ঢাকার সন্তান ‘টোকাই’য়ের স্রষ্টা রফিকুন নবী

প্রকাশ: May 18, 2015
RNobi

পূর্ণনাম: মোঃ রফিকুন নবী
জন্ম: ২৮ নভেম্বর, ১৯৪৩
জন্মস্থান: চাঁপাই নওয়াবগঞ্জ
পৈতৃক নিবাস: ছত্রাজিতপুর, শিবগঞ্জ
বাবা: রশীদুন নবী
মা: আনোয়ারা বেগম
স্ত্রী: নাজমা বেগম
পুত্র-কন্যা: দুই ছেলে, এক মেয়ে।

রফিকুন নবী (উপনাম রনবী) (জন্ম: ২৮ নভেম্বর, ১৯৪৩ ) বাংলাদেশের খ্যাতনামা চিত্রকর, কার্টুনিস্ট। ‘টোকাই’ নামক কার্টুন চরিত্রটি তার অনবদ্য সৃষ্টি। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ‘টোকাই’ কার্টুন স্ট্রিপ হিসেবে সাপ্তাহিক বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়ে আসছে।

পুলিশ অফিসার বাবার বদলির চাকুরির সুবাদে রফিকুন নবীর বাল্য ও কৈশোরকাল কেটেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়৷ পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝিতে ঢাকায় স্থায়ী হন তাঁরা। পুরান ঢাকাতেই কৈশোর ও যৌবনের অনেকটা সময় কাটে রফিকুন নবীর৷ ১৯৫০-এর মাঝামাঝিতে স্কুলে ভর্তি হন তিনি৷ এই দশকের মাঝামাঝিতে স্কুলপড়ুয়া রফিকুন নবী হাতে পান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত মাসিক রম্য-ম্যাগাজিন ‘ম্যাড’। ম্যাগাজিনের কার্টুনগুলি তার নজর কাড়ে। একই সময়ে কিছু ভারতীয় পত্রিকার চিত্রাঙ্কন দেখেও মুগ্ধ হন তিনি। মাসিক ম্যাগাজিন আর পত্রিকা-এই দুয়ের মাধ্যমেই কার্টুনের সাথে প্রথম পরিচয় হয় তার। সেগুলি সম্পর্কে জানার আগ্রহটা বেড়ে চলল দিনে দিনে। শুরু হল সেগুলি সংগ্রহ করা। দশম শ্রেণীর ছাত্র থাকা অবস্থায় জীবনের প্রথম কার্টুনটি আঁকেন তিনি। কার্টুনটি ছিল ভিক্ষুকদের উপরে। বিষয় দারিদ্র্য। লক্ষ্য ছিল ভিক্ষুকদের ব্যবহার করে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের অবস্থানটা তুলে ধরা। জীবনের প্রথম আঁকা সে কার্টুনটি কোথাও প্রকাশিত না হলেও আগ্রহ কমেনি এতটুকু।

পুরান ঢাকার পোগোজ হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৫৯ সালে ঢাকার সরকারি আর্ট কলেজে ভর্তি হন তিনি৷ এখানে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, কামরুল হাসানসহ খ্যাতিমান দিকপালের সান্নিধ্যে থেকে পড়াশোনা করেন৷ আর্ট কলেজে প্রথম বর্ষে থাকতে নিজের আঁকা ছবি প্রথম বিক্রি করেন ১৫ টাকায়৷ স্থানীয় সংবাদপত্রে রেখাচিত্র এঁকে এবং বুক কভার ইলাস্ট্রেশন করে পরিচিতি লাভ করেন দ্বিতীয় বর্ষেই৷ ১৯৬২ সালে এশিয়া ফাউন্ডেশনের বৃত্তি লাভ করেন তিনি৷ ‘৬৪ সালে স্নাতক পাশ করেন৷

পড়াশোনা শেষ করে রফিকুন নবী সে সময়ে ঢাকার প্রথম সারির পত্রিকাগুলিতে নিয়মিত কাজ শুরু করেন। নিয়মিত কার্টুন আঁকতেন সাপ্তাহিক পূর্বদেশ পত্রিকায় কবি আবদুল গনি হাজারির কলাম কাল পেঁচার ডায়েরীতে৷ কার্টুনের প্রতি আগ্রহটা আরও বেশি জোরাল হয় ষাটের দশকের মাঝামাঝিতে, বিভিন্ন যুব সংগঠন, বিশেষ করে ছাত্র ইউনিয়নের কার্টুন পোস্টার আঁকার আহ্বানে। তত্কারলীন সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে পোস্টার আঁকার অনুরোধ করত তারা। তখন সদ্য পড়াশোনা শেষ করে ঢাকা আর্ট কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেছেন রফিকুন নবী। ২১শে ফেব্রুয়ারি উদযাপনে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিশাল আকারের ব্যানারে কার্টুন আঁকেন। গণজমায়েতে ব্যবহৃত হত তাঁর আঁকা এইসব অসংখ্য কার্টুন ব্যানার। কিন্তু সরকারি চাকুরে হওয়ায় ঐসব কার্টুনে নিজের প্রকৃত নাম স্বাক্ষর করা ছিল অসম্ভব। আবার একেবারে আলাদা কোন নামও নিজের কাছেই কেমন অস্বস্তি লাগছিল। তাই সেই পোস্টারগুলিতে নিজের প্রকৃত নামটিকেই সংক্ষিপ্ত করে তিনি লিখলেন ‘রনবী’।

১৯৬৯ সালের গনআন্দোলনে মুখর রাজপথে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে মিছিলগুলির প্রথম সারিতে থাকত পথের শিশুরা। পরিচয়হীন, অতি দরিদ্র আট-দশ বছরের এই পথ-শিশুরা হরতালে গাড়ির চাকার হাওয়া ছাড়ত, ২১শে ফেব্রুয়ারি এলে ইংরেজি-আরবিতে লেখা সাইনবোর্ড ভাঙত। তাদের গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন রফিকুন নবী। একই সময়ে তাঁর বাসার পাশেই দেখেন এরকম আরেকটি শিশু। পাড়ার লোকদের তামাশার প্রশ্নগুলিতে নির্ভেজাল, বুদ্ধিদীপ্ত ও মজার উত্তর দিত সে। তখনই রফিকুন নবী প্রথম ভাবেন টোকাইয়ের কথা। মোক্কা নামের ঐ শিশুটিকেই তাঁর কল্পনার টোকাইয়ের মডেল করেন। একদিন ছেলেটিকে হারিয়ে ফেলেন রফিকুন নবী। কিন্তু তার আবয়ব রনবীর মনে রয়ে গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে ‘টোকাই’য়ে রূপ পায়।

১৯৭১এ শুরু হলো যুদ্ধ। ২৫ মার্চের কালরাত্রির হত্যাযজ্ঞের পর ২৭ মার্চ কার্ফিউ উঠলে রফিকুন নবী দেখেন গুলিস্তানের উল্টোদিকের দেয়ালের অপর পারে রাখা অসংখ্য লাশ। পাশের রেললাইনের বস্তিবাসীদের লাশ। কিন্তু তাদের মধ্যে শিশুদের লাশই বেশি চোখে পড়ছিল তার। রফিকুন নবী যুদ্ধে যেতে চাইলেও গেরিলা বন্ধুদের পরামর্শে যুদ্ধে না গিয়ে রয়ে যান ঢাকায়। ঢাকায় থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অর্থ, কাপড় ও খাদ্য সংগ্রহ করা শুরু করেন তিনি। পুরান ঢাকার নারিন্দায় তার বাসাটিতে চলত গোপন মিটিংগুলি। বাংলাদেশ জন্মের পর তিনি আবার মনোনিবেশ করেন শিক্ষকতায়। একইসাথে আঁকার জগতে। বছরখানেক পরে শিক্ষকদের জন্য একটি বৃত্তি এলো গ্রীসে গিয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করার। সকলেই ধরে নিয়েছিলেন বৃত্তিটা এসেছে রফিকুন নবীর জন্যই। যদিও তিনি আবেদনও করেননি। ততোদিনে ১৯৭২-এ সংসার শুরু করেছেন তিনি। সদ্য পিতা হয়েছেন। কিছুতেই চাচ্ছিলেন না বৃত্তিটা গ্রহণ করতে। তবুও পরিবার এবং সহকর্মীদের পরামর্শে রফিকুন নবী পাড়ি জমালেন গ্রীসে। ১৯৭৩ সালে গ্রীক সরকারের পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন বৃত্তি নিয়ে তিনি ভর্তি হলেন গ্রীসের এথেন্স স্কুল অব ফাইন আর্ট-এ। পড়াশোনা করলেন প্রিন্ট মেকিং-এর ওপর। গ্রীসের মানুষ তখন সাইপ্রাসের দখল নিতে তুরস্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তিন বছর কাটল হোমার, সক্রেটিস ও সফোক্লিসের দেশ গ্রীসে। ১৯৭৬ সালে দেশে ফিরে আসেন তিনি। শিক্ষক থেকে ধীরে ধীরে প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপকের পদে অধিষ্ঠিত হন। পরে চারুকলা ইন্সটিটিউটের পরিচালক হন। ২০০৮ সালে নিযুক্ত হন নবগঠিত চারুকলা অনুষদের ডীন।

এরপর ‘৭৬-এ বিদেশ থেকে ফিরে একদিন বিকেলে বাসার সামনের মাঠে ছেঁড়া একটা বস্তা ঘাড়ে আট-ন’ বছরের একটা ছেলেকে দেখে চমকে ওঠেন রনবী। যেন ৭ বছর আগের সেই পেটমোটা ছেলেটিই আবার ফিরে এসেছে। সেদিনই ছেলেটির সঙ্গে সখ্যতা জমিয়ে নিলে প্রায় প্রতিদিনই তার কাছে আসা-যাওয়া করতে থাকে ছেলেটি। তাকে দেখলেই যেচে কথা বলতেন রনবী। আর নির্ভয়ে, নিঃসংকোচে মজার মজার কথা বলত ছেলেটি। তখনই তার মনে ৬৯এর সেই ভাবনা চূড়ান্ত রূপ পায়। প্রথম ভাবনার দীর্ঘ ৮ বছর পর রনবীর আঁকার জগতে জন্ম নিল নতুন এক অধ্যায়- ‘টোকাই’। ‘৭৮-এ শুরু করা কার্টুনে রনবী টোকাইয়ের বয়স রেখেছিলেন আট। শিল্পী রফিকুন নবীর কল্পনায় ‘৭১-এ বেঁচে যাওয়া পিতৃমাতৃপরিচয়হীন পথের শিশুই ‘টোকাই’।

Tokai

মূলত টোকাই চরিত্রটি বাস্তবের এমন কিছু পথশিশুর প্রতিনিধিত্ব করে, যারা, মানুষের ফেলে দেয়া আবর্জনা কুড়িয়ে নিয়ে যায়। টোকাইয়ের মাথায় প্রায় টাক, কখনও কয়েকটি চুল, তালিযুক্ত খাটো চেক লুঙ্গি মোটা পেটে বাঁধা৷ কখনো কাঁধে বস্তা৷ ‘৭৮-‘৭৯-এ ভোটের সময় বিলি করা জামা পরেছিল টোকাই, সেই জামাটি ছিল ওর থেকে অনেক বড় আকারের৷ টোকাই থাকে রাস্তার ডাস্টবিনের পাশে, ফুটপাতে, ফেলে রাখা কংক্রিটের তৈরি সুয়ারেজের পাইপের ভেতর, পার্কের বেঞ্চিতে, ভাঙা দেয়ালের পাশে, কাঠের গুঁড়িতে, ঠেলা গাড়ির ওপরে, ইটের ওপর মাথা পেতে৷ তার পাশে থাকে কুকুর, কাক৷ কথা বলে কাক, গরু, ছাগল, মশার সাথে৷ কথা বলে মানুষের সাথেও৷ তার কথা মূলত বিদ্রুপাত্মক, পাশাপাশি বুদ্ধিদীপ্ত ও বিচক্ষণতায় ভরা৷ পেন অ্যান্ড ইঙ্কের পরে টোকাই একসময় হাজির হয়েছে জলরঙের উচ্ছলতায়৷ সেখানে সে কখনও মনের আনন্দে মার্বেল গুটি দিয়ে খেলে, নৌকা চালায়, বাঁশি বাজায়, বেহালা বাজায়, কখনও রাস্তার বুকে উবু হয়ে লিখতে শুরু করে, কখনও আনন্দে দেয় ছুট৷ কখনও একা বসে থাকে, আবার কখনও পাঁচিলের উপরে উঠে পাশের দেয়ালের অপর দিকে উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করে, রাজকীয় বাড়ির দরজায় হাজির হয় কাঁধে বস্তা নিয়ে৷ রনবীর টোকাই এভাবে সমাজ-সংসারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে প্রতিনিয়ত৷

Tokai 1

১৯৭৮ সালের ১৭ মে টোকাই শিরোনামে প্রথম স্ট্রিপ কার্টুনটি ছাপা হয় বিচিত্রার প্রারম্ভিক সংখ্যায়। প্রথম কার্টুনে টোকাই একজন বড় কর্মকর্তা৷ বসে আছে তার বানানো অফিসে৷ রাস্তার ইট দিয়ে তৈরি একটি টেবিলে৷ প্রথম কার্টুনেই বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া টোকাই নিয়মিত বিচিত্রায় ছাপা হয়৷ ২০০০ সাল থেকে সাপ্তাহিক ২০০০-এ শুরু হয় আঁকা হলেও ২০০৪ সালের দিকে নিয়মিত টোকাই আঁকা বন্ধ করেন তিনি।

