স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

প্রকাশ: May 28, 2015
SSMC logo

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই মেডিকেল কলেজ বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ২.৮ একর (১১,০০০ বর্গ মিটার) জমির উপর বিস্তৃত। বর্তমানে এই মেডিকেল কলেজে ১০০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।হাসপাতালটি ইনডোর এবং আউটডোর ট্রিটমেন্টের পাশাপাশি প্যাথোলজিক্যাল ও ডায়াগনস্টিক সার্ভিস প্রদান করে থাকে। বর্তমানে হাসপাতালটি প্রতিদিন প্রায় ২৫০০ আউটডোর রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে। ১৯৯৯ সাল থেকে হাসপাতালে ৬০০ বেড (২৪০ টা পেয়িং) থাকলেও প্রতিদিন প্রায় ১০০০ জনেরও বেশি ইনডোর রোগী হাসপাতালে অবস্থান করে।

স্যার রবার্ট মিটফোর্ড প্রথম ১৮২০ সালে মিটফোর্ড হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন। স্যার রবার্ট মিটফোর্ড তৎকালীন ঢাকার কালেক্টর ছিলেন এবং দীর্ঘদিন তিনি প্রাদেশিক আপীল বিভাগের বিচারপতি ছিলেন। তার সময়ে ঢাকাতে কলেরা ব্যাপকভাবে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিদিন প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন মারা যেত। মেডিকেল সুবিধা তখন খুবই অপর্যাপ্ত ছিল। স্যার মিটফোর্ড এই অবস্থা দেখে খুবই ব্যথিত হন। তিনি ইংল্যান্ডে মৃত্যুর(১৮৩৬) আগে উইল করে তার প্রচুর সম্পত্তি (তখনকার সময় প্রায় ৮ লক্ষ টাকা) এই অঞ্চলে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠাসহ অন্যান্য নানা উন্নয়ন কর্মের জন্য তৎকালীন বাংলার সরকারকে দান করে দিয়ে যান। কিন্তু পরবর্তীতে তার উত্তরাধিকারীদের জন্য এই উইল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। কিন্তু ১৮৫০ সালে সর্ব্বোচ্চ আদালতের চ্যান্সারি বিভাগের (chancery court) রায় অনুযায়ী বাংলার সরকার মিটফোর্ডের সম্পত্তি থেকে ১ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা লাভ করে। পরবরর্তীতে লর্ড ডালহৌসির উদ্যোগে এই ফান্ড দিয়ে ১৮৫৪ সালে বর্তমান স্থানে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তারও আগে এই স্থানটি ডাচ কুঠি হিসেবে ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত হত। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠায় বেশ কয়েকজন স্থানীয় ধনাঢ্য ব্যক্তিও অর্থসাহায্য প্রদান করেন। তাদের মধ্যে মিসেস সন্তোশ রানী দিন্ময় চৌধুরী, মিঃ রায় গৌর নেতাই সাহা শঙ্খনিধি, মিঃ সন্তোশ রাজা মন্মোথ রায় চৌধুরী এবং বাবু প্রতাপ চন্দ্র দাশ সুপেয় পানি ও স্যুয়ারেজ প্লান্ট স্থাপনের খরচ বহন করেন।

SSMC burigonga

৪ বছর টানা কাজের পর ১৮৫৮ সালের ১লা মে মিটফোর্ড হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। তখন এতে পুরুষদের জন্য দুটি ও মহিলাদের জন্য একটি ওয়ার্ডসহ ৮২টি বেড ছিল। এই হাসপাতালটিই হল ব্রিটিশ শাসিত তৎকালীন পূর্ব বাংলার প্রথম জেনারেল হাসপাতাল। শুরু থেকে এই হাসপাতালটি ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটির একটি বোর্ডের অধীনে ছিল। ঢাকার নবাব খাজা আহসানুল্লাহ ও ভাওয়ালের রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ রায়ের দানে ১৮৮২ সালে হাসপাতালে মহিলাদের জন্য পৃথক একটি ওয়ার্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়। নবাব আহসানুল্লাহ ১৮৮৮-৮৯ সালে একই সাথে ৫০ হাজার টাকা দান করেন একই এলাকায় ”Lady Dufferin Hospital” প্রতিষ্ঠার জন্য। ১৮৮৭ সালে হাসপাতালে একটি ইউরোপিয়ান ওয়ার্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৮৮৯-৯০ সালে ভাগ্যকুলের রাজা শ্রীনাথ রায় ৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তার মায়ের স্মরণে হাসপাতালে একটি চক্ষু ইউনিট প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১৭ সালে এটি প্রথম শ্রেণীর হাসপাতাল হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

এদেশের সবচেয়ে প্রাচীন এবং উপমহাদেশেরও প্রথমদিকের এই ঐতিহ্যবাহী হাসপাতালটি ২০০৮ সালের ১লা মে ১৫০ বছরে পদার্পণ করে। শুরু থেকেই এটি এদেশের মানুষদের বিশেষকরে অসহায়, নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদেরকে চিকিৎসাসেবা প্রদানে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে।

SSMC

তখনকার সময়ে এদেশে মেডিকেল পড়ার জন্য কোন ইন্সটিটিউশন ছিল না। এজন্য মিটফোর্ড হাসপাতালের নিকটেই বর্তমান স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজটি ১৮৭৫ সালের ১৫ই জুন ঢাকা মেডিকেল স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ঢাকা বিভাগের ডিসি W.R. Larmini ১৮৮৭ সালের এপ্রিলে একাডেমিক বিল্ডিং এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ১৮৮৯ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলার গভর্নর Sir Stuart Caulvin এটি উদ্বোধন করেন। প্রায় ১৬ জন স্থানীয় রাজা ও দাতাদের সহায়তায় ১৮৮৯ সালে মেডিকেল স্কুল বিল্ডিংটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

মেডিকেল কলেজটি নিম্নলিখিত ডিপার্টমেন্ট নিয়ে গঠিত : preclinical (anatomy, physiology, biochemistry, pharmacology), paraclinical (pathology, microbiology, forensic medicine, community medicine, pharmacology), clinical medicine (general medicine, psychiatry, neuromedicine, nephrology, cadiology, sexual-skin-and-venereal diseases), pediatrics, surgery (general surgery, orthopedic surgery, pediatric surgery, neurosurgery, cardiothoracic surgery), gynaecology and obstetrics, ophthalmology, otolaryngorhinology, anesthesiology and diagnostic (clinical laboratory, radiology and imaging).

ঠিকানা
মিটফোর্ট, ঢাকা- ১০০০
ফোন- ০২- ৭৩১৯০০২-৬
ফ্যাক্স- ৮৮-০২- ৭৩১৪৭৮৬
ই-মেইল- ssmc@ac.dghs.gov.bd
ওয়েব- www.ssmcbd.com

SSMC Map

ভর্তি যোগ্যতা
এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সর্বমোট জিপিএ ৮.০০ পেতে হয় এবং জীববিজ্ঞানে ৩.৫০ পেতে হয়। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর মেধা তালিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন কোর্সে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়।

ভর্তি প্রক্রিয়া
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ও ডিজি অফিস থেকে ঘোষিত স্থান থেকে ফরম কিনে জমা প্রদান করার পরে নির্ধারিত স্থানে ভর্তি পরীক্ষা হয়। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সেধা তালিকার ভিত্তিতে কোর্সে ভর্তির সুযোগ প্রদান করা হয়।

ক) প্রতিবছর নভেম্বর মাসে ভর্তির ফরম প্রদান শুরু হয়। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই জানানো হয় কোথায় ফরম পাওয়া যায় ও জমা প্রদান করতে হয়।
খ) ভর্তির জন্য কোন কোটা বরাদ্দ থাকে না।
গ) ফলাফল নিউজপেপার, নোটিশ বোর্ড ও ওয়েব সাইটে পাওয়া যায়।
ঘ) ভর্তির জন্য কলেজ অফিসে যোগাযোগ করতে হয়।
ঙ) মেধা তালিকা প্রকাশের ৫-‌১০ দিন পর অপেক্ষমান তালিকা প্রকাশ করা হয়।
ভর্তি বিষয়ক অন্যান্য তথ্য নোটিশের মাধ্যমে জানানো হয়।

কোর্সগুলো
কলেজটিতে এমবিবিএস, বিডিএস এবং পোষ্ট গ্রাজুয়েট এর ২৫ টি কোর্স সহ মোট ২৭ টি কোর্স চালু আছে। কোর্সগুলো নিয়ন্ত্রন করে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়।

লাইব্রেরী
লাইব্রেরীটি নতুন একাডেমিক ভবনের নিচতলায় অবস্থিত। লাইব্রেরী ব্যবহার করার জন্য শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরী কার্ড করতে হয়। এই লাইব্রেরীটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং আধুনিক মানের। এখানে মেডিকেল ও পাবলিক হেলথের যাবতীয় বই রয়েছে।

শিক্ষক
এই মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য ১৫০ জন শিক্ষক রয়েছেন। খন্ডকালীন শিক্ষক রয়েছেন ২০ জন।

হোস্টেল
এই মেডিকেল কলেজের ৭ টি হোস্টেল রয়েছে। ছাত্রদের জন্য মূল হোস্টেল ও আলাউদ্দিন হোস্টেল। ছাত্রীদের জন্য দুটি এবং ইন্টার্নী করা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য দু’টি হল রয়েছে।

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন