ঢাকার দুই সিটির বাজেটের আকার ৩৭৩৫ কোটি টাকা

প্রকাশ: July 29, 2015
DNCC DSCC

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের বাজেট ঘোষণা নিয়ে ২৯ জুলাই ২০১৫ তারিখে যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত এই খবরটি আমরা ঢাকার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট চূড়ান্ত করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এবারের বাজেটের আকার নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) বাজেটের আকার নির্ধারণ করেছে প্রায় ২ হাজার ৮৫ কোটি টাকা। ডিএনসিসি আজ উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে এবং ডিএসসিসি আগামীকাল ফুলবাড়ীয়ার নগর ভবন মিলনায়তনে বাজেট ঘোষণা করবে। দুই সিটি কর্পোরেশনের বিশ্বস্ত সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এবারের বাজেটে নতুন করে কোনো ট্যাক্স বাড়ানো হচ্ছে না। তবে সরকার থেকে নির্ধারণ করে দেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স কার্যকর করবে দুই সিটি কর্পোরেশন। সরকারের নির্ধারিত হোল্ডিং ট্যাক্স কার্যকর করলে রাজধানীবাসীর ট্যাক্স বৃদ্ধি পাবে।

ডিএনসিসির আয় : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। নিজস্ব আয়, দাতা সংস্থার ঋণ, সরকারি থোক বরাদ্দ মিলিয়ে আয়ের এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। হোল্ডিং ট্যাক্সসহ ডিএনসিসির নিজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০০ কোটি টাকার কিছু বেশি, সরকারি থোক বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ৬০০ কোটি টাকা এবং প্রকল্প থেকে বাদ বাকি আয়ের টার্গেট করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কেইস প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানীর ফুটপাত, ফুটওভার ব্রিজ এবং ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি স্থাপন, কুয়েত সরকারের অনুদানে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক-ফুটপাত-ড্রেনেজ সংস্কারসহ আরও কিছু উন্নয়ন প্রকল্প থেকে এ পরিমাণ অর্থ পাওয়ার টার্গেট ধরা হয়েছে।

রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে হোল্ডিং কর, বাজার সালামি, বাজার ভাড়া, রিকশার লাইসেন্স, অকট্রয়, সম্পত্তি হস্তান্তর কর, ট্রেড লাইসেন্স ও প্রমোদকর- এ ৮টি খাত থেকে ৭৩৪ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিজ্ঞাপন কর, বাস-ট্রাক টার্মিনাল, গরুর হাট, সম্পত্তি ইজারা, পুরনো মালামাল বিক্রি, জবাইখানার ইজারা, রাস্তা খনন ফি, ঠিকাদারের তালিকাভুক্তি, যন্ত্রপাতি ভাড়া, শিডিউল ফরম বিক্রি, কমিউনিটি সেন্টারের ভাড়া, কবরস্থান ও শ্মশানঘাট- এ ১৬টি খাত থেকে ট্যাক্স বাবদ বছরে প্রায় ৭০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ডিএনসিসি।

ডিএনসিসির ব্যয় : ডিএনসিসির বাজেটের ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার মধ্যে রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা। আর উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ৫০ কোটি টাকার সঞ্চয় করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। সংশোধিত বাজেটে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটের ২ হাজার কোটি টাকার আকার কমে দাঁড়িয়েছে ৮০০ কোটি টাকা। সংশোধীত উন্নয়ন ব্যয় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। রাজস্ব ব্যয়ের মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক বেতন-ভাতা, গাড়ির জ্বালানি, অফিস খরচ, আপ্যায়ন, জনসচেতনতামূলক প্রচারণাসহ রুটিন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ ব্যাপারে বাজেটে মশক নিয়ন্ত্রণে ১৫ কোটি টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে ২০ কোটি টাকা, আন্ডারপাস নির্মাণে ১০ কোটি টাকা, পার্ক উন্নয়নে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, নগর ভবন নির্মাণে ৩০ কোটি টাকা, জবাইখানা নির্মাণে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অন্যান্য উন্নয়ন ব্যয়ের খাতের মধ্যে রয়েছে- রাজধানীর সড়ক-ফুটপাত-ড্রেন সংস্কারের একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন, দেশের সর্ববৃহৎ রায়ের বাজার কবরস্থান প্রকল্পের অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করা, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত সংযোগ সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়ন, কেইস প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানীর ফুটপাত সংস্কার করে আধুনিকমানের ফুটপাত তৈরি, ফুটওভার ব্রিজ তৈরি এবং সিগন্যাল বাতি স্থাপন প্রকল্প।

ডিএসসিসির আয় : ডিএসসিসির ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৮৫ কোটি টাকা। নিজস্ব উৎস থেকে আয়ের
লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৬৩২ কোটি ৯ লাখ টাকা। অপ্রয়োজনীয়, ব্যবহার অযোগ্য মালামাল বিক্রয়, স্থায়ী আমানতের সুদ, বিলুপ্ত সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রাপ্ত অর্থসহ এ খাতগুলো থেকে ১৫ কোটি ২২ লাখ টাকা, সরকারি অনুদান থেকে ৩২৭ কোটি, সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প এবং সরকারি ও বৈদেশিক অংশীদারিত্ব (পিপিপি)-ভিত্তিক প্রকল্প থেকে ১ হাজার ৬০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা প্রাপ্তির টার্গেট ধরা হয়েছে। এ ছাড়া বাজেটে প্রারম্ভিক স্থিতি দেখানো হয়েছে ৫০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

ডিএসসিসির ব্যয় : ডিএসসিসি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটের ২ হাজার ৮৫ কোটি টাকার মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, পারিশ্রমিক ও ভাতা বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৮০ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পানি ও গ্যাস বিল বাবদ ৬৪ কোটি টাকা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ৬৪ কোটি টাকা, মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাবদ ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, সরবরাহ বাবদ ৩১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা বাবদ ৭ কোটি ৫০ লাখসহ মোট রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫৪ কোটি টাকা। নিজস্ব অর্থ ও সরকারি অনুদান থেকে উন্নয়নে ব্যয় করা হবে ৫৭৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প এবং সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি)-ভিত্তিক প্রকল্পে ১ হাজার ৬০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সমাপনী স্থিতি রাখা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ১ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকার বাজেটের আকার সংশোধিত বাজেটে কমে দাঁড়িয়েছে ৬৪২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

সূত্র: যুগান্তর

You must be logged in to post a comment Login