ঢাকা উত্তরের বাজেট ঘোষণা: পাঁচ বছরে ৯০ ভাগ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস আনিসুলের

প্রকাশ: July 30, 2015
Annisul Huq

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বাজেট ঘোষণা নিয়ে ৩০ জুলাই ২০১৫ তারিখে সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত খবরটি আমরা ঢাকার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য ১ হাজার ৬০১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। গতকাল বুধবার উত্তরায় ডিএনসিসির কমিউনিটি সেন্টারে মেয়র আনিসুল হক বাজেট ঘোষণা করেন। এর আগে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের বোর্ড মিটিংয়ে গত অর্থবছরের সংশোধিত ৮০৩ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় মেয়র ডিএনসিসি নিয়ে তার মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি সুন্দর, সবুজ, পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ নগরী গড়ে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য বিভিন্ন উদ্যোগও তিনি নিয়েছেন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আগামী বছরের মধ্যেই ৫৬টি আধুনিক বর্জ্যবাহী গাড়ি, ৩০টি টিপিং ট্রাক, ৪০টি কনটেইনার ও ২০০টি হাতগাড়ি ডিএনসিসিতে যুক্ত হবে। মশক নিধনের জন্য গত অর্থবছরে ২০০টি হস্তচালিত স্প্রে মেশিন, ১০০টি ফগার মেশিন কেনা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে আরও ১০০টি ফগার মেশিন ও ১০০টি স্প্রে মেশিন ও চারটি হুইল ব্যারে মেশিন কেনা হবে। মশার ওষুধের জন্যও এবার বাজেট বাড়ানো হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিমধ্যে একটি অত্যাধুনিক জেট অ্যান্ড সাকার মেশিন কেনা হয়েছে। পাশাপাশি যানজট, জলাবদ্ধতা নিরসন কাজে সম্পৃক্ত দায়িত্বশলীদের সঙ্গেও তিনি মতবিনিময় করেছেন, যদিও এ দুটি কাজ সরাসরি সিটি করপোরেশনের আওতায় নয়।

মেয়র বলেন, বর্তমানে সিটি করপোরেশন এলাকায় বিদ্যমান সমস্যার ১০ শতাংশ তিনি সমাধান করেছেন। পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন শেষে রাজধানীতে ১০ শতাংশ সমস্যা থাকবে। বাকি ৯০ শতাংশ সমস্যার সমাধান তিনি এই সময়ের মধ্যে করে দিয়ে যেতে পারবেন। এ সময় তিনি আগামীতে নির্বাচন না করার ব্যাপারেও ঘোষণা দেন। পরে সমকালের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কথা বললে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আগামীতে আবার নির্বাচন করার প্রত্যাশা থাকলে তিনি ভালো কাজগুলো করতে পারবেন না। এবারও তিনি নিজের ইচ্ছায় প্রার্থী হননি। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় প্রার্থী হয়েছিলেন।

গত অর্থবছরে ডিএনসিসি ঘোষিত ২ হাজার ৪১ কোটি টাকার বাজেটের মাত্র ৮০৩ কোটি টাকার কাজ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, গতবার ঘোষিত বাজেটের এক-তৃতীয়াংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। কারণ সরকার থেকে ১ হাজার ১০৩ কোটি টাকা পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল। পাওয়া গেছে ১৪০ কোটি টাকা। হোল্ডিং ট্যাক্স খাতে ৮৮২ কোটি টাকা আদায়ের কথা ছিল। হয়েছে ৫২১ কোটি টাকা। এবার হয়তো এ রকমটা হবে না। এবারের বাজেটে সংস্থার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য একটি বিশেষ প্রণোদনা রাখার কথা জানিয়ে মেয়র বলেন, রাজধানীর সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে ওইসব কর্মচারীই মাঠ পর্যায়ে বেশি ভূমিকা রাখেন। করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অসাধুতার অভিযোগ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, অতীতে কী হয়েছে তিনি জানেন না। তবে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভালো কাজ করার প্রবণতা লক্ষ্য করেছেন। মতবিনিময়কালে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক, সচিব আবু সাঈদ শেখসহ সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাজেট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এবার বাজেটে নিজস্ব উৎস থেকে আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৮৮২ কোটি টাকা। অন্যান্য আয় ১৮ কোটি টাকা, সরকারি থোক অনুদান ৩৫ কোটি টাকা, বিশেষ অনুদান ১০০ কোটি টাকা। এছাড়া সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প থেকে ৪৭৬ কোটি টাকা প্রাপ্তি ধরা হয়েছে।

ব্যয়ের খাত হিসেবে সংস্থার নিজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১০ কোটি টাকা। উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। সমাপনী স্থিতি ধরা হয়েছে ৯৮ কোটি টাকা।

সূত্র: সমকাল

You must be logged in to post a comment Login