Tokai 11

রোম, ফ্লোরেন্স, প্যারিস, লণ্ডন, কায়রো গিয়ে বিখ্যাত শিল্পীদের প্রকৃত কাজগুলি নিজের চোখে দেখেছেন রফিকুন নবী। দেশেও চষে বেড়িয়েছেন এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। নিসর্গকে প্রত্যক্ষ করেছেন নিবিড়ভাবে। দেশ বিদেশের এইসব অভিজ্ঞতাকে সঙ্গী করে মনোনিবেশ করেন ছবি আঁকার জগতে। ছবি আঁকার ক্ষেত্রে বিষয়-বৈচিত্র্যের এক দীর্ঘ পথে বিচরণ করেছেন শিল্পী। অনেকদিন মজেছিলেন ছাপাই ছবির জগত নিয়ে। দীর্ঘ একযুগ পরে নতুন সৃষ্টির মানসে বাসা বাঁধলেন অন্য জগতে। ঋতুর বৈচিত্র্যে বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির অস্পৃশ্য সৌন্দর্যকে পটে ধরবার জন্য নিসর্গের মায়ায় হারালেন শিল্পী রফিকুন নবী। হাতে নিলেন জলরঙের তুলি। বিষয় বাছাই, রং ব্যবহার, আলোর বিন্যাস, একটা বিশেষ আলোকে বিশেষ স্থানে ব্যবহার ইত্যাদির সমন্বয়ে তিনি ছবিতে জন্ম দেন নাটকীয়তার। জলরঙকেই সবচেয়ে ভাল মাধ্যম মনে করেছেন তিনি। ছাত্র জীবনে শুধু সমুদ্র নিয়ে বহু কাজ করেছেন জলরঙে। সকালের সমুদ্র, দুপুরের সমুদ্র, বিকেলের সমুদ্র – সবই আলাদা রং নিয়ে ধরা দিয়েছে শিল্পীর চোখে, আর তাঁর আঁকা ছবিতে। কাজ করেছেন কক্সবাজার, টেকনাফের সমুদ্রে, ঢাকায়, রাজশাহীতে, চাঁপাই নওয়াবগঞ্জের সাঁওতাল এলাকায়। বুড়িগঙ্গার ওপারে, জুরাইন এলাকায় বেশির ভাগ ছবি এঁকেছেন। ড্রাই কাজ করেছেন পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্রের চরে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ ফাইন আর্টস-এর ড্রইঙ ও পেইন্টিং বিভাগে প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৮৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন এই ইন্সটিটিউটের পরিচালক। বর্তমানে ফ্রিল্যান্স আর্টিস্ট হিসাবে কাজ করছেন।

কলেজ জীবন থেকেই রফিকুন নবীর আঁকা ছবি স্থান করে নেয় বিভিন্ন প্রদর্শনীতে। ১৯৬০ থেকে ‘৬৪ পর্যন্ত ঢাকার কলেজ অফ আর্টস অ্যান্ড ক্রাফ্ট-এর বার্ষিক প্রদর্শনীতে, ‘৭৬-এ এথেন্সে। টোকাইয়ের ২৫ বছর পূর্তিতে গ্যালারী চিত্রকে একক প্রদর্শনী হয় ২০০৪ সালে। ২০০০-এ চারুকলা ইন্সটিটিউটের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অংশগ্রহণ করেন জয়নুল গ্যালারির যৌথ প্রদর্শনীতে। দেশের বাইরে ভারত, গ্রীস, যুগোস্লাভিয়া, জার্মানি, মালয়েশিয়া, পোল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, রুমানিয়া, ইরান, চীন, জাপান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েনা, বুলগেরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ইত্যাদি দেশে তাঁর ছবির প্রদর্শনী হয়। এছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী আয়োজিত সব জাতীয় প্রদর্শনী ও সব দ্বিবার্ষিক এশিয়ান প্রদর্শনীতে তিনি অংশগ্রহণ করেন। দেশের জাতীয় আর্ট গ্যালারী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর, বঙ্গভবন, সংসদ ভবন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি সংগ্রহশালা ইত্যাদি স্থানে তাঁর চিত্রকর্ম সংরক্ষিত আছে। এছাড়া জর্ডানের রয়্যাল মিউজিয়ামে, গ্রীসের এথেন্সে, যুগোস্লাভিয়া এবং জাপানেও রয়েছে তাঁর চিত্রকর্মের সংগ্রহ।

রফিকুন নবী পেয়েছেন একুশে পদক , চারুকলায় জাতীয় সম্মাননা শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার, বুক-কভার ডিজাইনের জন্য ১৩ বার ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার৷২০০৮ সালে তাঁর আঁকা খরা শীর্ষক ছবির জন্য ৮০টি দেশের ৩০০ জন চিত্রশিল্পীর মধ্যে ‘এক্সিলেন্ট আর্টিস্টস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে মনোনীত হন৷

Ronobi auto

শিল্পী রফিকুন নবীর ছবিটি আলোকচিত্রী ইমরান উজ-জামানের তোলা, যা ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন