পুরান ঢাকার ঐতিহ্য নান্না বিরিয়ানি

প্রকাশ: May 24, 2015
Nanna biriani becharam deuri

“নান্না বিরিয়ানি” এর নাম শুনেনি এমন মানুষ খুব কমই আছে। এই দোকানটির মতো মোরগ পোলাও বাংলাদেশের আর কোন দোকান বানাতে পারে কি না তা নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে। এই দোকানটির মোরগ পোলাওয়ের স্বাদ ঢাকার আর যেকোনো ব্র্যান্ডের মোরগ পোলাওয়ের চেয়ে আলাদা। মোরগ-পোলাওয়ের এর ঝোলের স্বাদ এককথায় অতুলনীয়। সেই সাথে এই দোকানের বোরহানীটাও মজার। নান্নার বিরিয়ানি নামটা একটি জনপ্রিয় র‍্যাপ গানের মধ্যেও উল্লেখ আছে।

পুরান ঢাকার বাসিন্দা নান্না মিয়া ১৯৬২-৬৩ সালের দিকে শুরু করেন বিরিয়ানির ব্যবসা। মানুষের কাছে তার বিরিয়ানি ক্রমশই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তারপর ১৯৭৩-৭৪ সালে মৌলভীবাজারের বেচারাম দেউরিতে এর প্রধান শাখা খুলে ব্যবসাকে একটু বড় রূপ দেন এই ঝানু বাবুর্চি। হাজী নান্না মিয়ার মৃত্যুর পর আজ অব্দি তার পরিবারে সদস্যরা এ ব্যবসার হাল ধরে আছেন।

Nanna biriani

নান্না বিরিয়ানির মোট ৫টি শাখা রয়েছে। ৪টি শাখাই পুরনো ঢাকায় অবস্হিত। কিন্তু প্রথম এবং মূল দোকানটির সাথে এর শাখাগুলোর রান্নার কিছু পার্থক্য মনে হতে পারে। তাই এর ‘আসল’ স্বাদ নিতে চাইলে যেতে হবে বেচারাম দেউরীতে অবস্হিত মূল দোকানে। তারা মসজিদ থেকে নান্না বিরিয়ানির দোকান দেখা যায়।

রোজার মাসে নান্না বিরিয়ানিতে ক্রেতাদের বাড়তি চাপ থাকে। ইফতারি আইটেম আয়োজনের কোন ভিন্নতা থাকে না। বছরের অন্য সব দিনে যে আইটেমগুলো পাওয়া যায় রোজায় সেগুলোই থাকে। তবে সাধারণের চাইতে রোজার সময় বিক্রি হয় তার তিনগুন! এখানে মুলত পোলাও ও মোরগের রোস্ট এবং মোরগ পোলাও এই দুই প্রকারের শাহী মোরগ পোলাও পাওয়া যায়। খাসির বিরিয়ানির ক্ষেত্রেও একইরকম আইটেম বিদ্যমান। তবে এখানে বলে রাখা ভালো আলাদা পোলাও মোরগের রোস্ট আইটেমটা বিশেষ ঘ্রাণ ও স্বাদ বহন করে। যা রসনা বিলাসীদের বারবার এখানে টেনে নিয়ে আসবে। এ ছাড়াও এখানে পাওয়া যাবে মাটন কাচ্চি, তেহারী, টিকিয়া। খাবারের পর ডেজার্ট হিসেবে পাওয়া যায় ফিরনি। আরও আছে বোরহানি,ও লাবাং-এর মত অতি সুস্বাদু পানীয়।

ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে, মিরপুর বেনারসি পল্লীতে আর মতিঝিলে একটি করে শাখা এবং পুরান ঢাকার বেচারাম দেউরীতে প্রধান শাখা নিয়ে মানুষের রসনা বিলাসের যোগান দিয়ে যাচ্ছে নান্না’র বিরিয়ানী হাউজ। পুরান ঢাকার বেগম বাজারে গেলে কমিশনার কার্যালয়ে যাওয়ার পথে তিন রাস্তার মোড়েই পেয়ে যাবেন নান্না’র প্রধান শাখা। আর শাপলা চত্বর থেকে ৩০০ গজ দক্ষিণে হাটলেই বঙ্গভবনের ৪নং গেটের বিপরীতেই পাওয়া যাবে নান্নার মতিঝিল শাখা। তবে নাজিমুদ্দিন রোডের শাখাতে যেতে হলে শেখ বোরহান উদ্দিন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ থেকে সোজা যেতে হবে চানখার পুলের দিকে। পথিমধ্যে হোসনি দালানের প্রবেশ মুখেই পাওয়া যাবে নাজিমুদ্দিন রোডের নান্না মিয়ার বিরিয়ানি হাউজের এ শাখাটি। মিরপুর ১০ নং গোলচক্কর সংলগ্ন বেনারসি পল্লী গেইট নং ১ দিয়ে প্রবেশ করলে পাঁচ মিনিট হাটলেই ডান পাশে নান্না মিয়ার বিরিয়ানি হাউজের শাখাটি পাওয়া যাবে।

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন