শবেবরাতে ঢাকার নকশী রুটি

প্রকাশ: June 2, 2015
nokshi ruti2

পুরান ঢাকার খ্যাতি এর খাবারে। ঢাকার আদি বাসিন্দা অধ্যুষিত এ জনপদের মানুষ নানা উৎসব-আয়োজনের মতো মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শবেবরাত উদযাপনের ক্ষেত্রেও তাদের খ্যাতির প্রতিফলন ঘটিয়ে আসছে বছরের পর বছর ধরে। যদিও এখন আর সেই মোঘল আমল নেই। কিন্তু আজও ইতিহাসের চোরাগলি হয়ে ঐতিহ্য আর রুচির দেখা মেলে পুরান ঢাকার অলিগলিতে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্যেও তাই প্রতিফলিত হয়েছে।

পুরান ঢাকাবাসীর কাছে পবিত্র এ উৎসব উদযাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ রুটি-হালুয়া। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করার মতো ঐতিহ্যবাহী ‘নকশি রুটি’র কথা। এই রুটি ‘শবেবরাতি রুটি’ নামেও পরিচিত। শবেবরাতকে সামনে রেখে পুরান ঢাকার অলিগলিতে বিভিন্ন ধরনের রুটির পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। নানা নকশাখচিত একেকটি রুটিতে মূলত উৎসবের আমেজই ফুটে উঠে।

nokshi ruti1

শবেবরাতকে সামনে রেখে সাধারনত একদিন আগে থেকেই পুরান ঢাকার বংশাল, রায়সাহেব বাজার, চকবাজার, চকবাজারের আলাউদ্দিন সুইটমিট, নর্থসাউথ রোডের হোটেল আল রাজ্জাক ও ঠাটারীবাজারের স্টার হোটেলে নারিন্দাসহ নানা স্থানে নকশা রুটির দোকান নিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। সেগুলোর কোনোটা দেখতে হয় কুলার মতো, কোনোটা মাছের মতো, আবার কোনোটা কুমিরের মতো। এছাড়া গোলাকার ও নকশা করা এবং ফুলের আকৃতিতে বানানো অসংখ্য নকশার রুটির দেখাও মেলে। একটা সময় পুরান ঢাকায় বেশির ভাগ পরিবার এই নকশী রুটি কিনে আনত চকবাজার থেকে। চকবাজারের শাহী মসজিদের সামনে শবে বরাতের সকালে এখনো বসে যায় রুটির পসরা। সেগুলোর কোনোটা দেখতে কুলার মতো, কোনোটা মাছের মতো, আবার কোনোটা গোলাকার ও নকশা করা। এ ছাড়া সাত রওজার আনন্দ বেকারি, চকবাজারের বোম্বে বেকারি, জজকোর্ট এলাকার ইউসুফ বেকারির রুটির নামডাক রয়েছে। ধানমন্ডি, গুলশান, উত্তরা আর মিরপুরের বড় বড় রেস্তোরাঁ ও মিস্টান্নের দোকানে ঢুঁ মারলেও পাওয়া যাবে শবে বরাতের রুটি-হালুয়া। কাচের টুকরা, আয়না, মার্বেল প্রভৃতি দিয়ে অলংকৃত করা হয় শবে বরাতি রুটি। এ রুটি বড় ট্রে বা খাঞ্চায় করে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে পাঠানো হয়।

nokshi ruTi3

নকশা রুটি ব্যবসায়ীরা জানান, যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে এই ঐতিহ্য। আর এই ঐতিহ্য ধরেই ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে এই নকশা রুটি। শবেবরাতে এই রুটি আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে আদান-প্রদান করা হয়। বিশেষ করে শ্বশুর-শাশুড়িরা তার মেয়ে-জামাই বাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রুটি পাঠান। ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রতিবছর এই দিনটাতে তারা রুটি বিক্রি করেন এবং এটাকে তারা ঠিক ব্যবসা হিসেবে নেন না। এই রুটি বানানো এবং বিক্রিকে তারা ঐতিহ্য হিসেবেই ধারণ করে থাকতে চান।

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন