অনিরাপদ পানিতে বেশি ঝুঁকি শিশুদের

প্রকাশ: June 27, 2015
CREATOR: gd-jpeg v1.0 (using IJG JPEG v62), quality = 72

পানের জন্য নিরাপদ পানির দুষ্প্রাপ্যতা নিয়ে ২৭ জুন ২০১৫ তারিখের কালের কন্ঠে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি আমরা ঢাকার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

বিশ্বে প্রতিদিন পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় দুই হাজার শিশু ডায়রিয়াজনিত রোগে মারা যাচ্ছে। এর মধ্যে এক হাজার ৮০০ শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ী অনিরাপদ পানি ও অস্বাস্থ্যকর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা। এই ধারায় বাংলাদেশে প্রতিবছর ৩০ হাজার মানুষ ডায়রিয়াজনিত রোগে মারা যায়। এ ছাড়া দেশে দুই কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষের পানীয়জলে রয়েছে আর্সেনিকের মাত্রাতিরিক্ত বিষক্রিয়া। যদিও অল্পসংখ্যক শিশুর মধ্যে আর্সেনিক বিষক্রিয়ার চিহ্ন দেখা যায়, তবু এটা তাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে দিতে পারে। আর্সেনিক ও ম্যাঙ্গানিজের মতো ভারী ধাতু শিশুদের মানসিক উন্নতিকে ব্যাহত করে। অনিরাপদ পানি পানের ফলে বাংলাদেশে শিশুদের ঝুঁকির এমন চিত্র তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ।

ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- যদি প্রতিদিন কিন্ডারগার্টেনের ৯০ শিক্ষার্থী ভর্তি একটি বাস সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ত এবং সব শিক্ষার্থী মারা যেত, তাহলে বিশ্ব সেদিকে নজর ফেরাত। অথচ নিম্নমানের পানি, পয়োনিষ্কাশন ও দুর্বল স্বাস্থ্যরক্ষা ব্যবস্থার কারণে প্রতিদিন ঠিক এমনটাই ঘটছে। ডায়রিয়াজনিত রোগে শিশু মৃত্যুর প্রায় ৯০ শতাংশই সরাসরি দূষিত পানি, পয়োনিষ্কাশনের অভাব অথবা অপ্রতুল স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িত।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনিরাপদ পানির দিক থেকে বাংলাদেশ এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বড়দের তুলনায় শিশুদের ঝুঁকি আরো বেশি। বিশেষ করে পানিবাহিত জীবাণু থেকে শিশুরা দ্রুত আক্রান্ত হয়। তাই খাবার পানির ক্ষেত্রে বড়দের চেয়েও অনেক বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন শিশুদের জন্য। কিছুটা খরচ হলেও শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঘরে ঘরে নিরাপদ পানির আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা জরুরি।

বাংলাদেশ হেপাটোলজি সোসাইটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশে লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যান্সার, ফ্যাটি লিভার, ‘এ’ ও ‘ই’ ভাইরাসজনিত লিভার রোগ, পরজীবীজনিত লিভার রোগসহ লিভারের অন্যান্য রোগে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কোটি লোক আক্রান্ত। এর মধ্যে কেবল দেড় কোটি মানুষ লিভারের দীর্ঘস্থায়ী রোগ হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে, আট লাখ হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ রয়েছে শিশু। বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যেও লিভারের রোগের প্রাদুর্ভাব রয়েছে। প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ শিশু হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।

জাতীয় অধ্যাপক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এম আর খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিশুদের হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ উভয়ই আমাদের জন্য উদ্বেগের কারণ। আর এ থেকে রক্ষার জন্য শিশুদের দূষিত পানি থেকে দূরে রাখতে হবে। যেকোনো মূল্যে শিশুদের জন্য নিরাপদ পানি পানের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বাইরের খোলামেলা বাসি খাবার বর্জন করতে হবে। হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন প্রদান, রক্ত গ্রহণের আগে পরীক্ষা করে নেওয়া, ইনজেকশন নেওয়ার সময় দূষিত সুচ ব্যবহার না করা, সব ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক বা আচরণ পরিহার করতে হবে। বিশেষ করে বাসা-বাড়িতে শিশুদের সুরক্ষায় নিরাপদ পানির সুব্যবস্থা করতে হবে।’

সূত্র: কালের কন্ঠ

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন