বাংলা একাডেমি আঙ্গিনায় ঢাকা বইমেলা শুরু

প্রকাশ: June 10, 2015
bangla

০৯/০৬/২০১৫ তারিখ থেকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে শুরু হয়েছে ঢাকা বইমেলা ২০১৫। সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য এই বইমেলা সম্পর্কে দৈনিক জনকন্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আমরা ঢাকার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

সর্বশেষ ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকা আন্তর্জাতিক বইমেলা। দীর্ঘ পাঁচ বছরের বিরতি দিয়ে আবার শুরু হলো জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র আয়োজিত এই গ্রন্থমেলা। তবে এবারের ১৮তম এ মেলার নামকরণে এসেছে পরিবর্তন। মেলার শিরোনাম থেকে আন্তর্জাতিক শব্দটি উঠে গিয়ে পরিণত হয়েছে ঢাকা বইমেলা ২০১৫। ‘চেতনার জাগরণে বই’ স্লোগানে মঙ্গলবার থেকে বাংলা একাডেমির উন্মুক্ত আঙিনায় শুরু হলো বইয়ের এই মেলা। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে মেলা আয়োজনে সহযোগিতা করেছে বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশ সমিতি। ৬টি সরকারী সংস্থার সঙ্গে ৬৮টি প্রকাশনা সংস্থার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী এই বইয়ের আড়ং।

মঙ্গলবার জ্যৈষ্ঠের বিকেলে একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে মেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে মেলা উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহবুবা মশকুরের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক কবি অসীম সাহা। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ও সচিব আলতাফ হোসেন এবং জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ওসমান গনি। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন গ্রন্থকেন্দ্রের সচিব অসীম কুমার দে।

এ বইমেলা আয়োজনের ধারাবাহিকতার অভাবের বিষয়টি উঠে আসে আসাদুজ্জামান নূরের বক্তব্যে। তিনি বলেন, এই মেলাটি নিয়ে আমরা বিপদের মধ্যে আছি। এই গ্রন্থমেলাটির কোন ধারাবাহিকতা নেই। মাঝে দীর্ঘদিনের বিরতি দিয়ে আবার যাত্রা শুরু করল। এটা আমাদের ব্যর্থতা। এটি ১৮তম মেলা হলেও আজ অবধি নিজস্ব চরিত্রে উপস্থাপিত হতে পারেনি। এর নেপথ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও আয়োজক সংস্থার জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী। তবে আশার বাণী উচ্চারণ করে তিনি বলেন, আগামীতে সুপরিকল্পিতভাবে এই মেলার আয়োজন করা হয়। এখন থেকেই সে বিষয়ে প্রস্তুতি নেয়া হবে। বইমেলাটি আন্তর্জাতিক রূপে পরিণত না হওয়ার আক্ষেপ করে তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে বই নিয়ে যে কর্মপ্রবাহ চলছে সেটা আমরা দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছি। বিশ্বের সঙ্গে আমাদেরও সমানতালে এগিয়ে যেতে হবে। এই মেলাটি আন্তর্জাতিক মানের হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গ্রন্থানুরাগী জনসমষ্টির সমাগম ঘটত এখানে। এর ফলে আমাদের সম্পর্কে বহির্বিশ্বের প্রচলিত নেতিবাচক ধারণাগুলো অনেক কমে যেত। তাই আমরা আগামীতে এই বইমেলাকে আকর্ষণীয় করে তোলার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বইমেলার অভিজ্ঞতার আলোকে একটি চমৎকার মেলার আয়োজন করব। এছাড়া এ বছরের নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বরে বাংলা একাডেমির বর্ধমান ভবনের পার্শ্ববর্তী উন্মুক্ত স্থানে প্যান্ডেল টাঙিয়ে তৈরি করা হয়েছে মেলার স্টল। ৬টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশ নিয়েছে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির অংশভুক্ত ৬৮টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে মেলায় ঠাঁই পেয়েছে ৭৪টি স্টল। বই সংগ্রহের পাঠকরা পাবেন ২৫ শতাংশ মূল্যছাড়। তবে আগে থেকে কোন প্রচারণা না থাকায় মেলার প্রথম দিন তেমনভাবে পাঠক কিংবা গ্রন্থানুরাগীদের সমাগম ঘটেনি। মেলা প্রাঙ্গণে কথা হয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পাঠক সমাবেশের কাস্টার কেয়ার সার্ভিসের তানিয়া হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, অমর একুশে গ্রন্থমেলার পর আমরা অনেক নতুন বই প্রকাশ করেছি। এর মধ্যে আছে লালনসমগ্র, রবীন্দ্রসমগ্র, কাফকা গল্পসমগ্র, আরজ আল মাতুব্বর রচনাসমগ্র ইত্যাদি। যথাযথ প্রচারণা না হওয়া আজ প্রথম দিনে তেমনভাবে পাঠকের দেখা মেলেনি। আশা করছি আগামী দু-এক দিনের জমে উঠবে এই বইমেলা। অন্যান্য প্রকাশকরাও একই রকম আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সপ্তাহব্যাপী মেলা শেষ হবে ১৫ জুন। প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে।

সূত্র: দৈনিক জনকন্ঠ

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন