বদলে যাচ্ছে সদরঘাট

প্রকাশ: July 4, 2015
sodorghat

সদরঘাটের ইতিহাস, উন্নয়ন, বর্তমান অবস্থা, সমস্যা-সংকট ইত্যাদি নিয়ে ৪ জুলাই দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি আমরা ঢাকার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

‘ইঞ্জিনের ধস্ ধস্, বাঁশির আওয়াজ, যাত্রীর ব্যস্ততা, কুলি-হাঁকাহাঁকি’-এমন এক চিরচেনা দৃশ্যপট অহর্নিশি উত্কীর্ণ থাকে সদরঘাটে। সারাদেশ, বিশেষ করে, দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর নদী-কেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিকেন্দ্র এই সদরঘাট। প্রায় সহস বর্ষ পূর্বে যে ঢাকার নগরপত্তন হয়েছিল ’ঢক্কা’ বৃক্ষবহুল বুড়িগঙ্গা তীরে, তার সদর দরোজা ছিল সদরঘাট। সেই সদরঘাট কালপরিক্রমায় যাত্রী পরিবহনের বিবেচনায় এখন বিশ্বের অন্যতম লঞ্চ সার্ভিস স্টেশন। ট্রেন ও সড়ক যোগাযোগ মসৃণ হওয়ার পূর্বাবধি ঢাকায় গমনাগমনের মূল পথ ছিল সদরঘাট। প্রায় শতবর্ষ আগে প্যাডেল স্টিমার’ ‘মাসহুদ’ আর ‘অস্ট্রিচ’ ছিল দূরপাল্লার প্রধান জলযান। ১৯৬৭ সালে বিআইডব্লিউটিএ সদরঘাটে আধুনিক নৌ-টার্মিনাল নির্মাণ করে। এখন নিত্যনতুন বিলাসবহুল লঞ্চ নামছে প্রতিযোগিতা করে। সড়কপথের ক্লান্তিকর ভ্রমণের বদলে প্রমোদতরীর মতো অভিজাত লঞ্চগুলোতে গন্তব্যে যাতায়াতে থাকে গৃহের প্রশান্তি। দ্রুতগতির বাস পরিবহনের এই সময়েও ৪৫টি রুটে গড়ে প্রতিদিন ৮০ হাজার যাত্রী দক্ষিণের জেলাগুলোতে যাতায়াত করছে এ ঘাট দিয়েই। দুই ঈদের আগে-পরে প্রতিদিন প্রায় ২-৩ লক্ষ যাত্রী আসা-যাওয়া করে ১৩টি পন্টুন আর ৯টি গ্যাংওয়ের এ টার্মিনাল দিয়ে। নদীমাতৃক এদেশে যাতায়াতের আরামপ্রদ ও নিরাপদ পরিবহন এখনো লঞ্চ। ফলে সদরঘাটের প্রতি এখন বাড়তি নজর দেয়া হচ্ছে। বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট। যানজট হ্রাস আর যাত্রী চলাচল সুগম করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সদরঘাট থেকে পোস্তগোলা অব্দি আড়াই কিলোমিটার আরসিসি রাস্তা হচ্ছে তীর ঘেঁষে। হচ্ছে ড্রেন, তীররক্ষা কাজ।

পোস্তগোলা শ্মশানঘাটে হচ্ছে আধুনিক নৌ-টার্মিনাল। উদ্যোগ নেয়া হয়েছে টার্মিনাল ভবনের সমপ্রসারণের। এতে নতুন পন্টুন ও গ্যাংওয়ে যুক্ত করা যাবে। ফলে অনেক বেশি লঞ্চ একসঙ্গে যাত্রী তুলতে সক্ষম হবে। যাত্রীদের দুর্ভোগ ও ঝুঁকি হ্রাস পাবে। আধুনিক নৌ-টার্মিনাল আগামী জুনেই খুলে দেয়া হবে যাত্রীদের জন্য।

সদরঘাটের অব্যবস্থাপনা, কুলিদের দৌরাত্ম্য, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যাত্রী দুর্ভোগ নিয়ে কর্তৃপক্ষ কার্যকর ভূমিকায় অটল থাকতে পারছে না। টার্মিনাল ইজারামুক্ত করে বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক সংগঠনের কুলি দিয়ে শ্রম ব্যবস্থাপনা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিলেও অবস্থার বিশেষ উন্নতি হয়নি। ঈদকে সামনে রেখে কর্মকর্তারা মনিটরিং কার্যক্রম চালালেও যাত্রীরা তাতে আশান্বিত নন। ঈদ যত কাছে আসবে যাত্রীরা ততই কম নিরাপদ হয়ে যাবে এমনই আশংকা ঘিরে রেখেছে।

যেভাবে গোড়াপত্তন
সদরঘাটের গোড়াপত্তন কবে হয়েছে তা ইতিহাসে অনির্দিষ্ট। তবে এর বয়স প্রায় হাজার বছর বলেই মনে করেন কোন কোন গবেষক। মূলত জনপদ, প্রাচীন সভ্যতাগুলোর উত্পত্তি ও ক্রমবিকাশ নদীকে কেন্দ্র করে এবং সভ্যতার অগ্রগতিও হয়েছে নদীর গতির সাথে তাল মিলিয়েই। নদী তীরে যেমন গড়ে উঠেছে জনপদ, গড়ে উঠেছে নগর-রাষ্ট্র, সৃষ্টি হয়েছে বাণিজ্যিক কেন্দ্র। ঢাকা নগর হিসেবে গড়ে উঠেছিল ‘ঢক্কা’ নামের বৃক্ষবহুল বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে। বুড়িগঙ্গা নদীর প্রাচীনত্বের উল্লেখ পাওয়া যায় ‘বৃদ্ধগঙ্গা’ নামের দুই হাজার বছর আগে রচিত কলিকা পুরাণে। মূল ভূখণ্ডের কেন্দ্রস্থলে নদীটির অবস্থান এবং সারাদেশের সঙ্গে নৌ-যোগাযোগের পথ সহজতর, নিরাপদ ও সংক্ষিপ্ত হওয়ায় প্রতিরক্ষা, প্রশাসনিক, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ধরনের রাজকীয় ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য বুড়িগঙ্গা নদীর ভৌগোলিক অবস্থানগত গুরুত্ব বিবেচনা করে সেই সময়ের নগর স্থপতিরা বেছে নেন এই স্থানটি। তারা জানতেন ‘বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী’। এ কারণে নগরটি মধ্যযুগের ভারতবর্ষে মর্যাদাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ‘আকবরনামা’ গ্রন্থে ঢাকা একটি থানা বা সামরিক ফাঁড়ি হিসেবে এবং ‘আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে সরকার বাজুহার একটি পরগনা হিসেবে ঢাকার উল্লেখ রয়েছে। ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশিত সুবাহ্ বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামানুসারে এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর। প্রশাসনিকভাবে জাহাঙ্গীরনগর নামটি ব্যবহূত হলেও সাধারণ মানুষের মুখে ঢাকা নামটিই থেকে যায়। সব বিদেশি পর্যটক এবং বিদেশি কোম্পানির কর্মকর্তারাও তাদের বিবরণ এবং চিঠিপত্রে ঢাকা নামটিই ব্যবহার করেন। বুড়িগঙ্গা ও এর উত্সনদী ধলেশ্বরী অন্য বড় বড় নদীর মাধ্যমে বাংলার প্রায় সবক’টি জেলার সঙ্গে ঢাকার সংযোগ স্থাপন করেছে। ঢাকা ছিল ভাটি (নদীবেষ্টিত নিম্নভূমি) অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। প্রাচীন ঢাকা শহরটি পুকুরতলীর (বর্তমান বাবুবাজার এলাকা) সীমিত এলাকা ঘিরে গড়ে ওঠে। কিন্তু মুঘল সুবাহ্র রাজধানী হওয়ার পর এর পরিধি বৃদ্ধি পায়। এ সময় বুড়িগঙ্গা তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা শহরটি পশ্চিমের দুর্গ থেকে শুরু করে পূর্বদিকে বর্তমান সদরঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। মুঘল আমলের বহু আগেই বুড়িগঙ্গার তীরে ঢাকা শহরের গোড়াপত্তন হয়েছিল। আর সদরঘাট এলাকাটি পূর্ব থেকেই ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থল হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছে। এখানে নদীপথে আমদানি রফতানি ছাড়াও যাত্রীবাহী বিভিন্ন জলযান অহরহ যাতায়াত করত। ১৭৬৫ সালে বুড়িগঙ্গা নদীতীরে একটি বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৮৫৭ সালের কিছুকাল পর তদানীন্তন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার সিটি বাক্ল্যান্ড বাঁধটি সমপ্রসারণ করে আরও পোক্তভাবে ফরাশগঞ্জ থেকে বাবুবাজার পর্যন্ত সমপ্রসারণ করেন। তখন থেকেই এই বাঁধটি ‘বাকল্যান্ড বাঁধ’ নামে পরিচিত হয়ে আসছে। আর সদরঘাট হয়ে ওঠে সবকিছুর প্রাণকেন্দ্র। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে যে ঢাকার লোকসংখ্যা ছিল ৯ হাজার, কালের সাক্ষী বুড়িগঙ্গা নদীর তীরের সেই ঢাকার লোকসংখ্যা আজ প্রায় দুই কোটি। আয়তন এখন ৯০০ বর্গ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। লোকসংখ্যা ও আয়তন বেড়েছে। আর সংকুচিত হয়ে আসছে বুড়িগঙ্গা, সদরঘাট। সদরঘাট কেন্দ্রিক ছিল এককালে মানুষের জীবন-জীবিকা। সদরঘাট নিয়ে মানুষের আবেগ ছিল অভাবনীয়। এনিয়ে রচিত হয়েছে কবিতা-গান। কিছুকাল আগেও রসিকজনের মুখে মুখে ফেরা গান ছিল:‘যদি সুন্দর একখান মুখ পাইতাম, সদরঘাটের পানের খিলি তারে বানাই খাওয়াইতাম’…

পোস্তগোলা অবধি বিস্তৃত হচ্ছে নৌ-টার্মিনাল
দৃশ্যপট পাল্টে যাচ্ছে সদরঘাট টার্মিনালের। যানজট হ্রাস আর যাত্রী চলাচল সহজীকরণে সদরঘাটের পরিসর বাড়ছে আগামী এক বছরেই। ‘পাস্তগোলার শ্মশানঘাটে হবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত নৌ-টার্মিনাল। এ জন্য সদরঘাট টার্মিনাল থেকে শ্মশানঘাট পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান গত মে মাসে এই নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে এ রাস্তার নির্মাণ কাজ শেষ হবে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ২০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার আরসিসি রাস্তা ও ড্রেন, তীররক্ষা কাজ ও স্পার নির্মাণ। বিআইডব্লিউটিএ জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চযাত্রীদের সুবিধার্থে পোস্তগোলা এলাকায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ একটি টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। দোকানি ও হকারদের জন্য সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের বিপরীতে বহুতলবিশিষ্ট মার্কেট নির্মাণ করবে সিটি করপোরেশন। নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, সদরঘাটে যাত্রীও যেমন বেড়েছে তেমন নৌ-যানের সংখ্যাও বেড়েছে। সদরঘাটে যাওয়ার রাস্তা মাত্র একটি। যানজটের কারণে এই রাস্তায় মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। বর্তমানে সব রুটের লঞ্চ ও স্টিমার একই জায়গা থেকে ছেড়ে যাচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা সদরঘাট টার্মিনালের এলাকা বর্ধিত করা হচ্ছে।

শত বর্ষের নস্টালজিয়া ‘রকেট’ আজো চলছে
সদরঘাটের সাথে ‘রকেট’ যেন এক নস্টালজিয়া। সেই বৃটিশ উপনিবেশকাল থেকে খুলনা, বাগেরহাট, বরিশালসহ দক্ষিণবঙ্গের সাথে মানুষের দূরপাল্লার যান বলতে প্যাডেল স্টিমার ‘মাসহুদ’ ও ‘অস্ট্রিচ’। প্রায় শত বছর ধরে চলছে। প্রচলিত লঞ্চ বা জাহাজের চেয়ে দেখতে ভিন্ন এই যানের ইতিহাস প্রাচীন। এ স্টিমার দুটি তৈরি হয়েছিল যথাক্রমে ১৯২৮ ও ১৯৩৮ সালে কলকাতার গার্ডেন রিচ ওয়ার্কশপে? জন্মের পর থেকে অদ্যাবধি ছোট-খাটো বিরতি বাদে নিরবচ্ছিন্নভাবে তারা যাত্রী পরিবহন করছে। এদের নোঙরের জন্য ঢাকার বাদামতলীতে আছে আলাদা ‘রকেট ঘাট’। নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সংস্থার ৫টি বিদ্যমান স্টিমারের মধ্যে বহরে আরও ২টি স্টিমার যুক্ত হয়েছে। স্টিমার দুটি হচ্ছে ‘বাঙ্গালি’ ও ‘মধুমতি’। স্টিমার দুটি ঢাকা-বরিশাল, ঢাকা-খুলনা চলাচল করবে।

টার্মিনালে মূর্তিমান আতঙ্ক ‘কুলি’
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে কুলিদের দৌরত্ম্য যেন অনিঃশেষ। কখনো বাড়ে কখনো কমে। আকাশী রঙের জামা পরা কুলিদের আছে এক বড় সিন্ডিকেট। ঈদ এলে তারা রীতিমত টার্মিনালে আতঙ্কে পরিণত হয়। সদরঘাট টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, টার্মিনালে প্রবেশের পথগুলোর সামনে যখন কোনো যাত্রী রিকশা, ট্যাক্সি, সিএনজি অটোরিকশা বা অন্য কোনো যানবাহনে আসছেন তখনই টার্মিনালের কুলিরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে তাদের ওপর। সঙ্গে থাকা ব্যাগ অন্যান্য মালামাল নিয়ে টানা-হেঁচড়া শুরু করে কুলিরা। যাত্রীর অনুমতি না নিয়েই মালামাল কাঁধে তুলে নিয়ে হাঁটা শুরু করে দেয় অনেকে। তাদের মালামাল নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া শুরু করে এসব কুলি। যাত্রীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও তারা মালামাল বহন করে টাকা আদায় করে। অনেক সময় নিজের মাল নিজে বহন করেও এসব কুলিকে টাকা দিতে হয়। কোনো যাত্রী ব্যক্তিগতভাবে মালপত্র লঞ্চে নিতে চাইলে কুলিরা তাতেও বাধা দেয়। এছাড়া আগেই দরদাম ঠিক করে নিলেও লঞ্চে গিয়ে কুলিরা বেশি অর্থ দাবি করে। যাত্রীরা এই অর্থ দিতে না চাইলে তাদের অনেককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এমন অভিযোগ সরদঘাট লঞ্চ টার্মিনালের অনেক যাত্রীর। বরিশালের যাত্রী আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মালপত্র নিয়ে টানাটানি করার সময় প্রতিবাদ করলে কয়েকজন কুলি তাকে মারধর করে। পুলিশের কাছে প্রতিকার চেয়েও কোনো লাভ হয়নি। আলাভোলা কাউকে পেলে তার লাগেজ নিয়ে কুলির লাপাত্তা হওয়ার ঘটনা ঘটছে হরহামেশা। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে মূল গেটের পাশে মাথায় হাত দিয়ে বসে পটুয়াখালীর কৃষক রাশেদ। সঙ্গে একজন আত্মীয়। মেয়ের বিয়ের বাজার করতে তারা ঢাকায় এসেছিলেন। বিয়ের বিভিন্ন জিনিস একটি লাগেজে ভরে বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তারা। বিপত্তি ঘটে সদরঘাট টার্মিনালে আসার পর। তার লাগেজ এক কুলি নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেও মালামাল এবং ওই কুলির কোনো হদিস পাননি তিনি। এখানকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করেও কোনো লাভ হয়নি বলে জানান তিনি।

ঈদের আগে প্রতি বছরের মতোই এবারো যাত্রী সচেতনতামূলক ফেস্টুন, ব্যানার টানানো হয়েছে টার্মিনাল জুড়ে। মাইকিং চলছে। তার মধ্যে যাত্রী নিয়ে হকার-কুলিদের টানাহ্যাঁচড়াও চলছে। টার্মিনালে রক্ষিত আছে অভিযোগ বক্স। একজন যাত্রী বললেন, তিনি এবং তার এক বন্ধু সমস্যার কথা লিখে এই বক্সে ফেলেছেন দুই দফা। তবে কোনো প্রতিকার নেই। অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিআইডব্লিউটিএ’র এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘ঈদে যাত্রী নিরাপত্তায় বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। তারা কাজ করছেন। কুলির রেট চার্ট টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়েছে গেটে। কর্মকর্তারা মনিটরিং কার্যক্রম চালাচ্ছেন। সমস্যার খবর পেলে ছুটে যাচ্ছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘লঞ্চ টার্মিনালে সব রকমের অপরাধ প্রতিরোধে আমরা তত্পর। কেউ কেউ এমনটা করে। তবে অভিযোগ পেলে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।’ একাধিক যাত্রীর অভিযোগ, হয়রানির শিকার হয়ে অভিযোগ করলেও পুলিশ এসব বিষয় তেমন আমলে নেয় না। অনেক সময় পুলিশের চোখের সামনেই যাত্রীদের লাঞ্ছিত করলেও তারা নীরব ভূমিকা পালন করে। টার্মিনালে বসানো হয়েছে ২০টি সিসি ক্যামেরা। কুলিদের দৌরাত্ম্য চলছেই। কিন্তু প্রতিকার নেই।

সদরঘাটের পোয়াবারো
ঈদ মানে সদরঘাটের পোয়াবারো। সব নীতি-নৈতিকতা, সব আইন-কানুন তখন উবে যায়। কেউ কাউকে ‘থোড়াই কেয়ার’ করে। বন্দর কর্তৃপক্ষ, লঞ্চ মালিক সমিতি, পুলিশ, র্যাব, আনসার সব থাকলেও এসবের কোনো কিছুকেই তোয়াক্বা করছে না লঞ্চ মালিকরা। যে যার মতো করেই তাদের লঞ্চে তোলে যাত্রী। লঞ্চের ডেক কেবিন যাত্রীতে ভরপুর। তারপরও ঝুঁকি নিয়েই তোলা হয় ছাদে। দেখার যেন কেউই থাকে না এখানে। ফলে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল। অতিরিক্ত যাত্রীসহ প্রবল ঝুঁকি এবং সরকারি আইনকে তোয়াক্কা না করেই দূর পথে যাত্রা করে যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো। এই ঝুঁকি নিতে গিয়ে কোনো কোনো লঞ্চ দুর্ঘটনায় পড়ে। তারপর কয়েক দিনের জন্য টনক নড়ে। অতঃপর যা তাই। গত বছরও বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের মেঘনা নদীতে একটি লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে। তবে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান লঞ্চে থাকা হাজার যাত্রী। এই খবর জানার পর সামান্য টনক নড়ে নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন