জল্লাদখানা বধ্যভূমি: ৭১এর গণহত্যার দুঃসহ স্মৃতি

প্রকাশ: June 17, 2015
j8

১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে ধরে এনে নির্যাতনের পর শিরোশ্ছেদ করে মিরপুর জল্লাদখানা বধ্যভূমির তৎকালীন পাম্প হাউজের কুপে ফেলে দেওয়া হতো। স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় এখানে ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী।

পানি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হওয়া এই পাম্প হাউজটির ভেতরে ও বাইরে ছিল দুটো কুপ। একটা গভীর ও আরেকটি অপেক্ষাকৃত কম গভীর।

DSC05295

j5

j2

জানা যায়, কম গভীর কুপটির মুখে বাঙ্গালীদের হত্যা করে তাদের মাথা ফেলে দেওয়া হয় এতে, আর দেহটি ফেলে দেওয়া হত গভীর কুপটিতে। স্বাধীনতার ২৮ বছর পর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এ কুপ খনন করে উদ্ধার করা হয়েছে মানুষের মাথার খুলি-হাড়, ব্যবহৃত জিনিসপত্র।

DSC05292

DSC05283

জাতি যাতে সেসব কথা বিস্মৃত না হয়, এজন্য পুরো জায়গাটিকে গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিময় বিভিন্ন তথ্য ও স্মারক দিয়ে পুননির্মাণ করা হয়েছে। ২০০৭ সালের ২১ জুন এই স্থাপনাটির দ্বার উন্মোচন করা হয়।

111

একাত্তরে রাজধানীর মিরপুর অঞ্চল ছিল পাকিস্তানীদের অন্যতম টর্চার সেল। অবাঙ্গালীদের সহযোগিতায় বাঙালীদের ধরে এনে নির্যাতন করে হত্যা করা হত। মিরপুরে অনেকগুলো বধ্যভূমির মধ্যে দুটি জায়গায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর খনন কাজ চালায়। স্থানীয়ভাবে এই জায়গাদুটি পরিচিত ছিল জল্লাদ খানা ও নূরী মসজিদ বধ্যভূমি নামে।
জল্লাদখানা বধ্যভূমি থেকে ৭০টি মাথার খুলি, ৫৩৯২টি অস্থিখণ্ড, মেয়েদের শাড়ি, ফ্রক, ওড়না, অলংকার, জুতা, তসবিসহ শহীদদের ব্যবহার্য নানা জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছিল।

DSC05281

২০০৮ সালে তৎকালীন সরকার পুনরায় জল্লাদখানা কর্মসূচি শুরু করে এবং স্থপতি ও কবি রবিউল হুসাইন এর সার্বিক পরিকল্পনায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এর প্রচেষ্টায় তৈরি করা হয় জল্লাদখানা বধ্যভূমি স্মৃতিপীঠ। এর পূর্বপাশে রয়েছে টেরাকোটা ইট ও লোহার সমন্বয়ে তৈরি শিল্পী রফিকুন নবী ও মুনিরুজ্জামান এর যুগ্মভাবে করা একটি ভাস্কর্য “জীবন অবিনশ্বর”।

j4

কূপদুটো সিমেন্ট দিয়ে বাঁধাই করে ভারী কাচ দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে বর্বরতার স্বাক্ষর হিসেবে।

DSC05278

এছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন গনহত্যার তথ্য সংবলিত মুরাল, অগনিত শহীদের পরিচয় এবং বাংলাদেশের প্রধান বধ্যভূমিগুলোর থেকে মাটি এনে রাখা হয়েছে স্মৃতিচিহ্ন হিসাবে।

DSC05279

DSC05269

DSC05275

DSC05269a

মিরপুর ১০ নম্বর গোলচক্করের কাছে বেনারসি পল্লীর ১নম্বর রাস্তা দিয়ে সোজা চলে গেলেই জল্লাদখানা বধ্যভূমিতে পৌছানো যায়। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। গোটা চত্বরজুড়ে স্থাপিত ফলকে রয়েছে এ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া দেশের বিভিন্ন স্থানের বধ্যভূমির তালিকা, শহীদদের নাম।

DSC05285

DSC05276

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন