‘নোটেশন রিকন্সট্রাক্টেড’ শীর্ষক চিত্রকর্ম প্রদর্শনী

প্রকাশ: May 14, 2015
1429459710

সুরের ধারা যেন তুলির টানে প্রাণ পেয়েছে। রঙের ছন্দ নাকি সুরের ছন্দই রঙের মাঝে প্রকাশিত হচ্ছে— এমন প্রশ্ন আসতেই পারে মনে। বিমূর্ত শিল্পকলার অসাধারণ, অনন্য এক উপস্থাপনা নিয়ে অপেক্ষা করছে গ্যালারিতে। জাপান প্রবাসী শিল্পী কাজী গিয়াসউদ্দিনের ‘নোটেশন রিকন্সট্রাক্টেড’ শীর্ষক চিত্রকর্ম প্রদর্শনী শুরু হয়েছে ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে। শিল্পী বললেন, প্রকৃতিই আমার প্রেরণা। সঙ্গীত আমার আশ্রয়। আমি ক্যানভাসে মূলত প্রকৃতির সুরকেই ধরতে চেয়েছি। বাতাসের বয়ে চলার মাঝে যে সুর, পাখির কলকাকলির মাঝে যে সুর সেই ছন্দটাকে ধরতে চাই ক্যানভাসে। সবমিলিয়ে নিঃসীম প্রকৃতির মাঝে যে শান্তি বিরাজ করে সেই শান্তির কথাই আমি বলতে চাই আমার ছবিতে।

প্রকৃতি থেকে সংগ্রহ করা চিরচেনা মোটিফ আর অবয়বগুলো তিনি নতুন করে তুলে ধরেছেন তার ক্যানভাসে। কয়েক স্তরের অসমতল জমিনে রঙের পরিমিত ব্যবহার, ব্রাশস্ট্রোকের ধারালো আঁচড়, রেখার ঐন্দ্রজালিক উপস্থাপন আর মোটিফের নিঃশব্দ আবেদন কাজী গিয়াসের চিত্রকর্মকে সুরের অনির্বচনীয় আধারে রূপায়িত করেছে।

শিল্পী বলেন, বিমূর্ত বলতে কিছু নেই। আমি প্রকৃতি থেকে ছবির উপাদান সংগ্রহ করি। শিল্পীর এই কথার প্রমাণ মেলে তার ক্যানভাসে। নকশীকাঁথার মত নিপুণ বুননে তিনি জীবনের গল্প বলেন ক্যানভাসে। রঙ ব্যবহারে পরিমিত এই শিল্প প্রধানত সাদা, হালকা ছাই, হালকা নীল রঙ ব্যবহার করেন। মৃদুভাষী শিল্পী তার ক্যানভাসও মৃদুস্বরে কিন্তু জোরালোভাবে, নিপুণভাবে বলেন জীবনের কথা। যে জীবন শান্তিময়, সংবেদনশীল, মানবিক।

শনিবার বিকালে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের পনের বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শিল্পী কাজী গিয়াসউদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। প্রদর্শনীতে মোট চিত্রকর্মের সংখ্যা ৪০টি প্রদর্শনী আগামী ২৬ মে পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

প্রসঙ্গত, বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস তার যাত্রার প্রথম বছর শিল্পী কাজী গিয়াসউদ্দিনের একক প্রদর্শনী আয়োজন করেছিল। এবারের এই পঞ্চদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশের অন্যতম প্রধান এই শিল্পীকে চতুর্থবারের মতো উপস্থাপন করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

শিল্পী কাজী গিয়াসউদ্দিন ১৯৫১ সালে মাদারীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮৫ সালে জাপানের টোকিও ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব্ ফাইন আর্টস্ এন্ড মিউজিক থেকে চারুকলায় পিএইচডি লাভ করেন। এ পর্যন্ত দেশে ও বিদেশে তার ৫৫ টিরও বেশি একক প্রদর্শনী আয়োজিত হয়েছে এবং বহু দলবদ্ধ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে ফ্রিল্যান্স শিল্পী হিসেবে কাজ করছেন।

কাজী গিয়াসউদ্দিন জাপানে বসবাস করছেন দীর্ঘদিন। এই সময়ে টোকিও আর ঢাকায় সময় ভাগ করে শিল্পচর্চা করছেন। প্রবাসে বাংলাদেশের স্বল্প যে ক’জন শিল্পী প্রতিভা আর উদ্যমের কল্যাণে নিজ স্বাক্ষরকে নতুন মাত্রায় প্রতিভাত করেছেন, কাজী গিয়াস তাদের একজন। চেতনে-অবচেতনে জন্মভূমির প্রতি শিল্পীর যে গহীন ভালোবাসা, পরদেশে সৃষ্ট চিত্রপটেও তার চিত্তগ্রাহী ছাপ দৃশ্যমান। জাপানের চিত্রকলা বা সংস্কৃতি তাকে প্রভাবান্বিত করলেও নিজ দেশের চিরায়ত মাধুর্যই তার চিত্রচর্চার অন্তিম অনুপ্রেরণা।

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন