ঢাকার একমাত্র দিঘি গঙ্গাসাগর

প্রকাশ: June 8, 2015
gongasagor dighi

ঢাকার অতি প্রাচীন একমাত্র দিঘিটির নাম গঙ্গাসাগর। মোগল সেনাপতি মানসিংহের স্মৃতিবিজড়িত প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন দিঘি এই গঙ্গাসাগর।

প্রজাহিতৈষী মানসিংহ এই গঙ্গাসাগর দিঘির মাধ্যমে স্মরণীয় হয়ে আছেন। বাসাবোর পূর্ব প্রান্তে কদমতলীর সবুজবাগে অবস্থিত দিঘিটির দেখা মিলবে রাজারবাগ শ্রীশ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরের সঙ্গে। মন্দিরের ফটক পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে বিশাল এই দিঘি। নানা ধরনের গাছগাছালিতে আকীর্ণ দিঘিটির পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে আছে ছোট-বড় আরও অনেক মন্দির। খনন করার পর আজ পর্যন্ত এটি সংস্কার করা হয়নি।

গঙ্গাসাগর দিঘি নিয়ে আছে বহু কাহিনী, কিংবদন্তি। কথিত আছে মোগল সম্রাট আকবর ষোল শতকের শেষের দিকে বাংলা জয়ের উদ্দেশ্যে সেনাপতি মানসিংহকে এ এলাকায় পাঠালে তিনি ঢাকায় এসে এ এলাকায় তাঁবু ফেলে ঈশা খাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। সেই সময় এই অঞ্চলে পানীয়জলের খুব অভাব ছিল। তখন মানসিংহ তাঁর সৈন্যসামন্ত দিয়ে গঙ্গাসাগর দিঘি খনন করান। এটি খনন হওয়ার পর এ এলাকার সাধারণ মানুষের পানীয়জলের সমস্যা দূর হয়। শুধু তাই নয়, দিঘিটি ক্রমেই হয়ে ওঠে তীর্থক্ষেত্র। পুণ্য লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মানুষ অষ্টমী স্নান, বারুণী স্নান উপলক্ষে এখানে এসে স্নানপর্ব শেষ করে। তা ছাড়া প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এ দিঘিতে স্নান করে মনস্কামনা ব্যক্ত করে। পরবর্তী সময়ে দিঘিটিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয় বেশ কিছু মন্দির। এসব মন্দিরের মধ্যে আছে শ্রীশ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, শিব মন্দির, শীতলা মন্দির, বিশ্বকর্মা মন্দির, লোকনাথ মন্দির ইত্যাদি। দিঘির উত্তর-পশ্চিম কোণে রয়েছে একটি শ্মশান এবং শ্মশান কালীমন্দির।

গঙ্গাসাগর দিঘির পরিমাপ প্রায় ৪.৫ একর। উত্তর-দক্ষিণ লম্বালম্বি এ দিঘির তিনটি ঘাট রয়েছে। দুটি পূর্ব দিকে, একটি উত্তর দিকে। এর সীমানাপ্রাচীর রয়েছে তিন দিকে। পূর্ব দিকে কোনো প্রাচীর নেই। এতে সারা বছর পানি থাকে। একসময় এর পানি স্বচ্ছ ও সুপেয় থাকলেও এখন অবশ্য তা নেই। এই দিঘির আশপাশ এলাকার কয়েক লক্ষ লোক এর ওপর নির্ভরশীল। যখন ওয়াসার পানি সরবরাহ বন্ধ থাকে তখন দক্ষিণগাঁও, নন্দীপাড়া, মানিকদী, বাসাবো, মাণ্ডা, মাদারটেক, গোড়ান প্রভৃতি এলাকার মানুষ এই দিঘির পানি ব্যবহার করে। তারা রান্নাবান্না থেকে শুরু করে গৃহস্থালির সব কাজে এর পানি ব্যবহার করে।

গঙ্গাসাগর দিঘিটি জীববৈচিত্র্যের অফুরন্ত আধার। এতে নানা ধরনের মাছ ছাড়া অন্যান্য জলজ প্রাণীও রয়েছে। আগে শীতকালে এখানে পরিযায়ী পাখি এসে আশ্রয় নিলেও এখন আর তা দেখা যায় না।

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন