‘৫০’-এ বটতলার ‘খনা’

প্রকাশ: May 14, 2015
Picture-Khona1431494024

বাংলাদেশের অন্যতম নাট্যদল বটতলা। বহুদিন যাবৎ ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে এ নাট্যদল মঞ্চস্থ করে আসছে নাটক ‘খনা’। ইতোমধ্যে এর কাহিনি ও নাট্য আঙ্গিকের জন্য বেশ দর্শকপ্রিয়তাও অর্জন করেছে নাটকটি। সম্প্রতি ‘খনা’র ৪৯টি প্রদর্শনী শেষ করেছে নাট্যদল বটতলা ।

এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৬ মে ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০০ টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় ‘খনা’র ৫০তম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নাটকটি রচনা করেছেন সামিনা লুৎফা নিত্রা ও নির্দেশনা দিয়েছেন মোহাম্মদ আলী হায়দার।

৫০তম প্রদর্শনী সম্পর্কে নাটকটির নির্দেশক এবং বটতলার অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ আলী হায়দার জানান, ‘৫০তম প্রদর্শনীটি একটু বড় আকারে করার পরিকল্পনাই করেছে বটতলা। আর এই প্রদর্শনীতে দর্শকদের জন্য রয়েছে কিছু নতুনত্ব, কিছু চমক। এছাড়াও বটতলার যে সকল সদস্য খনা’র ৫০টি প্রদর্শনীতেই অভিনয় করেছেন তাদেরকে সম্মাননা পদক দেয়া হবে এবং পুরাতন, নতুন সকল অভিনেতারই সম্মিলন ঘটবে এই উৎসবে। উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্টজনরাও।’

‘খনা’ নাটকে খনা এক বিদুষী যার অন্য নাম লীলাবতী। তার গল্পটা অনেক পুরনো, কিংবদন্তীর ঘেরাটোপে বন্দী। তবু যেটুকুর তল খুঁজে পাওয়া যায় তাতে বোধ হয় যে তিনি এক বিদুষী জ্যোতিষী, স্বামী মিহিরও একই বৃত্তিধারী। শ্বশুর যশস্বী জ্যোতিষী বরাহ মিহির। পুত্রজায়ার যশ, খ্যাতি ও বিদ্যার প্রভাব দর্শনে বরাহের হীনমন্যতা ও ঈর্ষা। শ্বশুরের নির্দেশে লীলাবতীর জিহ্বা কর্তন ও তার ‘খনা’ হয়ে ওঠার গল্প পেরিয়েছে প্রজন্মের সীমানা।

খনার বচনের মাঝে টিকে থাকা শত বছরের আগের জল, মাটি, ফসল আর মানুষের গন্ধ মাখা জ্ঞান আর সত্যটুকু কি সত্যি লীলাবতীর? নাকি এ সত্য-তথ্য সবই এ ভূ-খন্ডের বৃষ্টি, পলি, আর জল হাওয়ার সাথে মিশে থাকা যুগান্তরের সামষ্ঠিক জ্ঞানের সংকলন? লীলাবতী শুধুই কি একজন নারী বলে তার পরিণতি নির্মম, নাকি তিনি নারী হয়ে মিশেছিলেন চাষাভুষোর সনে; সেই তার কাল? পুরুষতন্ত্র না শ্রেণী কাঠামো; নাকি উভয় দাঁড়ায় লীলাবতীর বিপ্রতীপে? মিহির বা প্রাকৃত লোকালয় কারোর পরোয়া না করা জীবন ত্যাগী নেশার ঘোর তাকে নিয়ে যায় দিগন্তের ওপার। খনার সত্য শুধু থেকে যায় কৃষকের মুখে। তবু প্রশ্ন থাকে, খনার সত্যই কি একক সত্য? নাকি আজকে নির্ভুল যা কাল তা হতে পারে অসত্য? শুধু সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর যে মৃত্যুনেশা তাঁর সে নেশা কি এক রোখা জেদ? খনা নিজেই নিজেকে করেন সম্মুখীন প্রশ্নের।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোঃ আলী হায়দার, মিজানুর রহমান, সামিনা লুৎফা নিত্রা, তৌফিক হাসান, ইমরান খান মুন্না, শারমিন ইতি, খালিদ হাসান, আব্দুস সালাম, আব্দুল কাদের, তাহমিনা সুলতানা মৌ, ব্রাত্য আমীন, জিয়াউল আবেদীন রাখাল, বাকিরুল ইসলাম, ইভান রিয়াজ, সেউতি শাহগুফতা, পঙ্কজ মজুমদার, লায়েকা, কনা, দোলা, তাহিম, অনিন্দিতা, জগ ও কাজী রোকসানা রুমা।

নাটকটির মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনা করেছেন আবু আউদ আশরাফী, সুর ও সংঙ্গীত পরিকল্পনা করেছেন ব্রাত্য আমিন, শারমিন ইতি ও জিয়াউল আবেদীন রাখাল। পোষাক পরিকল্পনায় তাহমিনা সুলতানা মৌ ও তৌফিক হাসান ভূঁইয়া। কোরিওগ্রাফি করেছেন মোহামদ রাফি ও নাসির উদ্দিন নাদিম।

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন