পুরান ঢাকার ইফতার ঐতিহ্য বড় বাপের পোলায় খায়

প্রকাশ: June 23, 2015
বড়_বাপের_পোলায়_খায়

ইফতার ঐতিহ্যে সবসময়ই জমজমাট পুরান ঢাকা। ঐতিহ্য বজায় রেখে দোকানি আর ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর রমজানে আনছেন নতুন নতুন ইফতার আয়োজন। চকবাজারকে ঘিরেই ইফতারের মূল আয়োজনটা জমে ওঠে। চকবাজারের ইফতার সামগ্রীর প্রতি সব সময়ই বিশেষ আগ্রহ থাকে ঢাকার রোজাদারদের।

রোজার মাসে চকবাজারে ইফতার কিনতে গেলে যে কথাটি সবচেয়ে বেশি কানে আসে তা হল, ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙা ভইরা লইয়া যায়।’ এই বাজারে সবচেয়ে নামকরা ইফতার আইটেমটি হলো ‘বড় বাপের পোলায় খায়’। এটি বিক্রির কৌশলটি অনেক মজার। ইফতার সামগ্রী বিক্রেতারা সুরে সুরে হাঁকডাক ছাড়ে এটি বিক্রিতে। ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙ্গায় ভইরা লইয়া যায়, ধনী-গরিব সবায় খায়, মজা পাইয়া লইয়া যায়’—এই ছড়ার মাধ্যমেই সবাইকে আকর্ষণ করে এই ইফতার কিনতে। অন্যরকম নামের ঐতিহ্যবাহী খাবারের এই পদটি প্রায় ৭৫ বছরের পুরনো বলে জানা যায়। এটি কিনতে ছোট-বড় সব বয়সী রোজাদারের মধ্যে প্রতিবছর যে কাড়াকাড়ি লেগে থাকে, তাও অনেকের কাছে উপভোগ্য একটি দৃশ্য হতে পারে। প্রচারের কারণে পুরান ঢাকার পাশাপাশি নতুন ঢাকার বাসিন্দারাও দিন দিন এই খাবারটির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

বড় বাপের পোলায় খায় তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ডিম, গরুর মগজ, আলু, ঘি, কাঁচা ও শুকনো মরিচ, গরুর কলিজা, মুরগির মাংসের কুচি, মুরগির গিলা কলিজা, সুতি কাবাব, মাংসের কিমা, চিড়া, ডাবলি, বুটের ডাল, মিষ্টি কুমড়াসহ ১৫ পদের খাবার আইটেম ও ১৬ ধরনের মসলা। মোট ৩১টি পদের মিশ্রণ দিয়ে তৈরি প্রিপারেশনটি ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ নামে বিক্রি হয়।

চকবাজারের স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, মোহাম্মদ কামাল মাহমুদ, যিনি কামেল মিয়া নামে পরিচিত ছিলেন, বড় বাপের পোলায় খায়-এর উদ্ভাবক। তিনি বরাবরই ছিলেন একজন ভোজনরসিক মানুষ। নানা ধরনের মুখেরোচক খাবার তৈরি করতে জানতেন তিনি। ৭৫ থেকে ৮০ বছর আগে তিনিই প্রথম এই মুখরোচক খাবারটি তৈরি করে চকবাজারে বিক্রি করা শুরু করেন। বটপাতার ডালায় করে তিনি খাবারটি বিক্রি করতেন।

তিন পুরুষ পেরিয়ে মোহাম্মদ কামালের বংশধররা এখনো হাল ধরে রেখেছেন এই ঐতিহ্যবাহী খাবারটির। তার মৃত্যুর পর ছেলে জানে আলম মিয়া বড় বাপের পোলায় খায় নামক এই খাবারটি বিক্রি করতেন। ইতোমধ্যে তিনিও গত হয়েছেন। ২০ বছর ধরে তার বংশধররা এই মুখরোচক আইটেমটি বিক্রি করছেন।

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন