মাইলসের পথ চলা

প্রকাশ: July 11, 2015
miles

ফরিদ, হ্যাপি আখন্দ, কমল, মুসা, ল্যারি, ইশতিয়াক ও রবিন কে নিয়ে ১৯৭৯ সালে গড়ে উঠে ব্যান্ড দল ‘মাইলস’। ঐ সালেই কিছু সদস্য ব্যান্ড ছেড়ে গেলে হামিন আহমেদ ও শাফিন আহমেদ মাইলস-এ জয়েন করেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশন এ মাইলস হিসেবে তাদের প্রথম অংশগ্রহণ ১৯৮২ সালে। ১৯৮২ এবং ১৯৮৬ তে ‘Miles’ এবং ‘A Step Farther’ নামে দুটি ইংলিশ অ্যালবাম প্রকাশ করে। ‘Miles’ শিরোনামের অ্যালবামটি তিনটি মৌলিক গানসহ সাতটি কাভার সং এবং ‘A Step Farther’ অ্যালবামে থাকে সাতটি মৌলিক গান ও তিনটি কাভার সং। এরই মাঝে হ্যাপি আখন্দ ব্যান্ড ছেড়ে চলে গেলে ১৯৮২ সালে কীবোর্ডিস্ট ও ব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে জয়েন করেন কীবোর্ড বাদক ও সুরকার মানাম আহমেদ। ঐ বছরই মাইলস শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে ১৫০০ সংগীত পিপাসু দর্শকের সামনে তাদের প্রথম সরাসরি কনসার্ট অনুষ্ঠিত করে।
১৯৮৭ সালে মাহবুব রশীদ মাইলসের ড্রামার হিসেব জয়েন করেন। বিভিন্ন রদবদলের মধ্য দিয়ে ১৯৯১ সালে হামিন, শাফিন, মানাম ও মিল্টন(On Drums)কে নিয়ে বাংলা ব্যান্ড মিউজিকে অনবদ্য সঙ্গীত রচনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বের হয় মাইলসের প্রথম বাংলা অ্যালবাম ‘প্রতিশ্রুতি’। প্রথম বাংলা অ্যালবামেই সঙ্গীত শ্রোতা হৃদয়ে আসন গেড়ে নেয় ব্যান্ড ‘চাঁদ তারা সূর্য’, ‘সে কোন দরদিয়া’, ‘প্রথম প্রেমের মত’, ‘ঘরে লইয়্যা যাও’, ‘পাতা ঝরে যায়’, ‘এ মনতো আর মানে না’ কিংবা ‘গুঞ্জন শুনি’ এই গানগুলো আজও নতুন গানের মতোই সবার মুখে মুখে ফেরে।

১৯৯৩ সালে মাইলস প্রকাশ করে তাদের দ্বিতীয় বাংলা অ্যালবাম ‘প্রত্যাশা’। অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়ে ‘প্রত্যাশা’ অ্যালবামটি হয়ে উঠে সর্বাধিক জনপ্রিয় অ্যালবাম। ভিন্ন মাত্রার কথা, সুর ও সঙ্গীতায়োজনে খুব সহজেই শ্রোতাদের ভাললাগার শীর্ষ তালিকায় স্থান করে নেয় এই অ্যালবামটি। মাইলসের সর্বাধিক জনপ্রিয় গানগুলোও এই অ্যালবামেরই। অ্যালবামটি বের হওয়ার কয়েক মাসের ভেতরেই তিন লক্ষ কপি বিক্রি হয়। “প্রত্যাশা” এখনও বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মিউজিক অ্যালবাম।

মাইলস ১৯৯৪ সালে প্রথম বাংলাদেশে সিডি বের করে, ডিস্কো রেকর্ডিং (Disco Recording) নামে লস অ্যাঞ্জেলেস (Los Angeles) এর একটি রেকর্ডিং কম্পানি মাইলস এর প্রথম সিডি অ্যালবাম বেস্ট অব মাইলস বের করে। ঐ সময়টাতে ভারতসহ দেশ-বিদেশের প্রচুর কনসার্টে অংশগ্রহণ করে মাইলস। ১৯৯৬ সালে ‘প্রতিশ্রুতি’ এবং ‘প্রত্যাশা’র ব্যাপক সফলতার পরে মাইলস তাদের ব্যান্ডের পঞ্চম ও বাংলা তৃতীয় অ্যালবাম ‘প্রত্যয়’ তুলে দেয় শ্রোতাদের হাতে। এই অ্যালবামটির জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে ‘জ্বালা জ্বালা’, ‘তুমি নাই’, ‘এ সময়’, ‘ফ্রাসট্রেশান’, ‘এইতো সেদিন’ ও ‘ভুলবোনা তোমাকে’ উল্লেখযোগ্য।
‘প্রত্যয়’ অ্যালবাম প্রকাশের মধ্য দিয়ে ড্রামার মাহবুব রশীদ ব্যান্ড ছেড়ে চলে গেলে সেই বছরই মাইলসের ড্রামার হিসেবে জয়েন করেন জিয়াউর রহমান তূর্য।
১৯৯৬ মাইলসই প্রথম বাংলাদেশী ব্যান্ড ছিল, যারা প্রথম ইউএস ও ক্যানাডায় সফরে যায়। দলটির ইতিহাসে অন্যতম কনসার্ট হয়েছিল ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে, যেখানে সাংবাদিক সহ প্রায় ৬০,০০০ দর্শক হয়েছিল। এই কনসার্টটি আয়োজিত হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড এর তত্ত্বাবধানে, এবং স্পন্সর ছিল পেপসি । ২০০১ সালে মাইলস নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে কনসার্ট এর জন্য আমন্ত্রিত হয়। ঐ কনসার্টে আরও ছিল জুনুন এবং সিল্ক রুটিন ব্যান্ড। মাইলস তাদের সাথে সেই প্রথম বারের মত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিল। তারা ৩৫০ এরও বেশি কনসার্ট করেছে, এবং অনেক চ্যারিটি শো করেছে। ১৯৯৭ সালের দিকে তারা নিউ ইয়র্ক, ডালাস, ওকলাহোমা, শিকাগো, এবং ফ্লোরিডাতে কনসার্ট করে।

বিবিসি মাইলসের একাধিক সাক্ষাৎকার নেয়। এবং তাদের একাধিক সংগীত পরিবেশন করে। লন্ডনের বাংলা সংবাদপত্র জনমত পত্রিকায় মাইলসের সাক্ষাতকার নেওয়া হয়। ১৯৯৮ সালে মাইলস আবার কলকাতায় কনসার্ট করে। তারা কিছু সংখ্যক মিউজিক ভিডিও বের করে, যা এমটিভি সহ আরও কিছু চ্যানেল এ প্রকাশিত হয়েছে। তাদের “মাইলস(ভলিউম ১)” “বেস্ট অব মাইলস (ভলিউম ২) বের হওয়ার পর তারা বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়ার নতুন প্রজন্মের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের গান ইন্ডিয়ান এফএম রেডিওতে বাজানো হত।

মাইলসের বর্তমান সদস্য শাফিন আহমেদ (বেজ গিটার, কন্ঠ), হামিন আহমেদ (গিটার,কন্ঠ), মানাম আহমেদ (কি-বোর্ড), ইকবাল আসিফ জুয়েল(গিটার) এবং সৈয়দ জিয়াউর রহমান তূর্য(ড্রামস)।

মাইলসের প্রাক্তন সদস্য ছিলেন হ্যাপি আখন্দ (কীবোর্ড, কন্ঠ), রবিন (কীবোর্ড, কন্ঠ), ফরিদ রশিদ (বেজ গিটার, কন্ঠ), ল্যারি বাম্বি (গিটার), ইস্তিয়াক (গিটার), কামাল মাইনুদ্দিন (ড্রামস), কাইয়ুম (বেজ গিটার), মিল্টন (ড্রামস), শহিদুল হুদা (ড্রামস) এবং মাহবুব রশিদ (ড্রামস)।

You must be logged in to post a comment Login