বিটিসিএল: টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা

প্রকাশ: May 10, 2015
BTCL-1

বিটিসিএল (বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড) দেশব্যাপী টেলিফোন, ইন্টারনেট, ডাটা ইত্যাদি সেবা দিয়ে থাকি। দেশ পরিচিতিমূলক ডট বিডি ডোমেইন আমরা বিপণন করি। ১৮৫৩ সাল থেকে আমরা টেলিযোগাযোগ সেবা দিয়ে আসছি। সারাদেশে আমাদের প্রায় ৮০০ ডিজিটাল এক্সচেঞ্জ রয়েছে। এছাড়া টেলিফোন ও ইন্টারনেট ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে ও স্যাটেলাইট আর্থ স্টেশন রয়েছে। আছে কপার নেটওয়ার্ক, মাইক্রোয়েভ নেটওয়ার্ক, অপটিকাল ফাইবার নেটওয়ার্ক, এবং সাবমেরিন ক্যাবল ও টেরেস্ট্রিয়াল ক্য্যাবলে সংযুক্তি। বর্তমানে এনজিএন এক্সচেঞ্জ সম্প্রসারণ হচ্ছে। জিপন প্রযুক্তিতে ট্রিপল প্লে (ফাইবার টু হোম, ভয়েস-ভিডিও-ডাটা) চালু হচ্ছে। এলটিই প্রকল্প শুরু হয়েছে।

বিটিসিএল টেলিফোন সংযোগ
মুঠোফোন বা মোবাইল ফোনের সহজলভ্যতার কারণে ল্যান্ডফোনের ব্যবহার অনেক কমে গেছে। তবুও অফিসে এর চাহিদা এখনও রয়ে গেছে। সাশ্রয়ী বিল এবং নেটওয়ার্কের মানের দিক দিয়ে এখনো এগিয়ে রয়েছে ল্যান্ডফোন। ল্যান্ডফোন সংযোগ আগের তুলনায় অনেক সহজ। বিটিসিএল (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড) হওয়ার পর সরকারি টেলিফোন সেবার গতি আরও বেড়েছে। এখন আবেদন ফরম পূরণ করে টাকা জমা দিলে এক দিন থেকে সাত দিনের মধ্যেই ঘরে চলে আসে বিটিসিএল টেলিফোন সংযোগ।

ঠিকানা
বিটিসিএল, তেজগাঁও ভবন, ৩৭/ই, ইস্কাটন গার্ডেন, ঢাকা। ফোন নম্বর ৮৩১৪১৫৫, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ৮৩১১৫০০ এবং ওয়েব সাইট www.btcl.gov.bd

ফরম সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা
ল্যান্ডফোনের সংযোগ পেতে প্রথমেই বিটিসিএলের আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে হবে। বিভাগীয় প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে পাওয়া যায় এই আবেদন পত্র। ইন্টারনেট (www.btcl.gov.bd) থেকেও ফরম সংগ্রহ করা যায়। এটি পূরণ করে জমা দিতে হবে বিটিসিএলের সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী বরাবর। দুজন করে বিভাগীয় প্রকৌশলী আছেন গুলশান, মিরপুর, শেরেবাংলা নগর, নীলক্ষেত, মগবাজার ও খিলগাঁওয়ে। আর উত্তরা, ক্যান্টনমেন্ট, চকবাজার, সায়েদাবাদ ও গেন্ডারিয়া বিভাগে আছেন একজন করে প্রকৌশলী। ফরমের সঙ্গে জমা দিতে হয়
o আবেদনকারীর চার কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
o জাতীয় পরিচয়পত্র/ পাসপোর্ট/ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স/ ড্রাইভিং লাইসেন্স/ কর্মস্থলের পরিচয়পত্র এর ফটোকপি

টাকার পরিমাণ ও জমা দেওয়ার স্থান
নির্ভূলভাবে পূরণকৃত ফরম বিভাগীয় প্রকৌশলী বরাবর জমা দিলে আবেদনকারীকে ডিমান্ড নোটের তিনটি কপি দেওয়া হয়। এই তিনটি কপির তথ্যাদি পূরণ করে ২০০০ টাকা সহ বেসিক ব্যাংকে জমা দিতে হয়। এই দুইহাজার টাকার এক হাজার টাকা সংযোগ ফি ও এক হাজার টাকা জামানত হিসেবে জমা রাখা হয়। ব্যাংক একটি ডিমান্ড নোট রেখে বাকি দুটি ডিমান্ড নোট ফেরত দেয়। চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা সংযোগ ফি এবং ৫০০ টাকা জামানত, সর্বমোট ১,০০০ টাকা প্রদান করতে হয়। এছাড়া অন্যান্য জেলা ও উপজেলায় ৩০০ টাকা সংযোগ ফি এবং ৩০০ টাকা জামানত প্রদান করতে হয়।

সংযোগ প্রক্রিয়া
দুটি ডিমান্ড নোটের একটি আবেদনকারীকে নিজের কাছে রেখে অপরটি বিভাগীয় প্রকৌশলীর দপ্তরে জমা দিতে হয়। জমা দেওয়ার এক থেকে সাত দিনের মধ্যে বাসায় টেলিফোনের সংযোগ দেওয়া হয়।

অভিযোগ
সংযোগ পেতে দেরী হলে বা অন্য কারনে কোন সমস্যা থাকলে মৌখিক বা লিখিত আকারে বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে শুরু করে বিভাগীয় প্রকৌশলীদের কাছে অভিযোগ করা যায় । গ্রাহকদের ভোগান্তির কথা শুনতে এবং তা সমাধান করতে বিটিসিএলের রয়েছে এসএসআই (সার্ভিস অ্যান্ড সিস্টেম ইম্প্রুভমেন্ট) সেবা। এসএসআইয়ের দায়িত্বরত কর্মকর্তার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা যায় সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। তাঁর টেলিফোন নম্বর: ৮৩৬২৫৯৯

বিটিসিএল ডায়ালআপ ইন্টারনেট
যারা বাসায় বেশি পয়সা খরচ করে ইন্টারনেট লাইন রাখতে চান না, কিন্তু ই-মেইল চেক করা বা অন্যান্য ছোটখাটো কাজের জন্য বাসায় ইন্টারনেট লাইন রাখতে চান তাদের জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট হল ডায়ালআপ ইন্টারনেট।

মোটাদাগে দু’ধরনের ডায়ালআপ ইন্টারনেট সেবা দিয়ে থাকে বিটিসিএল। একটি পোস্টপেইড, অন্যটি প্রিমিয়াম। আর এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় মডেমের দামও কম। প্রো লিংক ৬০০ টাকা, টিপি লিংক ৪৫০ টাকা। টেলিফোন লাইনে নয়েজ না থাকলে যে গতি পাওয়া যায় তা সাধারণ ই-মেইল আদান প্রদান এবং বিভিন্ন ফরম পূরণের জন্য যথেষ্ট। তবে অসুবিধা হল যতক্ষণ ইন্টারনেট ব্যবহার করা হবে ততক্ষণ টেলিফোন লাইন ব্যস্ত থাকে। ফলে কোন জরুরি ফোন কল মিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রিমিয়াম ডয়ালআপ ইন্টারনেট
এই সংযোগটি প্রত্যেক গ্রাহকের টেলিফোন লাইনে দেয়াই থাকে, কোন রেজিষ্ট্রেশন করতে হয় না। লোকাল কল রেটে প্রতি মিনিটের বিল দিতে হয়। আসলে আলাদা কোন ইন্টারনেট বিল নেই এখানে। লোকাল কল হিসেবে মাসিক টেলিফোন বিলের সাথে যুক্ত হয়। ডায়ালার ওপেন করে ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড এর ঘরে ‘BTCL’ লিখে 0101234 নম্বরে ডয়াল করতে হয়।

পোস্টপেইড ডায়ালআপ ইন্টারনেট
পোস্টপেইড এর ক্ষেত্রে বেশ কয়েক ধরনের প্যাকেজ আছে। এক্ষেত্রে গ্রাহকের পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ডিমান্ড নোটের ফটোকপি, সর্বশেষ বিলের ফটোকপি, সাক্ষর সম্বলিত চুক্তিনামা সহকারে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। সাত কর্ম দিবসের মধ্যে সংযোগ দেয়া হয়। ঢাকার গ্রাহকদের মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জে আবেদন করতে হয়। www.btcl.net.bd সাইট থেকেও আবেদন ফরম ডাউনলোড করা যায়। যাদের বাসায় সরকারী ফোন রয়েছে তারাও নিজের নামে এধরনের ইন্টারনেট সংযোগ নিতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে অঙ্গীকারনামা দিয়ে জানাতে হয় যে ইন্টারনেট বিল আবেদনকারী প্রদান করবেন। রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন হলে গ্রাহককে একটি ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দেয়া হয়। যেটি ব্যবহার করে 0101111নম্বরে ডায়াল করতে হয়।

সুবিধাসমূহ:
বিনামূল্যে ই-মেইল ঠিকানা: বিনামূল্যে একটি POP3 ই-মেইল ঠিকানা পাওয়া যায়। ফলে পিসিতে আউটলুক এক্সপ্রেসের মত সফটওয়্যার ব্যবহার করে সহজে ই-মেইল আদান প্রদান করা যায়। ইনকামিং সার্ভারের ঠিকানা হচ্ছে pop3.btcl.net.bd এবং আউটগোয়িং সার্ভারের ঠিকানা হচ্ছে smtp.btcl.net.bd
এছাড়া ওয়েববেজড ই-মেইলের সুবিধা তো আছেই। তবে বিটিসিএল প্রতিটি ই-মেইলের জন্য খুব কম মেমরী বরাদ্দ দেয়। তাই ই-মেইল ডাউনলোড করে সাথে সাথেই মুছে ফেলা উত্তম, যাতে পরবর্তী ই-মেইল গ্রহণে কোন অসুবিধা না হয়। যে ব্যবস্থা ই-মেইল ক্লায়েন্ট সফটওয়্যারগুলোয় এমনিতেই করা থাকে।

রোমিং সুবিধা: একবার রেজিষ্ট্রেশন করে গ্রাহক যেকোন ফোন থেকেই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন। তবে গ্রাহক চাইলে কলার আইডি প্রোটেকশন চালু করতে পারে। তখন কেবল একটি নম্বর থেকেই ঐ গ্রাহকের আই ডি ব্যবহার করে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাবে।

বিল তৈরি: গ্রাহক কোন মাসের বিল না পেয়ে থাকলে, সহজেই ওয়েবসাইট থেকে বিল তৈরি করে নিতে পারেন। যাতে কোন স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয় না, কেবল ব্যাংকে গিয়ে জমা দিলেই হল।

বিস্তারিত জানতে দেখুন: www.btcl.net.bd

পোস্টপেইড ডায়ালআপ এর বিভিন্ন প্যাকেজ সমূহ:

নো ইউজ নো পে
রেজিষ্ট্রেশন ফি: নেই
পিক আওয়ার (সকাল ১০ টা থেকে রাত ১২ টা) ৪০ পয়সা (প্রতি মিনিট)
অফ পিক আওয়ার ২০ পয়সা (প্রতি মিনিট)

আনলিমিটেড প্যাকেজ
রেজিষ্ট্রেশন ফি নেই
মাসিক চার্জ ৭০০ টাকা

অন্যান্য আনলিমিটেড প্যাকেজ
প্যাকেজের নাম রেজিষ্ট্রেশন ফি ব্যবহার সময় মাসিক চার্জ
এডুকেয়ার (স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসার জন্য) ১০০ টাকা
৮.০০-১৮.০০
৪০০ টাকা

অফিস মেট
(দাপ্তরিক গ্রাহকদের জন্য) ৩০০ টাকা ৮.০০-১৯.০০
৮০০ টাকা

অফিস প্যাক কর্পোরেট গ্রাহকদের জন্য (৫০ বা তার অধিক সংযোগের জন্য) ১০০ টাকা ৮.০০-২০.০০
৭০০ টাকা

অন্যান্য চার্জ সমূহ
কাজের ধরন মাশুল
কনফিগারেশন (ঐচ্ছিক) ২০০ টাকা
অতিরিক্ত ই-মেইল আইডি
(সর্বোচ্চ ৩ টি) প্রতিটির জন্য ৩০০ টাকা (৩ বছরের জন্য) আইডি পরিবর্তন ২০০ টাকা প্রতিবার সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের পর চালু করা ১০০ টাকা (২ মাস থেকে এক বছরের) মধ্যে
রেগুলার থেকে আনলিমিটেড প্যাকেজে যাওয়া বা বিপরীতক্রমে ৩০০ টাকা

সরকারী সংযোগকে ব্যক্তিগত সংযোগে রুপান্তরিত করা ১০০ টাকা

১৫% ভ্যাট প্রযোজ্য

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন