ওভারব্রিজ ব্যবহারে আগ্রহ কম, নেই পর্যাপ্ত জেব্রা ক্রসিং

প্রকাশ: August 2, 2015
rasta parapar

রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে ঢাকাবাসীর মধ্যে ওভারব্রিজ ব্যবহারে আগ্রহ কম, এমন উল্লেখ করে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে ২ আগস্টের দৈনিক ইত্তেফাকে। প্রতিবেদনটি আমরা ঢাকার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাব মতে, রাজধানীর ৫১ স্পটে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছে মানুষ। সিগন্যাল না মেনে যেখানে-সেখানে রাস্তা পারাপারের কারণে অকালে ঝরছে অনেক প্রাণ। সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ পথচারীদের অসচেতনতা। এছাড়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত জেব্রা ক্রসিং নেই।

পুলিশের হিসাব মতে, প্রতি বছর প্রায় ৪০০ মানুষ রাজধানীতে গাড়িচাপায় নিহত হয়। বিভিন্ন গবেষণায় সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের কথা বলা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। এদিকে যেখানে-সেখানে রাস্তা পারাপারের ফলে দুর্ঘটনা, মৃত্যুঝুঁকি ও রাজপথে যানজট বাড়ছে।

সড়ক পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক সাংবাদিকদের জানান, পরিবহন সেক্টরে বিশৃঙ্খলা ও চালকদের অদক্ষতা সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। চালকের অদক্ষতার পাশাপাশি গাড়ি ও সড়কের ত্রুটি রয়েছে। একই সঙ্গে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই। পথচারীদেরও সচেতনতার অভাব রয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট বলছে, ৫১টি স্পটে পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করছে। এসব স্পটকে দুর্ঘটনার জন্য বিপজ্জনক হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে। সবচেয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ মোড়গুলো হচ্ছে- যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা, ফার্মগেট, কাওরান বাজার মোড়, বিজয় সরণি, তোপখানা থেকে পুরানা পল্টন মোড় ও জনপথ মোড়।

অন্যদিকে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার ও ব্র্যাকের এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে ঝুঁকিপূর্ণ মোড়গুলোতে। পুলিশের হিসাবে- ফার্মগেট, সার্ক ফোয়ারা ও বাংলামোটরসহ ব্যস্ত মোড়গুলোতে পথচারীরা সংকেত না মেনে যেখানে-সেখানে দল বেঁধে রাস্তা পার হচ্ছে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি রাস্তায় যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ঢাকা শহরে হেঁটে যাতায়াত করেন ৩৭ ভাগ মানুষ। হাঁটার নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ না থাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের মধ্যে পথচারীর সংখ্যাই বেশি। অপর্যাপ্ত, নিম্নমানের হাঁটার অনুপযোগী ফুটপাথ এবং রাস্তা পারাপারের তেমন কোন ব্যবস্থা না থাকার কারণে এমনটা ঘটছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে অনেক দিন ধরে আন্দোলন করছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে শুধু সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নিলে হবে না। এজন্য প্রত্যেক নাগরিককেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। রাস্তা পারাপারসহ গাড়ি চলাচলে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে।

ঢাকা মহানগর ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বেশিরভাগ সময় দেখা যায় পথচারীরা ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে রাস্তা ব্যবহার করছে। এতে করে যানজট বাড়ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

ট্রাফিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পথচারীদের ওভারব্রিজ ব্যবহারে আগ্রহ কম। সরেজমিনে বাংলামোটর, শাহবাগ, শুক্রাবাদ, আসাদগেট, আজিমপুর, বুয়েট, খিলক্ষেত, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়াসহ মিরপুরের বিভিন্ন ওভারব্রিজ ঘুরে দেখা গেছে, পথচারীরা রাস্তার ওপর দিয়ে পার হচ্ছে বেশি আর ওভারব্রিজ ব্যবহার করছে কম।

জানা যায়, রাস্তা পারাপারের জন্য সংকেত বাতি জ্বলে। প্রতিবার সবুজ সংকেতের সময় মানুষ যেভাবে রাস্তা পারাপার হচ্ছে, তাতে বাড়তি ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড অতিরিক্ত সময় লাগে। এতে আশপাশের অন্য পথের সংকেতের ওপর চাপ পড়ে। আর এভাবেই ঢাকা শহরের যানজট বাড়ছে।

বেহাল ওভারব্রিজ :জানা গেছে, দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে ৯১টি ওভারব্রিজ রয়েছে। ৫৩টি উত্তর সিটি করপোরেশনের এবং ২৮টি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের। বাকি ১০টি সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের। কুড়িল বিশ্বরোডে উড়াল সড়কসংলগ্ন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি ওভারব্রিজ আছে। দেখা গেছে, বেশিরভাগ ওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস পথচারীবান্ধব নয়। তিনটি আন্ডারপাসের দুইটি ব্যবহার অনুপযোগী। পথচারীরা ওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার করছে না।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

You must be logged in to post a comment Login