বর্ণিল সাকরাইন

প্রকাশ: May 16, 2015
sak

পৌষের শেষ দিনে পুরান ঢাকার আকাশ থাকে ঘুড়িদের দখলে। আকাশ জুড়ে নানান রং আর বাহারের ঘুড়িদের দৌরাত্ম। এক সপ্তাহ ধরে পুরান ঢাকার বাহান্ন রাস্তা তেপান্ন গলির অধিকাংশ গলিতে আর খোলা ছাদে চলছে সুতা মাঞ্জা দেওয়ার ধুম। রোদে সুতা শুকানোর কাজও চলে পুরোদমে। সাম্প্রতিক কালে যদিও মাঞ্জার স্থান দখল করে নিচ্ছে রক সূতা নামের এক ধরনের সূতা। শীতের উদাস দুপুর আর নরম বিকালে আকাশে গোত্তা খায় নানান রঙের ঘুড়ি। ঘুড়িতে ঘুড়িতে হৃদ্যতামূলক কাটা-কাটি খেলাও চলে। অহরহ কাটা-কাটি খেলায় হেরে যাওয়া অভিমানী ঘুড়ি সুতার বাধন ছিড়ে উড়ে যাচ্ছে দূরে।

পৌষ সংক্রান্তি বা মকরসংক্রান্তি বলে যে উৎসব দক্ষিণ এশিয়ায় পালিত হয় তারই ঢাকাইয়া নাম সাকরাইন । ভারতে পৌষ সংক্রান্তি নামেই, নেপালে এটা পরিচিত মাঘী নামে, থাইল্যান্ডে সংক্রান, লাওসে পি মা লাও, মিয়ানমারে থিং ইয়ান এবং কম্বোডিয়ায় মহাসংক্রান নামে পরিচিত। মকরসংক্রান্তি হলো সেই ক্ষণ যাকে ঘিরে এ উৎসব পালিত হয়। পৌষ সংক্রান্তির দিনই পালিত হয় পুরান ঢাকার এবং আদি ঢাকাইয়াদের ঐতিহ্যের সাকরাইন উৎসব।
sakrain
ইতিহাস
প্রাচীনকাল থেকেই এ উৎসব চলে আসছে। তবে সুস্পষ্টভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। হতে পারে এটা হাজার বছরের উৎসব বা তারও আগের।
পুরাণের মধ্যেও এর উল্লেখ আছে। যার মধ্যে আমরা উত্তর পেয়ে যাই। পুরাণ অনুযায়ী, মকর সংক্রান্তির এ মহাতিথিতেই মহাভারতের পিতামহ ভীষ্ম শরশয্যায় ইচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করেছিলেন। আবার অন্য মত অনুযায়ী, এ দিনই দেবতাদের সঙ্গে অসুরদের যুদ্ধ শেষ হয়েছিল। বিষ্ণুদেব অসুরদের বধ করে তাদের কাটা মুণ্ডু মন্দিরা পর্বতে পুঁতে দিয়েছিলেন। তাই মকর সংক্রান্তির দিনই সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাস হয়ে শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে আজও মানা হয়ে থাকে। আবার অন্য মতে, সূর্য এ দিন নিজের ছেলে মকর রাশির দেবতা শনির বাড়ি এক মাসের জন্য ঘুরতে গিয়েছিলেন। তাই এই দিনটিকে বাবা ছেলের সম্পর্কের একটি বিশেষ দিন হিসাবেও ধরা হয়।
sakrain05
বিজ্ঞান অনুযায়ী, সূর্যের গতি দুই প্রকার। উত্তরায়ণ এবং দক্ষিণায়ণ। ২১ ডিসেম্বর সূর্য উত্তরায়ণ থেকে দক্ষিণায়ণে প্রবেশ করে। এ দিন রাত সব থেকে বড় হয় আর দিন সব থেকে ছোট হয়। এরপর থেকে দিন বড় আর রাত ছোট হতে শুরু করে। মাঘ থেকে আষাঢ় পর্যন্ত ছয় মাস উত্তরায়ণ। আবার শ্রাবণ থেকে পৌষ মাস পর্যন্ত ছয় মাস দক্ষিণায়ণ। পৌষ মাসের সংক্রান্তিকেই বলা হয় উত্তর সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তি। শাস্ত্র মতে, উত্তরায়ণে মৃত্যু হলে মুক্তি প্রাপ্তি হয় এবং দক্ষিণায়ণে মৃত্যু হলে ঘটে পুনরাবৃত্তি অর্থাৎ তাকে আবার সংসারে ফিরে আসতে হয়। সূর্য এ দিনই ধনু রাশি থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। এর থেকেই মকর সংক্রান্তির উৎপত্তি।
sakrain06
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সাগরদ্বীপে প্রতি বছরই মকর সংক্রান্তিতে স্নানে হাজার হাজার পুণ্যার্থীর সমাবেশ হয়। ঢাকায় চলে পূজা ও প্রার্থনা। চলে পিঠে উৎসব ও পিঠে বানিয়ে দেবতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা। মিষ্টি, লাড্ডু তো আছেই। চলে ঘুড়ি উৎসব। ঘুড়িতে করে দেবতার কাছে বার্তা পাঠানো যাবে, ঘুড়ি উৎসবটা এসেছে মূলত এই চিন্তা থেকেই। মৌলভীবাজারের মতো কোথাও কোথাও চলে রাতভর মাছের মেলা। সাকরাইন মূলত হিন্দু লোকউৎসব হলেও এখন এ দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই পালন করে।

পুরাণ ঢাকার সাকরাইন:
পুরাণ ঢাকায় সাকরাইন পহেলা মাঘে পালন হয়। তাই ১৪ জানুয়ারি এ উৎসব পালন করার কথা। তবে শাঁখারিবাজারের আদি হিন্দু পরিবারগুলি ১৫ জানুয়ারিকে পহেলা মাঘ মেনে এ উৎসব পালন করে। এদিন পুরাণ ঢাকার আকাশ ঘুড়িতে ঢেকে যায়। সন্ধ্যায় মুখে কেরোসিন নিয়ে আগুনে ফু দিয়ে আকাশে অগ্নিকুণ্ড তৈরি, ফানুস উড়ানো অথবা আতশবাজিতে মুখর থাকে আকাশ। সাকরাইনের সপ্তাহ খানিক আগে থেকে চলে প্রস্তুতি। সুতোয় কাঁচ, রঙ দিয়ে ‘মাঞ্জা’ দেয়া হয়। শাঁখারিবাজারের দোকানগুলিতে পাওয়া যায় বিভিন্ন আকার, আকৃতির ঘুড়ি। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে বানিয়ে নেন ঢাউস ‘ল্যাঞ্জার’ ঘুড়ি। ঘুড়ির লেজকে পুরাণ ঢাকায় বলে ল্যাঞ্জা। ছাদে ছাদে বন্ধুবান্ধবের দল টাকা তুলে এসব আয়োজন করে। লাখ লাখ টাকার বাহারি আতশবাজি ফোটানো হয় সাকরাইনকে কেন্দ্র করে। সাকরাইনের আগ থেকেই অনেক পর্যটক ভিড় জমায় এখানে। নতুন ঢাকাসহ নানান এলাকা থেকে মানুষ আসে পুরাণ ঢাকায়।

ছাদের পানির ট্যান্কির উপর উঠে ঘুড়ি উড়ানো

ছাদের পানির ট্যান্কির উপর উঠে ঘুড়ি উড়ানো


সাকরাইনকে শুধু এক দিনের উৎসব বললে ভুল হবে। সপ্তাহব্যাপী চলে এর আয়োজন। লাটাই কেনা থেকে শুরু করে সুতায় মাঞ্জা দেয়া সবই এর অনুসঙ্গ। সুতায় ভাল করে মাঞ্জা দেয়া হলো এই খেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যার সুতায় সবচেয়ে ভাল করে মাঞ্জা দেয়া হবে সেই উৎসবের দিন সব চেয়ে বেশি ঘুড়ি কাটতে পারবে। সাকরাইনের ঘুড়ির কত রকমের যে নাম আছে…. যেমন—চোখদার, মালাদার, ঘায়েল, দাবা, পঙ্খিরাজ, তেবাজ, দোবাজ, চাটাইদার, মালাদার, চাপরাশ, নাকপান্দক, রুমালদার,ভুয়াদার আরো অনেক… ।
বাহারী ডিজাইনের এক ঘুড়ি

বাহারী ডিজাইনের এক ঘুড়ি


এদিন ভোরবেলা কুয়াশার আবছায়াতেই ছাদে ছাদে শুরু হবে ঘুড়ি ওড়ানোর উন্মাদনা। ছোট বড় সকলের অংশগ্রহনে মুখরিত থাকবে প্রতিটি ছাদ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়বে উৎসবের জৌলুস। আর শীতের বিকেলে ঘুড়ির কাটা-কাটি খেলায় উত্তাপ ছড়াবে সাকরাইন উৎসব। এ উৎসবে তারা চিকন সূতা দিয়ে পাতলা কাগজের ঘুড়ি উড়ায়। এ উৎসবে সাধারণত ঘুড়ি উড়ানোর চাইতে অন্যের ঘুড়ির সাথে প্রতিযোগিতা করা হয় বেশী। এ প্রতিযোগিতা হয় মূলত সূতায় সূতায় প্যাচ লাগিয়ে। স্থানীয় ভাষায় একে বলে কাটাকাটি। কাটাকাটির পর বিজয়ী ঘুড়ি আকাশে উড়তে থাকে আর হেরে যাওয়া অর্থাৎ কেটে যাওয়া ঘুড়ি বাতাসে দুলতে দুলতে দুরে মিলিয়ে যায়। আর ভাগেটটা হওয়া ঘুড়ি পেতে এলাকার অপেক্ষাকৃত ছোটরা লগি নিয়ে ঘুড়ে বেড়ায়। তারা চিকন মুলিবাঁশ দিয়ে ঘুড়ির সূতা পেঁচিয়ে ঘুড়ি নিচে নামিয়ে আনে। এই চিকন বাঁশকে লগি বা লগগি বলে। তারা প্রথম দিন ঘুড়ি ধরে জমায় এবং দ্বিতীয় দিন এ ঘুড়িগুলো উড়ায়। সন্ধ্যায় দেখা যায় একেক জনের কাটা যাওয়া ঘুড়ির সংখ্যা কম করে হলেও ২৫-৩০টা। সন্ধ্যা হলে সেই সব ঘুড়ি পুড়িয়ে ঘুড়ি উৎসবের ইতি টানা হয়।
সস্ত্রীক ঘুড়ি উড়াচ্ছেন এক মুরুব্বি

সস্ত্রীক ঘুড়ি উড়াচ্ছেন এক মুরুব্বি


এ প্রতিযোগিতায় সুতাটাই প্রধান। এ সুতাকে মজবুত ও ধারাল করার জন্য যে ব্যবস্থা করা হয় তাকে মাঞ্জা বলে। সুতা ২-৩ ঘণ্টা লেইতে ভিজিয়ে রাখা হয়। লেই বা ল্যাদ্দি তৈরী করা হয় শিরিষ (যা ল্যাদ্দি কে আঠালো করে), রঙ (সুতা কি রঙ এর হবে সেই গুড়া রঙ), বার্লি, ডিম, বিভিন্ন ডালের কষ, ভাতের মাড় ইত্যাদির সংমিশ্রন ঘটিয়ে। ২-৩ ঘণ্টা পর রিল থেকে সুতা নাটাইয়ে প্যাচিয়ে রাখা হয়। শিরিষের আঠার জন্য সুতার সঙ্গে সুতা যেন না লেগে যায় তার জন্য রিল থেকে নাটাইয়ে সুতা যাওয়ার মধ্যপথে দুই জন সুতায় চূর লাগিয়ে দেয়। এ চূর তৈরী করা হয় কাচের গুরা দিয়ে। মাঞ্জা দেয়া শেষ হলে এ সুতা শুকানোর জন্য সমস্ত সুতা ছেড়ে দিয়ে ঘুড়ি ওড়ানো হয়। এ সময় তারা কারো সঙ্গে কাটাকাটি খেলে না। তাই তারা সাকরাইনের ৩-৪ দিন পূর্বে মাঞ্জা দেয়। মাঞ্জার গুনাগুনের উপর নির্ভর করে প্রতিযোগিরা একজন আরেকজনকে টানে অথবা ছোড়ে (ঢিল), কোন পদ্ধতিতে পরাজিত করবে।
ঘুড়ি উড়াচ্ছেন একাকী একজন

ঘুড়ি উড়াচ্ছেন একাকী একজন


ঘুড়ি তৈরী করা হয় পাতলা কাগজ বা পলিথিন দিয়ে। ছোটরা পলিথিনের ব্যাগ কেটে নারকেল পাতার শলা দিয়ে ঘুড়ি তৈরী করে। আর বড়দের জন্য দোকানিরা পাতলা কাগজ দিয়ে ঘুড়ি তৈরী করে এবং এর আকৃতি দেয়া হয় বাঁশের পাতলা চটি দিয়ে। ছেলেরা আগের দিন রাতে সকল ঘুড়িতে দান্তারা বেঁধে রাখে, যাতে একটা কাটা খাওয়ার পর আর একটা উড়াতে সময় ক্ষেপণ না হয়। এদিন আকাশে উড়ে চোখদ্বার, মালাদ্বার, পঙ্খীরাজ, চশমাদ্বার, কাউঠাদ্বার, চাপালিশ, চানদ্বার, এক রঙা ইত্যাদি ঘুড়ি। এমনকি জাতীয় পতাকার রঙেও ঘুড়ি তৈরি করা হয়। তবে ঘুড়ির চেয়েও সুন্দর হয় এর লেজ। লেজ অনেক আকৃতির ও রঙ বেরঙ এর হয়ে থাকে। ঘুড়ির সঙ্গে সঙ্গে নাটাইগুলোর নামও বেশ মজাদার। বাটিওয়ালা, মুখবান্ধা, মুখছাড়া ইত্যাদি। পাতলা ঘুড়ি ভালো হলেও নাটাই যত ভারী হবে ঘুড়ি উড়াতে তত ভালো হয়।

সন্ধ্যার আজান শেষ হবার পরপরই পুরান ঢাকার ঘুড়ি প্রেমীরা সারাদিন ঘুড়ি উড়িয়ে সন্ধ্যায় সকল ঘুড়ি, নাটাই, সুতা, লগি সকল উপকরণ দিয়ে আগুন জ্বালায়। এসময় তারা আতশ বাজী পোড়ায় ও মুখে কেরোসিন তেল নিয়ে আগুন দিয়ে চমৎকার এক ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরী করে, যা গোল হয়ে আকাশের দিকে উড়ে যায়।

মুখে কোরোসিন নিয়ে আগুনের হলকা বানানো

মুখে কোরোসিন নিয়ে আগুনের হলকা বানানো

আধাঁর হয়ে আসলে আতশবাজী ও ফানুশ উড়িয়ে শেষ করা হয় এই উৎসব। এক দশক আগেও ছাদে ছাদে থাকতো মাইকের আধিপত্য। আজ মাইকের স্থান দখল করেছে আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম। উৎসবের আমেজ থাকবে পুরান ঢাকার সর্বত্র। গেন্ডারিয়া, তাঁতীবাজার, লক্ষীবাজার, চকবাজার, লালবাগ, সূত্রাপুর মাতবে ঐতিহ্যের এই উৎসবে। আকাশে উড়বে ঘুড়ি আর বাতাসে দোলা জাগাবে গান। মাঝে মাঝে ঘুড়ি কেটে গেলে পরাজিত ঘুড়ির উদ্ধেশ্যে ধ্বনিত হবে ভাকাট্টা লোট শব্দ যুগল।

সাকারাইন উৎসব এখন আর শুধু ঢাকাইয়াদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাকরাইন পুরান ঢাকায় বসবাসকারী সকল মানুষের উৎসবে পরিণত হয়েছে। পুরান ঢাকার এই সকল ঐতিহ্যগুলো সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন এবং ঐতিহ্যগুলো পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন। উল্লেখ্য যে, পুরান ঢাকার সার্বজনীন উৎসব ঈদ মিছিল, বৈশাখী মেলা আর সাকরাইন উৎসব। আশার কথা এই যে, পুরান ঢাকার ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন, সংরক্ষন এবং জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে বর্তমান প্রজন্ম সচেতন।
mahamanob_1295088762_11-P1070428
অতীতে সাকরাইনে পুরান ঢাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইদের নাটাই, বাহারি ঘুড়ি উপহার দেওয়া এবং পিঠার ডালা পাঠানো ছিলো অবশ্য পালনীয় অংগ। ডালা হিসেবে আসা ঘুড়ি, পিঠা আর অন্যান্য খাবার বিলি করা হতো আত্নীয়-স্বজন এবং পাড়ার লোকদের মধ্যে। নীরব প্রতিযোগিতা চলতো কার শ্বশুরবাড়ি হতে কত বড় ডালা এসেছে। আজ এই সব চমৎকার আচারগুলো বিলুপ্ত হতে চলেছে। পুরান ঢাকার আদি বসবাসকারী সকল মানুষ এই ঐতিহ্যগুলোর স্মৃতি রোমন্থন করেন। নতুন প্রজন্মকে শোনান সেই সব মুখরিত দিনের কথা। মনের খুব গভীরে পরম মমতায় লালন করেন ঐতিহ্যের পরম্পরা। স্বপ্ন দেখেন এই সকল প্রাণময় ঐতিহ্যগুলো আবার পুনরুজ্জীবিত হবে।

উৎসব শেষে ঘুড়ি লাটাই সব পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে।

উৎসব শেষে ঘুড়ি লাটাই সব পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে।


পুনশ্চ :

১.ঢাকাইয়াদের ভাষায় ঘুড়িকে বলে ঘুড্ডি বা গুড্ডি। ঘুড়ি উড়ানোর জন্য সূতাকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ধারালো করা হয়। ধারালো করবার এই প্রক্রিয়াকে বলে মাঞ্জা । ঘুড়ির কাটাকাটি খেলায় কোন ঘুড়ি কেটে গেলে বলা হয় বাকাট্টা লোট। বিভিন্ন রকমের/ডিজাইনের ঘুড়ি পাওয়া যায় যেমন চোখদার, মালাদার, ঘায়েল, দাবা প্রভৃতি। এইবার যুক্ত হয়েছে রংধনু মার্কা।

২. সাকরাইন শুধু ঘুড়ি উড়ানোর উৎসব নয়। পুরান ঢাকার ঘরে ঘরে চলবে মুড়ির মোয়া, ভেজা বাখরখানি আর পিঠা বানানোর ধুম।

৩. গত কয়েক বছর যাবত ছোট আকারের লাটাই পাওয়া যাচ্ছে। এই ছোট আকারের লাটাই হাতে নিয়ে সাকরাইনের উন্মাদনায় ঢাকার আগামী প্রজন্মের প্রতিনিধিরা জানান দিবে তাদের উচ্ছাস ও আনন্দ।
sakrain03

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন