পথচারীদের পদচারী-সেতু ব্যবহারে আগ্রহ কম

প্রকাশ: July 23, 2015
foot over bridge

রাস্তা পারাপারে পথচারীদের পদচারী-সেতু ব্যবহারে অনীহাকে উল্লেখ করে ২৩ জুলাই ২০১৫ তারিখের প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি আমরা ঢাকার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

বাংলামোটরে রাস্তা পারাপারের জন্য এপারে-ওপারে শতাধিক মানুষ। সবাই ট্রাফিক সংকেতের অপেক্ষায়। যেই সবুজ বাতি জ্বলল, অমনি পথচারীরা পারাপার হয়ে গেল। কিন্তু এর ওপরে থাকা পদচারী-সেতুটি প্রায় খালি। এই চিত্র রাজধানীর বেশির ভাগ পদচারী-সেতুর। প্রথম আলোর সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য সড়কের ওপর পদচারী-সেতু থাকলেও পথচারীরা তা ব্যবহার করছে না। ঝুঁকি নিয়ে সড়কের ওপর দিয়েই রাস্তা পারাপার হচ্ছে তারা। আর এতে নিয়মিত ছোট-বড় দুর্ঘটনা তো ঘটছেই, কখনো মানুষ গুরুতর দুর্ঘটনায় মারাও যাচ্ছে।

ট্রাফিক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পথচারীদের পদচারী-সেতু ব্যবহারে আগ্রহ কম। এ ছাড়া রাজধানীর রাস্তায় যানজট বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে এটি। যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে ট্রাফিক বিভাগ গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে বাধ্যতামূলক পদচারী-সেতু ব্যবহারের নিয়ম করে। শুরুর কয়েক দিন পদচারী-সেতু ব্যবহার না করার কারণে কয়েকজনকে জরিমানাও করা হয়। কিন্তু বর্তমানে এ তৎপরতা আর দেখা যাচ্ছে না।

সরেজমিনে বাংলামোটর, শাহবাগ, কারওয়ান বাজার আন্ডারপাস, শুক্রাবাদ, আসাদগেট, আজিমপুর, বুয়েট, খিলক্ষেত, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়াসহ মিরপুরের বিভিন্ন পদচারী-সেতু ঘুরে দেখা গেছে, পথচারীরা রাস্তার ওপর দিয়ে পার হচ্ছে বেশি আর পদচারী-সেতু ব্যবহার করছে কম।

সরেজমিনে ঈদের কয়েক দিন ধারাবাহিকভাবে বাংলামোটর পদচারী-সেতুতে গিয়ে দেখা গেছে, এতে তেমন লোকজনের যাতায়াত নেই। তবে এর নিচেই রাস্তা পারাপার করছে শত শত মানুষ। রাস্তা পারাপারের জন্য সংকেত বাতি জ্বললেই অপেক্ষমাণ মানুষ রাস্তা পারাপার হচ্ছে। অথচ সবুজ সংকেত বাতির জন্য পথচারীদের যে সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, এই সময়ে অনায়াসে পদচারী-সেতু দিয়ে পারাপার করা যেত। এভাবে রাস্তা পার হচ্ছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোস্তামিন বিল্লাহ। পদচারী-সেতু ব্যবহার না করে এভাবে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপারের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, পদচারী-সেতু ব্যবহারের অভ্যাস নেই তাঁর। এ ছাড়া তিনি দাবি করেন, রাস্তা দিয়ে পারাপারে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও এতে পদচারী-সেতু দিয়ে যাওয়ার থেকে সময় কম লাগে। একই স্থানে পদচারী-সেতু ব্যবহার না করে রাস্তা পার হচ্ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন। তিনি বলেন, ‘আসলে পদচারী-সেতু দিয়েই পার হওয়া উচিত, হাতে সময় কম তো, তাই রাস্তা দিয়েই পার হলাম।’

এই স্থানে দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট সারওয়ার ও শাহ আলম। সারওয়ার জানান, মানুষের পদচারী-সেতু ব্যবহারের আগ্রহ কম। পদচারী-সেতু ব্যবহার না করে রাস্তা দিয়েই পারাপারের প্রবণতা বেশি। যে সময় তারা সবুজ সংকেতের জন্য অপেক্ষা করছে, সেই সময়ই তারা অনায়াসে পদচারী-সেতু ব্যবহার করতে পারে। এতে দুর্ঘটনা এড়ানো যায় আর তাঁদের ওপর চাপ কম থাকে। এ ছাড়া পথচারী পারাপারের বিষয়টি আলাদা করে নজর দিতে হয় বলে তাঁদের অন্যান্য কাজেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বলে জানান তিনি।

শাহ আলম জোর দিলেন এই কারণে সৃষ্ট যানজটের কথায়। তিনি জানান, প্রতিবার সবুজ সংকেতের সময় মানুষ যেভাবে রাস্তা পারাপার হচ্ছে, তাতে বাড়তি ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড অতিরিক্ত সময় লাগে। এতে আশপাশের অন্য পথের সংকেতের ওপর চাপ পড়ছে। আর এভাবেই সারা ঢাকা শহরের যানজট বাড়ছে। অথচ মানুষ যদি রাস্তা দিয়ে পারাপার না হয়ে পদচারী-সেতু ব্যবহার করত, তাহলে এই বাড়তি চাপ পড়ে না যানজটেও এর প্রভাব পড়বে না।

পদচারী-সেতু ব্যবহার না করার এমন চিত্র দেখা গেল শাহবাগেও। বিএসএমএমইউ হাসপাতালের সামনের পদচারী-সেতু থাকলেও সেখান দিয়ে যেসব মানুষ যাতায়াত করছে, তার থেকে তিন গুণ বেশি মানুষ রাস্তা দিয়ে পারাপার হচ্ছে। এখানের রাস্তা দিয়ে বারডেম হাসপাতাল থেকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের দিকে আসার সময় কথা হয় বেসরকারি চাকুরে মইনুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, পদচারী-সেতু দিয়ে পার হতে সময় বেশি লাগে। তাই এভাবেই রাস্তা পার হন। তিনি স্বীকার করেন, এভাবে রাস্তা পার হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। গত বছরের ২৬ নভেম্বর প্রথমবারের মতো পদচারী-সেতু ও পাতালপথ ব্যবহার না করে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করায় ৩৩১ জন পথচারীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ডিএমপির উদ্যোগে এই অভিযান চলে। ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানাও করা হয়।

ঢাকা মহানগর ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, পদচারী-সেতু ব্যবহার না করে পথচারীরা রাস্তা ব্যবহারের কারণে যানজট বাড়ে। তিনি জানান, ওভারব্রিজ ও পাতালপথ ব্যবহার না করলে জরিমানার ওই কার্যক্রম ছিল পরীক্ষামূলক ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য। এটি বন্ধ থাকলেও বর্তমানে ট্রাফিক বিভাগ নানাভাবে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে।

সূত্র: প্রথম আলো

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন