অনিরাপদ পানি পান করে ঢাকার ৯৭ লাখ মানুষ

প্রকাশ: July 13, 2015
pani

ঢাকাবাসীর অনিরাপদ পানি পান নিয়ে টিআইবি-র প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে খবর প্রকাশিত হয়েছে ১৩ জুলাই ২০১৫ তারিখের বণিক বার্তা পত্রিকায়। আমরা ঢাকার পাঠকদের জন্য খবরটি তুলে ধরা হল-

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নামছে। বিদ্যুত্ ঘাটতি নিয়মে পরিণত হয়েছে। জলাভূমি দখল ও জলাধার দূষণ নৈমিত্তিক ব্যাপার। ঢাকা ওয়াসার নিয়ন্ত্রণাতীত এসব বিষয়ের সমস্যার সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে কার্যাদেশ পরিবর্তন ও কাজের অনুমোদন দেয়া হয়। সংস্থার কর্মকর্তারাই ওয়াসার ভূমি দখল করেছেন। ভেতর-বাইরের এত বৈরিতার মধ্যেও ঢাকা ওয়াসার অর্জন কম নয়। দৈনিক ২ হাজার ৩০০ মিলিয়ন চাহিদার বিপরীতে সংস্থাটি ২ হাজার ৪২০ মিলিয়ন লিটার পানি সরবরাহের ক্ষমতা রাখে। তবে ওয়াসার এসব অর্জনের সুফল পাচ্ছে না ঢাকার সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক নেতা-দালালদের দ্বারা পানি সরবরাহ কার্যক্রম চলমান থাকায় বিশুদ্ধ পানি পায় না অধিকাংশ মানুষ। শহরের ৯৭ লাখ মানুষকে এখনো অনিরাপদ পানি পান করতে হয়। ঢাকা ওয়াসা সম্পর্কে এসব পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে।

‘বাংলাদেশ পানি ব্যবস্থাপনায় শুদ্ধাচার: বর্তমান প্রেক্ষিত ও উন্নয়ন সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ বেজলাইন গবেষণা প্রতিবেদন প্রণয়ন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ হাফিজুর রহমান ও অধ্যাপক ড. শেখ তৌহিদুল ইসলাম। টিআইবির সহায়তায় এ গবেষণা সম্পন্ন করেন তারা। গতকাল গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে ঢাকা ওয়াসা সম্পর্কে আরো কিছু অভিযোগ উঠে আসে। বক্তারা বলেন, পানি সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ এলেও তা আমলে নেয় না ওয়াসা কর্তৃপক্ষ।

টিআইবির ধানমন্ডির কার্যালয়ে প্রতিবেদনের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে ড. সৈয়দ হাফিজুর রহমান ঢাকা ওয়াসা ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অর্জন, চ্যালেঞ্জ, সুশাসন ও শুদ্ধাচার-সংক্রান্ত নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঢাকা ওয়াসা বর্তমানে ১ কোটি ৪৫ লাখ মানুষকে পানি সরবরাহ ও বর্জ্য নিষ্কাশনের দায়িত্বে রয়েছে। ২ হাজার ৩০০ মিলিয়ন লিটার পানির চাহিদার বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ২ হাজার ৪২০ মিলিয়ন লিটার পানি সরবরাহ করতে পারে। তবে শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা যায়। ধনী, মধ্যবিত্ত ও দরিদ্রভেদে দূষণমুক্ত পানি সরবরাহ করা হয়। ফলে অনিরাপদ পানি পান করতে হয় ঢাকার মোট জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশ মানুষকে।

গবেষণা প্রতিবেদনে ঢাকা ওয়াসার পাশাপাশি পাউবোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করা হয়। পাউবো সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, পাউবোর কাজের ক্ষেত্রে বেশকিছু পদ্ধতিগত সমস্যা রয়েছে। পানি ব্যবস্থাপনায় পলি বিবেচনায় আনা হয় না। নদীর ভাঙন রোধ ও বিভিন্ন উন্নয়নকাজে নদী ভরাট করা হলেও তার ব্যবস্থাপনায় সঠিক পদক্ষেপ নেয়া হয় না। বিভিন্ন প্রকল্পে ভুয়া বিলের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাত্ করা হয়। দুর্বল আইন ও সঠিক নির্দেশনার অভাবে প্রতিষ্ঠানটি কখনো মানুষকে যথার্থ সেবা দিতে পারছে না।

গবেষণার সার্বিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মানুষের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিশুদ্ধ পানি। দেশে পানির পর্যাপ্ততা থাকলেও সরবরাহ অনিয়মের কারণে জনগোষ্ঠীর বিরাট অংশ অনিরাপদ পানি পান করে। দুর্নীতির দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় দুর্নীতি কমছে না।

তিনি বলেন, সরকার প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করছে। সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। তবে দুর্বল আইন এবং সঠিক নির্দেশিকার অভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

সূত্র: বণিক বার্তা

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন