সাহা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ২৩শে সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ ১৭ই নভেম্বর, ১৯৭৪
১৫ মিস্টার জুলফা মোহাম্মেদ ১৮ই নভেম্বর, ১৯৭৪ ২৭শে জুন, ২০১০
১৬ মিস্টার সৈয়দ জুলফিকার আলাম চৌধুরি ৪ঠা আগস্ট, ২০১০

উল্লেখযোগ্য ছাত্ররা
পোগোজ স্কুলের অনেক ছাত্র বিখ্যাত এবং সফল হয়ে ওঠেছে। তাদের মধ্যে রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ, জহিরুল হক (ডাইরেকটর অব ব্যাংকিং কন্ট্রোল, করাচি), আতাউর রহমান খান, অতি পরিচিত নিশিকান্ত চ্যাটার্জী প্রথম বাঙ্গালী যিনি ডক্টর ডিগ্রী নেন, প্রথম ভারতীয় ডাক্তার অফ সায়েন্স আঘোরনাথ চ্যাটার্জী, ঢাকা কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ ডক্টর পি. কে. রায়, প্রথম ভারতীয় মন্ত্রিসভার সদস্য স্যার কে.জি. গুপ্ত এবং প্রথম পূর্ব বাংলার আইসিএস এবং গিরিশ চন্দ্র সেন যিনি প্রথম কুরআন শরীফ বাংলা অনুবাদ করেন। আরও আছেন কবি শামসুর রাহমান এবং কায়কোবাদ, সম্পাদক কালীপ্রসন্ন ঘোষ এবং কৌতুকাভিনেতা ভানু বন্দোপাধ্যায়, করাচীর ব্যাঙ্কিং কন্ট্রোলের পরিচালক জহিরুল হক এবং আয়ুর্বেদ ঔষধের প্রতিষ্ঠাতা বাবু মাথুরামোহন চক্রবর্তী।

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন