হাতিরঝিলে বেড়ানো

প্রকাশ: May 13, 2015
Hatirjheeld

ব্যস্ত নগর ঢাকায় যেখানে বেড়ানোর জন্য একটু খোলা জায়গা পাওয়া মুশকিল সেখানে হাতিরঝিল ঢাকার মানুষের জন্য হয়ে উঠেছে মনোরম এক বিনোদন কেন্দ্র। দিনে কিংবা রাতে যে কেউই ঘুরে আসতে পারেন হাতিরঝিলে।

২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্ধোধন করা হাতিরঝিল প্রকল্পটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এরপর থেকেই হাতিরঝিল হয়ে উঠে নগরবাসির কাছে বিনোদনের প্রিয় একটি স্থান হিসেবে।এ প্রকল্পের প্রাণ হাতিরঝিল ও বেগুনবাড়ী খাল, বিনোদনের জন্য খালে আছে নৌকা চালানোর ব্যবস্থা, ছোট পরিসরে পিকনিক স্পট, শুটিং স্পট, বিকেলে হাটার ব্যবস্থাসহ ব্যস্ত ঢাকায় একটু প্রশান্তির বেশ কিছু সুবিধা। এ প্রকল্পে আরও আছে আড়াই হাজার আসনের একটি উন্মুক্ত মঞ্চ, রাম- পুরা প্রান্তে রাস্তায় দু’টি ইউ-লুপ, পানির ওপর দর্শনার্থী ডেক, জলযান টার্মিনাল, হাঁটার সেতু, সাংস্কৃতিক ও ব্যবস্থাপনা ভবন। আর সন্ধ্যার পর হাতিরঝিল নানা রকম আলোকসজ্জার রঙ্গে নিজেকে রাঙ্গিয়ে তোলে অপরুপ সাজে।
406573_507745185937325_1135025642_n1

সূর্য পড়তে শুরু করলেই ভিড় বাড়তে থাকে হাতিরঝিলে। ধীরে ধীরে রঙ্গিনবাতিগুলো জ্বলতে শুরু করে। হাতিরঝিল ধারণ করে অন্য এক রূপ।
সকাল বা দুপুরের মানুষগুলোর থেকে বিকেলের মানুষগুলো আলাদা। এদের তাড়া নেই, আবার বসে অলস সময়ও পার করছেন তাও নয়। বরং জমজমাট আড্ডার আসর, এটা দেখা ওটা দেখা।সেলফি তোলা, ছবি তোলা এসবই চলতে থাকে।বিকেলে সবচেয়ে বেশি আড্ডা জমে ঝিলের ওপরের দুটো প্রশস্ত ব্রিজে। ব্যস্ত এই আড্ডায় সব বয়সের নারী পুরুষের দেখা মেলে। তবে তরুণদেরই চোখে পড়ে বেশি।

বিকেলে ব্রিজগুলোতে যানের চেয়ে মানুষের সংখ্যাই বেশি।দলবলে আসা মোটর সাইকেল আরোহীরা কিছুটা দাপুটে আর অবাধ্য।বিকেল বাড়ার সাথে সাথেঝিলের পাড়ে ঘাসের ওপর বসা মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে।হকারদের ও আনাগোনা বেড়ে যায়।বিকেল গড়ানো সন্ধ্যায় দোকানিদের আয় বেড়ে পাঁচগুণ হয়ে ওঠে। এ সময়টিতে আশেপাশে খাবারের দোকানগুলোতে কাটতি বাড়ে।
8341697085_07362b333a
ইতিহাস
ব্রিটিশ রাজার ধারাবাহিকতায় ভাওয়ালের রাজাদের পোষা হাতি রাখা হত পিলখানায়। সেই সময় গোসল করার জন্য এসব হাতি ঝিলে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করতো এখনকার এলিফ্যান্ট রোড, হাতিরপুল এলাকা। হাতিদের আনাগোনার কারণেই এলাকার নামের সঙ্গে ‘হাতি’শব্দটি যুক্ত হয়ে গেছে। আর হাতি গোসল করানোর কারনে ঝিলের নাম হয় হাতিরঝিল। ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়, ঢাকার পিলখানা থেকে বেগুনবাড়ি এলাকার ঝিলে যাওয়ার জন্য হাতিরা যেসব সড়ক ব্যবহার করা হতো, পরবর্তীতে সেসব এলাকার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হাতি নামটি।
602392_194959887325270_1188810049_n
কিন্তু কালের বিবর্তনে হাতির ঝিল পরিনত হয় নর্দমায় আর বস্তিবাসীদের থাকার জায়গায়। এর পরেই শুরু হয় সমাজের বিত্তবান ক্ষমতাশীল লোকদের জমি দখল করার অভিপ্রায়।এর ফলশ্রুতিতে জমি দখল সহ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা ও বন্যা প্রতিরোধ, ময়লা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, রাজধানীর যানজট নিরসন এবং শ্রীবৃদ্ধি করতেবাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘স্পেশাল ওয়ার্কস অরগানাইজেশন’ (এসডব্লিউও)এর তত্ত্বাবধায়নে পাঁচ বছর কাজ করার পর হাতিরঝিলকে গড়ে তোলা হয় বিনোদনের স্থান হিসাবে।এক হাজার ৯৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ৩০২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় হাতিরঝিল প্রকল্প।

8392296018_07e66f8961
দূষণ-দখলে আবৃত দুর্গন্ধময় ডোবা হাতিরঝিল ও এর আশপাশের এলাকাকে সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব করার কার্যকর উদ্যোগের শুরুটা ২০০৯ সালে।হাতিরঝিল প্রকল্পটি ২০০৭ সালের অক্টোবরে একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়। ৩ বছর মেয়াদের এ প্রকল্পটি প্রথমে ২০১০ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এর কাজই শুরু হয় ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে। পরবর্তীতে প্রকল্পটি সংশোধন করে আরো দেড় বছর সময় ও বরাদ্দ বাড়ানো হয়। হাতিরঝিলসেতুপ্রকল্পের মূল পরিকল্পনাকারী ও সর্বোচ্চ তদারককারী বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন