ঢাকার পরিবেশ সংরক্ষণ জরুরি

প্রকাশ: June 4, 2015
Untitled-1

প্রায় সোয়া কোটির বেশী মানুষের বাস রাজধানী ঢাকায়, বিশ্বের অন্যতম জনবহুল নগরী। শত শত বছরের পুরোনো এই শহরে সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে সব বিষয়েই ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জরিপে বসবাসের অযোগ্য নগরী হিসেবে বরাবরই উঠে আসছে ঢাকা শহরের নাম। পরিবেশকে প্রাধান্য দিয়ে ‘সবুজ ঢাকা’ গড়তে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ঢাকা হবে বসবাসের অনুপযোগী।

ঢাকা শহরের রাস্তায় গাড়ীর বিকট হর্ণ এবং কালো ধোঁয়া নগরীর পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর পাশাপাশি রাস্তার পাশের ডাস্টবিন থেকে উপচে পড়া ময়লা পরিবেশে দূষিত করছে। শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণ বেঁচে থাকার জন্য একটি বিরাট হুমকি। বিভিন্ন দূষণের ফলে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধরা পর্যন্ত বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত হয়। শীতকালে পরিবেশ দূষণের মাত্রা অনেক বেড়ে যার ফলে ঐ সময়ে পরিবেশ দূষণের নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট আকার ধারণ করে। এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ময়লা আবর্জনার স্তুপ পরিবেশের পাশাপাশি পানিও দূষিত করে থাকে।

ঢাকা শহরের পরিবেশের নিয়ে সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ হচ্ছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। ঢাকা শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশুদ্ধ এবং সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে। এছাড়া বায়ু এবং শব্দ দূষণকে ঢাকা শহরের অপরাপর প্রধান সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেন। বর্তমানে ঢাকা শহরে বায়ু এবং শব্দ দূষণের মাত্রা এতোই বৃদ্ধি পেয়েছে যার ফলে এই শহর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে গিয়েছে।

1336653117-air-pollution-now-costs-tk-124-billion-a-year-in-dhaka-city_1204960জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপই ঢাকা শহরে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করছে। ঢাকা শহরের জনসংখ্যা যেভাবে বেড়ে চলেছে সেটি বজায় থাকলে শহরের পানি, বায়ু এবং শব্দ দূষণের হার আনুপাতিক হারে বাড়তে থাকবে।

জনসংখ্যা চাপের সাথে সঙ্গতি রেখে ঢাকাবাসীর নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়নি। এর ফলে ঢাকার মাঠগুলি যথেচ্ছ ব্যবহারের শিকার হচ্ছে। সরকার ঢাকা শহরের খেলার মাঠ এবং পার্কের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য একটি কমিটি গঠন করলেও সেই কমিটি এখন পর্যন্ত কোন তালিকা প্রস্তুত করেনি। ঢাকা শহরের খেলার মাঠ এবং পার্কের তালিকা প্রস্তুতের বিষয়ে সরকারের গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অপারগতা প্রকাশ করেছে। পর্যাপ্ত আর্থিক সাহায্য এবং নির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামোর অভাবে ঢাকা শহরের খেলার মাঠ এবং পার্কগুলির সুষ্ঠু রক্ষনাবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ঢাকার পরিবেশ রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পার্ক এবং খেলার মাঠ থাকা খুবই প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, উন্মুক্ত পরিবেশের অভাবে ঢাকা শহরে মাদকাসক্তের পরিমাণ বাড়ছে। পার্কের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারলে কোন রিয়েল স্টেট প্রতিষ্ঠানকে ভবন নির্মানের অনুমতি দেয়া উচিত নয়।

শব্দ দূষণ রোধে সরকার যে শব্দসীমা নির্ধারন করে দিয়েছিলো সেটি মেনে চলা হচ্ছে না। সমবেত সদিচ্ছার মাধ্যমে শব্দ দূষণ রোধ করা সম্ভব। শহরের পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য সরকারের আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এটি মেনে চলার ক্ষেত্রে জনগনকেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে।

বর্তমানের মতো পরিবেশ দূষণ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ঢাকা শহর বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে। ইতোমধ্যেই ঢাকা শহর বড় ধরণের প্রাকৃতিক বিপর্যয় সামলে ওঠার ক্ষমতা হারিয়েছে। মানুষের স্বাস্থ্যের উপর যে বিষয়গুলি প্রভাব ফেলে তার মধ্যে পুষ্টির পরই পরিবেশের অবস্থান। শব্দ ও বায়ু দূষণের নেতিবাচক প্রভাবের ফলে মানুষ সরাসরি আক্রান্ত হয়।

শহরের ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার ক্ষেত্রে ঢাকাবাসী সুষ্ঠুভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে না। ঢাকা শহরকে ময়লা-আবর্জনা মুক্ত রাখতে হলে জনগনের পাশাপাশি সরকারেরও ভূমিকা পালন করতে হবে।

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন