‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ একইসঙ্গে ভাস্কর্য ও ইতিহাস

প্রকাশ: June 7, 2015
SS1 - Copy

‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ ভাস্কর্যটি বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রামের ইতিহাসকে ধারণ করে নির্মিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভাস্কর্য। শামীম শিকদার এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে সলিমুল্লাহ হল,জগন্নাথ হল ও বুয়েট সংলগ্ন সড়ক দ্বীপে স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্যটি স্থাপিত। ভাস্কর শামীম শিকদার ১৯৮৮ সালে ফুলার রোডে একটি পরিত্যক্ত জায়গায় ‘অমর একুশে’ নামে এই বিশাল ভাস্কর্য নির্মাণ শুরু করেন। ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক ঘরোয়া পরিবেশে প্রয়াত অধ্যাপক আহমদ শরীফ এটি উদ্বোধন করেন। ১৯৯৮ সালে ওই স্থানে উদয়ন স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণ শুরু হলে ভাস্কর্যটি স্থান্তরের প্রয়োজন হয়। ভাস্কর্যটি তখন বর্তমান স্থান সড়কদ্বীপে এনে রাখা হয়। পরে ভাস্কর শামীম শিকদার ওই ভাস্কর্যটির অবয়ব পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ নাম দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের আলোকে নতুনভাবে নির্মাণ করেন। একইসঙ্গে সড়ক দ্বীপটিকেও তিনি নিজের মনের মতো গড়ে তোলেন। ১৯৯৯ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করেন।

ভাস্কর শামীম শিকদার

ভাস্কর শামীম শিকদার

‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ ভাস্কর্যটি বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রামের ইতিহাসকে ধারণ করে নির্মিত। এ ভাস্কর্যটি মহান ভাষা অন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৬-র স্বাধিকার আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা সংগ্রামের আহ্বান, ২৫শে মার্চের কালরাত্রি, ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতা ঘোষণা, ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি আন্দোলনে নিহত হয়েছেন এমন ১৮ জন শহীদের মুখাবয়ব দিয়ে পুরো ভাস্কর্য নির্মিত। সবার নীচে ভাষা শহীদের ভাস্কর্য এবং সবার উপরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য। এ ভাস্কর্যে আরো তুলে ধরা হয়েছে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার প্রতীক আমাদের লাল সবুজের পতাকা। সবগুলো ভাস্কর্যের রং শ্বেত শুভ্র। শ্বেতবর্ণের এ ভাস্কর্যের উচ্চতা ৭০ ফুট। পরিসীমা ৮৫.৭৫ ফুট। একটি গোলাকার ফোয়ারার মাঝখানে এটি উপস্থাপিত। মূল ভাস্কর্য ছাড়া অন্য ভাস্কর্যগুলোর গড় উচ্চতা ৩-৪ ফুট।

SS1

SS2

মূল ভাস্কর্য স্বাধীনতা সংগ্রামকে ঘিরে রয়েছে দেশ-বিদেশের শতাধিক কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক, বিপ্লবী, রাজনীতিক, বিজ্ঞানীর আবক্ষ মোট ১১৬টি ভাস্কর্য। এসব ভাস্কর্যের কোনোটি একক, কোনোটি যুক্ত। এর সবগুলোই শামীম সিকদারের গড়া। কারো কারো ভাস্কর্য অপূর্ব ভঙ্গিমায় উপস্থাপিত। এখানে বঙ্কিমচন্দ্র, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, জগদীশ চন্দ্র বসু, মাইকেল মধুসুদন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, লালন, কাজী নজরুল ইসলাম, সুকান্ত ভট্টাচার্য, ড. মোঃ শহীদুল্লাহ, শিল্পী সুলতান, জিসি দেব, সুভাসচন্দ্র বসু, কামাল আতাতুর্ক, মহাত্মা গান্ধী, রাজা রামমোহন রায়, মাও সে তুং, ইয়াসির আরাফাত, কর্ণেল ওসমানী, তাজউদ্দিন আহমেদ, সিরাজ সিকদার প্রমুখের প্রতিকৃতি রয়েছে। ভাস্কর শামীম সিকদারেরও দুটি প্রতিকৃতি রয়েছে। আরও রয়েছে একটি হাতির চিত্তাকর্ষক ভাস্কর্য।

সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪ ডট কম

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন