ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিময় স্থাপনা

প্রকাশ: May 14, 2015

অপরাজেয় বাংলা

1 aparajeyo_bangla

মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ঐতিহ্যের প্রতীক বলা হয় অপরাজেয় বাংলাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন চত্বরে এ ভাস্কর্যটির অবস্থান। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলার নারী-পুরুষের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের প্রতীক এই ভাস্কর্য। এর নির্মাতা মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ। অপরাজেয় বাংলার তিনটি মূর্তির সর্বডানে প্রত্যয়ী এক যোদ্ধা নারীর মূর্তি। এর পাশে কাঁধে রাইফেল, ডান হাতে দৃঢ় প্রত্যয়ে রাইফেলের বেল্ট ধরা এক যুবক যোদ্ধা। অন্যজনের চোখে-মুখে স্বাধীনতার দীপ্ত চেতনা, হাতে রাইফেল। ১৯৭২-৭৩ সালে ডাকসুর উদ্যোগে অপরাজেয় বাংলার কাজ শুরু হয়। ১৯৭৫ সালের পর দীর্ঘ সময় এর নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকে। ১৯৭৯ সালের জানুয়ারি মাসে পুনরায় আবার কাজ শুরু হয়। নির্মাণ শেষে একই বছর ১৬ ডিসেম্বর ভাস্কর্যটির উদ্বোধন হয়। ৬ ফুট বেদির ওপরে নির্মিত এ ভাস্কর্যটির উচ্চতা ১২ ফুট আর প্রস্থ ৮ ফুট।

স্বোপার্জিত স্বাধীনতা

2 swoparjito swadhinota

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি পশ্চিম পাশে সড়ক দ্বীপে ডাসের পেছনে এ ভাস্কর্যটির অবস্থান। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে এ ভাস্কর্যের মাধ্যমে। ৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচার আর নিপীড়নের চিত্রও ফুটে উঠেছে এ ভাস্কর্যে। এর নির্মাতা ভাস্কর শামীম সিকদার। এতে তার সহকর্মী ছিলেন শিল্পী হিমাংশু রায়। ১৯৮৭ সালে কাজ শুরু হয় এ ভাস্কর্যের। এক বছর পরে ১৯৮৮ সালের ২৫ মার্চে এটির উদ্বোধন হয়। চার কোনাকৃতির একটি বেদির উপর মূল ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে। পুরো ভাস্কর্যজুড়ে খচিত আছে স্বাধীনতাযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনার চিত্র।

স্বাধীনতার সংগ্রাম

3 swadhinotar songram

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে ব্রিটিশ কাউন্সিল ছাড়িয়ে সামান্য দক্ষিণে সড়ক দ্বীপে ছড়ানো অনেকগুলো ভাস্কর্য। এখানে ২৫ ফুট উঁচু বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের প্রতিকৃতি ছাড়াও আছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বাউল সম্রাট লালন শাহ, মরমী কবি হাছন রাজার মতো অনেক বরেণ্য ব্যক্তির ছোট ছোট ভাস্কর্য। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনেরও একটি ভাস্কর্য আছে এখানে। এগুলোরও শিল্পী ভাস্কর শামীম সিকদার।

বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ

4 buddhijibi smritisoudho

ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবি স্মৃতিসৌধ। মিরপুর ১ নম্বরের মাজার থেকে গাবতলীমুখি সড়কে সামান্য এগোলেই পশ্চিম পাশে বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে এটি অবস্থিত। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী রাজাকার আলবদরদের সহায়তায় এ দেশের সূর্য সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নির্বিচারে হত্যা করে। তাদের স্মরণে ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর মিরপুরে এ স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করা হয়। এখানে ১৯৭১ সালের গণহত্যার প্রমাণ একটি গণকবর আছে। এ ছাড়াও সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান এবং শহীদ জননী জাহানারা ইমামসহ মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত অনেকের সমাধি।

রায়ের বাজার বধ্যভূমি

5 rayerbajar boddhovumi

ঢাকা শহরের পশ্চিমে মোহাম্মদপুরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশেই শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ অবস্থিত। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর দেশের প্রখ্যাত সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করে এই স্থানের পরিত্যক্ত ইটের ভাটার পেছনের জলাশয়ে ফেলে রাখা হয়েছিল। এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ইটের ভাটার আদলে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। এই স্মৃতিসৌধে লাল ইট ও সিমেন্টের গাঁথুনির প্রাধান্যই বেশি। দূর থেকে দেখলে মনে হয় খোলা আকাশের নিচে সৌধের একমাত্র দেয়ালটি নির্ভীক প্রহরীর মতো মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে আছে। এর স্থপতি ফরিদ উদ্দীন আহমেদ।

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন