বর্ষাতেই কেন খোঁড়াখুঁড়ি?

প্রকাশ: May 25, 2015
u75611_170592_528038

ঘটনা লন্ডন শহরের। সেখানকার এক নাগরিক অনুমতি না নিয়ে গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলেছিলেন রাস্তায়। এ অপরাধে তাঁকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছিল। অপরাধী ব্যক্তিকে ধরতে বাসা ঘেরাও করে পুলিশ। নিজেকে রক্ষা করতে বারান্দা থেকে লাফ দেন সেই ব্যক্তি। কিন্তু বিধি বাম- ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়ে পা ভাঙ্গে তাঁর। পরে ঢাকনা খোলা রাখার অভিযোগে পানি সরবরাহকারী সেবা সংস্থাকে জরিমানা করে আদালত। অপরাধী ব্যক্তি যে পরিমাণ জরিমানা পেয়েছিলেন, তা ছিল আর্থিক দণ্ডের চেয়েও অনেক বেশি!

কিন্তু এরকম কোন চর্চা নেই নগরীর সেবা সংস্থাগুলোরে মধ্যে। রাজধানী ঢাকায় দিনের পর দিন রাস্তার করুণ অবস্থা বিরাজ করছে। সিটি করপোরেশন আইন অমান্য করে সরকারের বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বর্ষার মৌসুমে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ অব্যাহত রেখেছে। ফলে বাড়ছে নগরবাসীর দুর্ভোগ। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃষ্টির সময় যাতে নগরবাসীর দুর্ভোগে পড়তে না হয় তা মাথায় রেখেই এ সব কাজ ১৫ মের মধ্যে শেষ করার নিয়ম রাখা হয়েছে।

বর্ষার শুরু থেকেই তিতাস, বিটিসিএল, ওয়াসা, ডেসাসহ বিভিন্ন সেবা কর্তৃপক্ষ পাল্লা দিয়ে রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ি করে। এই রীতি থেকে আর বের হওয়া সম্ভব হয়নি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর। রাস্তা কাটার পর কংক্রিট কিংবা নুড়ি-বিটুমিনের হালকা ঢালাই কোথাও ইট-বালু চাপা দিয়ে কাজের দায় সারে তারা। ফলে অল্প সময়ে রাস্তা ভেঙ্গে যায়, যা চলতে থাকে দিনের পর দিন।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট রাস্তা দুই হাজার ২৮৯ কিমি। যথাসময়ে সংস্কারের অভাবে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার সড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফ্লাইওভার পাইলিংসহ বিভিন্ন নির্মাণকাজ এবং ওয়াসা, ডেসা ও টিএ্যান্ডটিসহ বিভিন্ন সংস্থার খোঁড়াখুঁড়িতে বিপর্যস্ত ৪০০ কিলোমিটার সড়ক। এ ছাড়া ওয়াসার লাইন ফেটে কিংবা ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে আরও ২০০ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ থেকে নষ্ট হয়েছে।

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন