ঢাকায় ফুল

প্রকাশ: May 17, 2015
shahbag flower shop

বিয়ে, জন্মদিন, সভা, সেমিনার এবং বিশেষ দিনে ভালবাসা শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদনের জন্য ফুলের গুরুত্ব ব্যাপক। ফুলের এই চাহিদাকে পূরণ করতে ঢাকা মহানগরীর শাহবাগ এলাকায় বৃহৎ ফুলের মার্কেট গড়ে উঠেছে। এখানে খুচরা এবং পাইকারী মূল্যে ফুল বিক্রয় হয়ে থাকে। পুরো মার্কেটটি ফুটপাতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ শুরু হয় ১৯৮৩ সনে। যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা গ্রামের কৃষক সেরআলী সরদার মাত্র ৩০ শতক জমিতে সর্বপ্রথম রজনীগন্ধা ফুল উৎপাদনের মাধ্যমে স্থানীয়পরিসরে ফুলচাষ এবং বাণিজ্যিকভাবে ফুল বিপণন শুরু করেন। যার ফলে বর্তমানে যশোরের ৫টি উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নের ৭৫টি গ্রামে ৪৫০০ জন কৃষক রজনীগন্ধা, গোলাপ, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, লিলিয়াম, জার্বেরা ইত্যাদি বিভিন্ন জাতের ফুল উৎপাদন করে ‘গদখালী’ পাইকারি বাজারে বিক্রি করে থাকে। ৫০০ জন ব্যবসায়ী এখানকার উৎপাদিত ফুল ৪০% ঢাকায় খামারবাড়ি সংলগ্ন কৃষি খামার সড়ক ফুটপথের (সাবেক কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন চত্বর) পাইকারি বাজারে এবং ৬০% সারাদেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে সরবরাহ করে থাকে। সারা দেশে চাহিদার প্রায় ৭০% ঝিকরগাছায় উৎপাদন হয়ে থাকে। বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার বেশি ফুল যশোর অঞ্চল থেকে বাজারজাত হয়ে থাকে। এখান থেকে সরবরাহকৃত বেশিরভাগ বীজ, চারা, কন্দ, মূল ইত্যাদি দিয়ে বর্তমানে দেশের ১৯টি জেলায় বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হচ্ছে।

rojonIgondha

golap

রাজধানী ঢাকা শহরে ফুলের বাণিজ্যিক বিপণন শুরু হয় ১৯৮৭ সনে। তখন ঢাকা শহরে বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন স্থানে ফুল বিক্রি হতো। মরহুম মজনু মিয়া সর্বপ্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফুল বিপণন শাহবাগ শিশুপার্কের উত্তর পার্শে, ঢাকা ক্লাবের গেটসংলগ্ন (পশ্চিম পাশে) ‘মালঞ্চ ফুল দোকানের’ মাধ্যমে প্রথম ফুল ব্যবসার যাত্রা শুরু করেন। তৎকালীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সর্বপ্রথম মালঞ্চ ফুলের দোকান উদ্বোধনের মাধ্যমে পরিকল্পনামাফিক ফুল বিক্রির শুভ সূচনা করেন। যার সূত্র ধরে ১৯৯০ সনে শাহবাগ শিশুপার্ক পশ্চিম কর্নারে সিটি করপোরেশনের জায়গায় ফুলের বাণিজ্যিক পাইকারি মার্কেট দেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম স্থাপিত হয়। ওই পাইকারি মার্কেটে সিজনভেদে দৈনিক ৫-১০ লাখ টাকার ফুল পাইকারি হারে বিক্রয় হয়। ভাসানী সড়ক, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ ঘেঁষে, শাহবাগ চৌরাস্তা, শাহবাগ থানার উত্তর পাশে এবং জাতীয় জাদুঘরের পূর্ব পাশে শাহবাগ ফুলের মার্কেট অবস্থিত।

gada

gladiolas

শাহবাগ ফুল মার্কেটের ফুল বিক্রেতারা বাসা/অফিসে চাহিদা মাফিক ফুল পৌঁছে দেন। গাড়ি, বাড়ি, অফিস, গেট, বাসরঘর সাজানোর কাজগুলো বাসায় গিয়ে করে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে তাদের। যে কোন প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ ফুল পেতে সরাসরি দোকানে যোগাযোগ করতে হয়। সকল প্রকারের অর্ডারে ৪০% টাকা অগ্রীম বাবদ প্রদান করতে হয়। কমপক্ষে দুইদিন আগে অর্ডার দিতে হয়। ক্যাটালগের নির্ধারিত ডিজাইনগুলোর মধ্যে গ্রাহকের পছন্দনীয় ডিজাইন অনুসারে বিয়ের গাড়ী এবং বাসর ঘর সাজিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বিল সম্পূর্ণ ক্যাশে পরিশোধ করতে হয়।

liliam

gerbera

ঢাকা শহরে খুচরা ফুল বিক্রির অন্যান্য স্থান ও শোরুম
খামারবাড়ি সংলগ্ন কৃষিখামার সড়কের ফুটপাথ পাইকারি ফুল মার্কেটে ভোর ৩-৪টার মধ্যে ৩-৪টি ট্রাক (৩-৫ টন ফুল বোঝাই করে যশোর, ঝিকরগাছাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসে। এ ছাড়া সাভার, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ থেকে বাসে, মাইক্রোবাসে ফুল আসে। এখানে ফুটপাথে ছোট ছোট অস্থায়ী শেডে খুচরা বিক্রি হয়। এ ছাড়া কাটাবন, শাহবাগ, বনানী, গুলশান, উত্তরা, বারিধারা, আসাদগেট, বিডিআর গেট, ধানমন্ডি, মিরপুর, মহাখালী, বিজয়সরণি, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, ঢাকা নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন শোরুম, স্পট বা ফুটপাথ, রাস্তার ধারে ফুল বিক্রি হয়। এর মধ্যে কাটাবন, শাহবাগ, বনানী, গুলশান, মহাখালী টিবি গেট এলাকার শোরুম উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি শোরুমে ছোট, মাঝারি এবং বড় শোরুমে দৈনিক প্রায় ১৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ বড় দোকানে ৩০-৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ফুল বিক্রি হয়। বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ৫০০০০ টাকা পর্যন্ত ফুল বিক্রি হয়। শোরুমগুলো থেকে গাড়ি সাজানো, বিয়ের অনুষ্ঠান, গায়ে হলুদ, বিয়ে বাড়ি বা স্টেজ সাজনো কাজে ফুলসহ কারিগর পাঠানো হয়। প্রতিটি কার সাজাতে ১০০০ থেকে ৩০০০ টাকা নেয়া হয়। এ ছাড়া গায়ে হলুদসহ স্টেজ সাজানোতে ১০০০ থেকে ১৫০০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়।

orchid

গুলশানে ঢাকার সরুবৃহৎ ফুল বিক্রি ও ডেকোরেশন কাম শোরুম গুলশান ২ নং গোলচত্বরে ‘পুষ্প নীড়’-এর স্বত্বাধিকারী এসআর বাবু দেশী ও বিদেশী ফুল বিক্রি করে থাকেন। বড় বড় অনুষ্ঠানে ফুল সরবরাহ, ডিজাইন ও ডেকোরেশনসহ দীর্ঘ ২০-২২ বছর ফুলের ব্যবসায় করে আসছেন। ফুল দিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান, স্টেজসহ গেটে সাজাতে সরুনিম্ন ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ফুলসহ ডিজাইন, ডেকোরেশন খরচ বাবদ নিয়ে থাকেন। বিদেশী ফুলদানি ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় এখানে। এ ছাড়া তিনি ডিজাইন শিখতে থাইল্যান্ড, চীন ভ্রমণ করে নতুন নতুন ডিজাইন জেনে আসেন এবং ফুল নিয়ে আসেন। দৈনিক ১-৬টি পর্যন্ত বিয়ের অনুষ্ঠানের ডিজাইন, ফুল সরবরাহসহ গায়ে হলুদের গয়না হিসেবে কাঁচা ফুল বা ড্রাই (কাগজ বা কৃত্রিম উপায়ে তৈরি) দিয়ে সাজিয়ে থাকেন।

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন