বাড়ির মালিকদের কর বাড়ছে

প্রকাশ: July 6, 2015
dhaka

সিটি করপোরেশন এলাকার আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের মালিকদের ওপর কর বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে ৬ জুলাই ২০১৫ তারিখে প্রথম আলোতে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি আমরা ঢাকার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

সিটি করপোরেশন এলাকার আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের মালিকদের ওপর কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। হোল্ডিং কর আগে ভবনের আয়ের ১২ শতাংশ আদায় করা হলেও তা ২৭ শতাংশ পর্যন্ত আদায় করা যাবে। ফ্ল্যাট, জমির মালিককেও একই হারে কর দিতে হবে।

ট্রেড লাইসেন্সের ফিও বাড়ানো হবে। সিটি করপোরেশনগুলোর আর্থিক সংকট কাটাতে ও নিজস্ব আয় বাড়াতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, ভবনের নতুন কর হার বাস্তবায়ন হলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আয় ৪০০ কোটি টাকার বেশি বাড়তে পারে। অন্যান্য সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় দ্বিগুণ হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন কর হার বিষয়ক ‘সিটি করপোরেশন আদর্শ কর তফসিল, ২০১৫’ চলতি বছরের ২ মার্চ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সরোজ কুমার নাথ এতে স্বাক্ষর করেন। নতুন এই কর হার ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যখন ভবনমালিকেরা কর দেবেন, তখন জানতে পারবেন।

অবশ্য গতকাল রোববার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের (ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ) ওয়েবসাইটে ভবন করের নতুন হার নিয়ে কিছু উল্লেখ নেই। সেখানে পুরোনো কর হারই উল্লেখ করা আছে। তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে ডিএনসিসির কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। প্রতিবেদনে সিটি করপোরেশন আদর্শ কর তফসিল, ২০১৫-এর প্রজ্ঞাপন জারির কথা সংসদীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভবনের করের ক্ষেত্রে বাড়ির আয়ের ওপর কর আগের মতো ৭ শতাংশ রাখা হলেও বর্জ্য নিষ্কাশন ও সড়ক বাতির ওপর কর বাড়ানো হয়েছে। বর্জ্য নিষ্কাশনের কর ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ ও সড়ক বাতির কর ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। বর্তমানে বাড়ির মালিককে কর দিতে হয় এ তিন খাতে সব মিলে ১২ শতাংশ। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে এ তিন খাতে তাঁকে দিতে হবে মোট ১৯ শতাংশ কর। এর বাইরে স্বাস্থ্য কর দিতে হতে পারে ৮ শতাংশ। অর্থাৎ নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে একজন ভবনমালিককে ২৭ শতাংশ কর দিতে হবে।

এ ছাড়া ভবনমালিকের কাছ থেকে ৩ শতাংশ হারে পানির জন্য কর নেওয়া যাবে। তবে অন্য কোনো সংস্থা এ খাতে কর নিলে সে ক্ষেত্রে ভবনমালিকের ওপর করারোপ করা যাবে না। আগে পানি ও স্বাস্থ্য কর ছিল না।

অর্থাৎ একজন ভবনমালিক যদি ভবন ও জমি ব্যবহার করে বছরে এক লাখ টাকা আয় করেন, তবে তাঁকে এখন ন্যূনতম ২৭ হাজার টাকা কর দিতে হবে। আগে দিতে হতো ১২ হাজার টাকা। আর যদি ওই মালিকের ওপর পানির জন্য কর প্রযোজ্য হয়, তবে তাঁকে আরও তিন হাজার টাকা দিতে হবে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ট্রেড লাইসেন্স ফি বাড়ছে দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ভবন কর এখনো বাড়েনি। এখনো আগের কর হার বলবৎ আছে। কর বাড়ানো সম্পর্কে তাঁর কিছু জানা নেই। তিনি বলেন, এটি তো সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

ভবন কর দেওয়ার পদ্ধতি: ভবনমালিক বা জমির মালিক তাঁর ভবন বা জমি ব্যবহার করে যে আয় করেন, তার ওপর তাঁকে কর দিতে হয়। অর্থাৎ মালিক ভাড়া দিয়ে বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করে যে অর্থ পান, তার ওপর নির্ধারিত হারে এই কর দিতে হয়। কর দেওয়ার ক্ষেত্রে মালিকের জন্য আলাদা নীতিমালা আছে। সেই নীতিমালা মেনে এই নির্ধারিত হারে তাঁকে কর দিতে হবে।

ভবন কর নির্মিত বাড়ি/ভবন/ফ্ল্যাটের বার্ষিক মূল্যায়নের ওপর নির্ধারণ করা হয়। ১৯৮৬ সালের ট্যাক্স আইনের ২০(৩) নম্বর বিধি অনুযায়ী বার্ষিক ভাড়া থেকে দুই মাসের ভাড়া রক্ষণাবেক্ষণ খরচ হিসেবে বাদ দিয়ে, ভবনটি নির্মাণের জন্য সরকার, বাংলাদেশ গৃহনির্মাণ ঋণ সংস্থা, তফসিলি ব্যাংক কিংবা অন্য কোনো অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ‘রেজিস্টার্ড মর্টগেজ ডিড’-এর মাধ্যমে ঋণ নেওয়া হলে ওই ঋণের বার্ষিক সুদ বাদ দিয়ে মূল্যায়ন নিরূপণ করা হয়। কিংবা এর কোনো অংশে নিজে বসবাস করলে, সেই অংশের সম্ভাব্য ভাড়ার ৪০ শতাংশ বাদ দিয়ে মূল্যায়ন নিরূপণ করা হয়। এই মূল্যায়নের ওপর এত দিন ১২ শতাংশ হারে কর দিতে হতো।

২০০০ সালে কেবল ভবনের ওপর ৭ শতাংশ কর দিতে হতো। ২০০৯ সালে এই করের সঙ্গে বর্জ্য নিষ্কাশন বাবদ ২ শতাংশ ও সড়ক বাতির জন্য ৩ শতাংশ কর যুক্ত করে ১২ শতাংশ করা হয়।

সূত্র: প্রথম আলো

You must be logged in to post a comment Login