বসবাসের অযোগ্য নগরী ঢাকা

প্রকাশ: July 28, 2015
Dhaka bad

ঢাকা নগরের দুরবস্থা নিয়ে ২৮ জুলাই ২০১৫ তারিখের যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি আমরা ঢাকার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

বিশ্বে বসবাসের জন্য সবচেয়ে অযোগ্য ১০টি শহরের নামের তালিকা সম্প্রতি প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকী ‘দ্যা ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ (ইআইইউ)। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানটি দখল করে আছে রাজধানী ঢাকা শহর। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের অবস্থান সবার শীর্ষে। অভ্যন্তরীণ অপরাধের মাত্রা, সংঘাতের হুমকি, স্বাস্থ্যসেবার মান, বিধিনিষেধের মাত্রা, তাপমাত্রা, বিদ্যালয়, পরিবেশ, প্রতিবেশ, এবং পরিবহন যোগাযোগ এসব বিষয়ের ওপর গবেষণা চালিয়ে মানুষ বসবাসের ‘অনুপুযুক্ত’ বা ‘অযোগ্য’ শহরের নাম প্রকাশ করেছে ‘ইআইইউ’। তালিকায় ক্রম অনুসারে বাংলাদেশের পরে রয়েছে পাপুয়া নিউগিনির রাজধানী শহর পোর্ট মোরেসবি, নাইজেরিয়ার লাগোস, জিম্বাবুয়ের হারারে, আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্স, পাকিস্তানের করাচি, লিবিয়ার ত্রিপোলি, ক্যামেরুনের দাওয়ালা, ইরানের তেহরান এবং আইভরি কোস্টের আবিদজান। ২০১৪ সালে বসবাসের অযোগ্য এবং নিকৃষ্ট শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা শহর শীর্ষ স্থানে ছিল। এক ধাপ উন্নতি করে এ বছর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখের ঘন বসতিপূর্ণ এ রাজধানী শহর।

বুয়েটের গবেষণায় অপরিকল্পিত নগরী
যানজট আর জলাবদ্ধতার শহর রাজধানী ঢাকা। ভূমি ব্যবহারের যথাযথ নীতিমালা না মেনে গড়ে উঠেছে বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন। নগরীতে বিক্ষিপ্তভাবে গড়ে ওঠা অবকাঠামোর ৭৩ শতাংশই পুরোপুরি অপরিকল্পিত। এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা শহরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে। বুয়েটের এ গবেষণায় দেখানো হয়, জলাশয় ও নিম্নাঞ্চল ভরাট করে অপরিণামদর্শী উন্নয়নের ফলে অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে রাজধানীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। অপ্রতুল সড়ক ব্যবস্থার কারণে বিপর্যস্ত পরিবহন খাতও। শহরের বাসিন্দাদের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ সড়কের প্রয়োজন হলেও রাজধানীতে রয়েছে মাত্র ৮ শতাংশ। এখানে মোট সড়কের আয়তন ১ হাজার ২৮৬ কিলোমিটার। তার ৫২ শতাংশই মোটরযান চলাচলের অনুপযোগী। এ কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে যানজট।

বায়ুদূষণের নগরী ঢাকা
অন্য যে কোনো দূষণের চেয়ে এগিয়ে আছে বায়ুদূষণ। রাজধানীর চারপাশে থাকা ইটভাটা, ত্রুটিপূর্ণ মোটরগাড়ি থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া, শিল্প-কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া, নতুন রাস্তা সংস্কারের কাজ, যত্রতত্র খোলা ডাস্টবিন দিন দিন নগরীর বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান যাত্রাবাড়ি, সাত রাস্তার মোড়, মগবাজার, মৌচাকে ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকায় আশপাশের এলাকা সব সময় ধূলিধূসর অথবা কর্দমাক্ত হয়ে থাকছে। অন্যদিকে গাছপালা ধ্বংস করে অপরিকল্পিত নগরায়নও বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। গবেষকদের মতে, ঢাকায় বায়ুদূষণ সহনীয় মাত্রার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি। বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে এর মাত্রা আরও বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ জরিপে বায়ুদূষণের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ।

গ্লোবাল এনভায়ারনমেন্ট ইনডেক্স ২০১৪ অনুযায়ী, বায়ুদূষণের দিক দিয়ে সবচেয়ে খারাপ দেশ বাংলাদেশ। শহর বিবেচনায় রাজধানী ঢাকা সবচেয়ে এগিয়ে। বাতাসে কার্বনের গ্রহণযোগ্য সর্বোচ্চ পরিমাণ যেখানে ২৯০ থেকে ৩০০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) হওয়ার কথা, সেখানে ঢাকার মাত্রা ৩৫০ পিপিএম।

বিশ্বব্যাংকের এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, শুধু বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৫ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। বিভিন্ন রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে ৬৫ লাখ মানুষ। আর এসব রোগের চিকিৎসায় ঢাকায় প্রতিবছর ১৩২ থেকে ৫৮৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে।

বায়ুদূষণের প্রধান শিকার শিশুরা। যন্ত্রদানবের কালো ধোঁয়া, ইটের ভাটা, কল-কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও অনিয়ন্ত্রিত ধূমপান এবং গাছগাছালির সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার কারণে ঢাকার বাতাসে সিসার মাত্রা মারাত্মক বেড়ে গেছে। বর্তমানে ঢাকার বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে সিসার মাত্রা ৪৬৩ নেনোগ্রাম, যা গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে ১০ গুণ বেশি। সালফারডাই অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।

মৃতপ্রায় আশপাশের নদ-নদী
রাজধানীকে ঘিরে জীবন্মৃত শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ আর বুড়িগঙ্গা। এখন মৃতপ্রায় মানুষের কারণে বিষাক্ত হয়ে গেছে এই নদীগুলো।

বুড়িগঙ্গাকে বলা হতো ঢাকার প্রাণ। বর্তমানে ৬২ রকমের রাসায়নিক বর্জ্যে বুড়িগঙ্গাকে বিষের দরিয়ায় পরিণত করছে। বাতাসে চারপাশে ছড়াচ্ছে অসহনীয় দুর্গন্ধ। নদীর তলদেশে জমাট বেঁধেছে ৮ ফুট পুরু পলিথিনের স্তর। এন্টিবায়োটিকসহ হাসপাতালের বর্জ্যও মিশছে এর পানিতে। কমে গেছে দ্রবীভূত অক্সিজেন। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও প্রাণিবিদ্যার হিসাবে, মৎস্য ও জলজ প্রাণীর জন্য পানিতে প্রতি লিটারে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমান ৫ মিলিগ্রাম বা তার বেশি থাকার কথা। অপরদিকে দ্রবীভূত হাইড্রোজেন আয়নের সক্রিয়তার (pH) মাত্রা কমপক্ষে থাকার কথা ৭। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) পরিচালিত এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নদীর বিশাল অংশের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ শূন্যের কাছাকাছি। এ অবস্থায় সেখানে কোনোভাবেই জলজপ্রাণী জীবিত থাকতে পারে না। ঢাকার প্রাণরূপী বুড়িগঙ্গা এখন নগরবাসীর আবর্জনা ফেলার ভাগাড় মাত্র।

পরিবেশ অধিদফতরের মতে, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানি দূষণের অন্যতম কারণ হচ্ছে শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য। হাজারীবাগের প্রায় ১৮৫টি চামড়া শিল্প কারখানা প্রতিদিন গড়ে ২১ হাজার ৬০০ ঘনমিটার অপরিশোধিত বর্জ্য নির্গত করছে। এই বর্জ্যই মূলত বুড়িগঙ্গা নদীর পানি দূষিত করছে।

মারাত্মক ঝুঁকিতে শ্রবণ ইন্দ্রিয়
রাজধানী ঢাকায় বসবাসরত সব বয়সী মানুষকেই শব্দ দূষণের কারণে শারীরিক ও মানসিক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, অফিস কক্ষে ৩০ থেকে ৪০ ডেসিবেল, রেস্তোরাঁয় ৪০ থেকে ৬০ ডেসিবেল পর্যন্ত এবং শহর এলাকায় ৪৫ ডেসিবেল শব্দমাত্রা সহনীয়। সংস্থাটির হিসাবে ৬০ ডেসিবেল মাত্রার বেশি শব্দ হলে সেই এলাকা শব্দ দুষণে দূষিত বলে চিহ্নিত হবে। পরিবেশ অধিদফতরের মাপকাঠিতে ‘শান্তিপূর্ণ’ এলাকায় দিনে ৪৫ এবং রাতে ৩৫ ডেসিবেল শব্দমাত্রা থাকা উচিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ মাপকাঠিতে আবাসিক এলাকায় দিনে ৫০ এবং রাতে ৪০ ডেসিবেল, বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৬০ ও রাতে ৫০ ডেসিবেল এবং কল-কারখানায় দিনে ৭৫ ও রাতে ৭০ ডেসিবেল শব্দমাত্রা সহনীয়। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, ঢাকায় যে কোনো ব্যস্ত রাস্তায় শব্দের তীব্রতা হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ ডেসিবেল, লাউড স্পিকারের কারণে আওয়াজের তীব্রতা ৯০ থেকে ১০০ ডেসিবেল, কল-কারখানায় শব্দের তীব্রতা ৮০ থেকে ৯০ ডেসিবেল, হোটেল-রেস্তোরাঁ কিংবা সিনেমা হলে শব্দের তীব্রতা ৭৫ থেকে ৯০ ডেসিবেল, কোনো অনুষ্ঠান বা উৎসবে শব্দের তীব্রতা ৮৫ থেকে ৯০ ডেসিবেল, স্কুটার বা মোটরসাইকেলের শব্দের তীব্রতা ৮৭ থেকে ৯২ ডেসিবেল এবং ট্রাক ও বাসের শব্দের তীব্রতা ৯২ থেকে ৯৪ ডেসিবেল।

শব্দের তীব্রতা নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি হয়ে গেলে শব্দ আর শব্দ থাকে না তা দূষিত আওয়াজে পরিণত হয়। সাধারণত ৬০ ডেসিবেল শব্দের তীব্রতায় আমরা সাময়িকভাবে বধির ও ১০০ ডেসিবেল আওয়াজের তীব্রতায় আমরা স্থায়ীভাবে বধির হয়ে যেতে পারি। গবেষকরা বলছেন, ১১০ ডেসিবেল শব্দ চামড়ায় শিহরণ তোলে, ১২০ ডেসিবেলে মস্তিষ্ককে যন্ত্রণা শুরু হতে পারে, ১৩০ ডেসিবলে বমি হতে পারে এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে, ১৪০ ডেসিবেলে শ্রবণ ইন্দ্রিয়তে প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে এবং ১৯০ ডেসিবলে শ্রবণশক্তি একেবারে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

গাছপালা উজাড় করে আবাসন
ঢাকা শহরে পরিণত হয়েছে ইটের পাঁজর বিশিষ্ট একটি লোহার খাঁচায়। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০০৮ অনুসারে যে কোনো প্লটে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ভবনের চারপাশে খোলা জায়গা ছেড়ে দিয়ে ‘ফ্লোর এরিয়া রেশিও’ (ঋঅজ) বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। বহুতল ভবন নির্মাণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড, ১৯৯৩ অনুসরণ করাও বাধ্যতামূলক। ভবনের সামনের বা চারপাশের খোলা জায়গা কোনো অবস্থাতেই পাকা না করে সেখানে উপযুক্ত প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ওষধি গাছ লাগানোর নির্দেশনাও আছে। কিন্তু এই শহরে যারা বাড়ি নির্মাণ করছেন, তারা আইন মেনে প্রকৃতির জন্য জায়গা ছেড়ে দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করছেন না। প্রকৃতির জন্য জায়গা না ছেড়ে বাড়তি একটা রুম করলে মাসে দশ হাজার টাকা ভাড়া হবে, এটাই এখন ঢাকা শহরের আত্মঘাতী বাস্তবতা। মানুষ এখন প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে বসবাসের কোনো চিন্তা করছে না। রাজউকের পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের কথাই ধরা যাক। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-র সমন্বয়কারী স্থপতি ইকবাল হাবিব এই প্রকল্প সম্পর্কে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেন, তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখেছেন এরই মধ্যে ১,৬০০ একর এলাকার গাছ এবং বন কেটে উজাড় করা হয়েছে। ভরাট করা হয়েছে জলাভূমি।

প্রতিদিন ৭ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য
রাজধানীর অলিগলি বা রাজপথে বেরোলেই বাসাবাড়ির বর্জ্যসেহ হরেক রকম বর্জ্যর কোনো অভাব নেই। বর্জ্যরে কারণে প্রতিদিন নানান রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। যত্রতত্র বর্জ্য ফেলায় ভরাট হচ্ছে নদী, খাল, লেক ও জলাশয়। দুই সিটি কর্পোরেশন থেকে ঢাকায় প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার টন বর্জ্য, যার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ডাম্পিং করা হয়। ২০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে বেসরকারি উদ্যোগে বিশেষ করে টোকাইদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে রিসাইক্লিং হয়। আর বাকিটা পথে-ঘাটে থেকে যায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে।

বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষা মতে, ঢাকা শহরে প্রতিদিন বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ডাম্পিং হয় ৩ হাজার ৮শ’ মেট্রিক টন। অপর এক বেসরকারি জরিপ অনুযায়ী প্রতিদিন গৃহস্থালি বর্জ্য উৎপাদিত হয় ৫ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন। এছাড়া মেডিকেলসহ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে ১ হাজার ৫০ এবং রাস্তাঘাট থেকে ৪শ’ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়। প্রতিদিন নগরীতে মাথাপিছু উৎপাদিত হয় ৫৬০ গ্রাম বর্জ্য। উৎপাদিত বর্জ্যরে মধ্যে আছে প্লাস্টিক, কাগজ, কাচ, ধাতু ও জৈব বর্জ্য।

হারিয়ে যাচ্ছে নগরীর নদী ও খাল
রাজধানী থেকে এরই মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে অন্তত ৩৬টি খাল। যে ১৬টি খাল টিকে আছে দখল ও দূষণে সেগুলোর অস্তিত্বও হুমকির মুখে রাজধানীতে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ৫০টি খালের অস্তিত্ব ছিল। গত ২৯ বছরে এর ৩৬টিই বিলীন হয়ে গেছে। বাদবাকি ১৬টির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেলেও দখল ও দূষণের হুমকির মধ্যে রয়েছে এসব জলাশয়। খাল উদ্ধারে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান অভিযান চালালেও কোনো ইতিবাচক সাফল্য অর্জিত হয়নি।

রাজধানীর খালগুলো বিলীন হওয়ার কারণে আবাসিক এলাকা থেকে বিৃষ্টির পানি সরতে পারছে না। ঢাকা নগরীতে জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ এইটিই। জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো বসবাসকারী সাধারণ মানুষের জন্য দুর্বিষহ ভোগান্তির ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সব দরণের দুষণের অভিশাপ থেকে মুক্তি চান ঢাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষ। কারণ নবাবী আমল থেকে গড়ে ওঠা ৪০০ বছরের পুরনো এ রাজধানী শহর তাদের ভালোবাসার কেন্দ্রস্থল।

কবি যথার্থই বলেছেন :
‘খান্দানি গোঁফ পাকাইয়া।/ বলেন, আমি ঢাকাইয়া।/ প্রাণের নগর/আমার শহর/দেখেন সবে তাকাইয়া।’

সামান্য বৃষ্টিতেই রাজপথে নদী
রাজধানীর অধিকাংশ সড়কে অস্বাভাবিক খানাখন্দ। আর অল্প বৃষ্টিতেই রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কগুলোর অধিকাংশই ডুবে যায়। দ্রুত পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় রাজপথে হাঁটু পানি জমে পুকুরে পরিণত হয়ে যায়। গত কয়েক দিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার কারণে রাজধানীর নিম্নাঞ্চলগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে এবং রাস্তার খানাখন্দের মধ্য দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। এ কারণে প্রতিদিনই রাস্তায় বিকল হয়ে পড়ছে যানবাহন। রাজধানীর প্রতিটি সড়কজুড়ে রয়েছে ছোট-বড় গর্ত। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে। পানি সরে গেলে শুরু হয় কাদার বিড়ম্বনা। অনেকের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এর অন্যতম প্রধান কারণ।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীর মিরপুর, মালিবাগ, মৌচাক, সাতরাস্তা, শান্তিনগরসহ প্রায় প্রতিটি রাস্তায় ফ্লাইওভার নির্মাণের জন্য কিংবা রাস্তা মেরামতের জন্য রাস্তা খুঁড়ে বড়-বড় গর্ত করা হয়েছে। কোথাও কোথাও কাজের ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়। অনেকে অভিযোগ করে বলেন, যেসব ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এই কাজগুলো হাতে নিয়েছেন তাদের গড়িমসির কারণে ঢাকার রাস্তা আজ পুকুর কিংবা খানখন্দে পরিণত হতে চলেছে। বৃষ্টি হলেই এসব এলাকায় হাঁটুপানি জমে যাচ্ছে। পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায় সময় বিকল হচ্ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা আর ছোট ছোট গাড়ি। নগর বিশেষজ্ঞদের অভিমত, রাজধানীতে অন্তত ২৬০ বর্গকিলোমিটার ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক থাকা উচিত। অথচ আছে মাত্র ১৫০ বর্গকিলোমিটার। প্রয়োজনের চেয়ে ৪০ শতাংশ কম এলাকার ড্রেনেজ নিয়েও কাজ করা যেত, যদি যেটুকু সম্পদ আছে তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা হতো।

পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজন সচেতনতা
পরিবেশ দূষণরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। সম্প্রতি বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের জন্য ঝুঁকিমুক্ত পৃথিবী গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। এটি করতে গেলে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতার বিকল্প নেই।
একটি দেশের মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা আব্যশক উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশের মোট ভূমির মাত্র ১৩ ভাগ বনভূমি। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বনায়নের এ পরিমাণ ছিল মাত্র ১০ ভাগ। বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দেশের ১৫ ভাগ বনভূমি কভারেজ করার জন্য এরই মধ্যে দুটি মধ্যম মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে বন বিভাগের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। এছাড়াও বনজীবীদের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করে বন ব্যবস্থাপনা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বনাঞ্চলকে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম টেকনোলজি প্রযুক্তির মাধ্যমে টেকসই বন ব্যবস্থাপনা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। অর্থনীতিতে বন ইকোসিস্টেমের সেবার অবদান নিরূপণের কার্যক্রম বাস্তবায়ন চলছে। এ বছর সারা দেশে ৪ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও পরিবেশমন্ত্রী জানান।

রাজধানীকে বসবাসযোগ্য করতে নদী দূষণমুক্ত করতে হবে: ড. আইনুন নিশাত
বিশিষ্ট পরিবেশ বিজ্ঞানী, পানি বিশেষজ্ঞ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত যুগান্তরকে বলেন, রাজধানীর আশপাশের নদীগুলো দখলে-দূষণে মরে যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় অনেক নদীর বুকে শীতকালে চাষাবাদ হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলায় পানি মারাত্মক দূষণের শিকার হচ্ছে। বুড়িগঙ্গার পানিতে প্রাণীদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। ২০১১ সালে বাংলাদেশের সংবিধানে যে নতুন ধারা সংযোজিত হয়েছে- সেখানে জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নদীসহ জলাভূমি রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব বেড়েছে। এক সময় নদী খননে সামাজিকভাবে অনেক পদক্ষেপ নেয়া হতো। ফলে নদীর নাব্যতা বজায় থাকত। সেসব পদ্ধতি ফিরিয়ে আনতে হবে। ১৯৪৭ সালের পর নদীগুলোর যত্নে তেমন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। ফলে একের পর এক নদী মরে যাচ্ছে। প্রায় ৫০০ বছর আগে গঙ্গার সঙ্গে বুড়িগঙ্গার সম্পর্ক ছিল। ক্রমে গঙ্গার সঙ্গে বুড়িগঙ্গার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে এখন যমুনার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে গেছে। এক-দেড়শ’ বছর আগেও নদী খনন ও রক্ষণাবেক্ষণে সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া হতো। বিভিন্ন সামাজিক পদক্ষেপ মৃতপ্রায় নদীগুলো সচল হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আইনুন নিশাত বলেন, ২০১১ সালে বাংলাদেশের সংবিধানে যে নতুন ধারা সংযোজিত হয়েছে তা বাস্তবায়ন করলে এ বিষয়ক অনেক সমস্যার সমাধান হবে। যে কারণে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে তা বন্ধ করতে হবে। দূষিত তরল নদীতে ফেলা রোধ করতে হবে। এর জন্য ১৯৯৫ সালের আইন আছে, ১৯৯৭ সালের রেগুলেশন আছে, ২০০০ সালের আইন আছে, ২০১০ সালের আইনের সংশোধনী আছে এবং ২০১১ সালের রাজনৈতিক অঙ্গীকার আছে।

নদী দূষণরোধে করণীয় সম্পর্কে এ পরিবেশ বিজ্ঞানী বলেন, রাজধানীর আশপাশের নদীগুলোর প্রাণপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য নদীগুলোর রাসায়নিক ও জীববৈচিত্র্যগত মান বজায় রাখার জন্য বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বসাতে হবে। হাজারীবাগ ট্যানারি এলাকা এবং তেজগাঁও শিল্প এলাকা, গাজীপুরের কোনাবাড়ী, একইসঙ্গে ইপিজেড এলাকায় যত কারখানা আছে সব কারখানায় ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটম্যান্ট প্লান্ট (ইটিপি) বসানোর কাজটি জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে হবে। এ ব্যাপারে বর্তমান সরকারের দৃঢ় অবস্থান থাকবে, সে ব্যাপারে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিকল্পনা মাফিক পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তুলতে হবে: মুকিত মজুমদার বাবু
প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু যুগান্তরকে বলেন, রাজধানী ঢাকাকে একটি দুর্বিষহ অপরিচ্ছন্ন শহর বললে কি বেশি বলা হবে! বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, পানিদূষণসহ বিভিন্ন দূষণ নিয়ে বেঁচে আছে এ শহরের প্রায় ২ কোটি মানুষ। ইটের ভাটা, ট্যানারি বর্জ্য, শিল্প বর্জ্য, মেডিকেল বর্জ্য, যত্রতত্র গৃহস্থালির বর্জ্য ফেলাসহ নানা কারণেই রাজধানীর পরিবেশের এ বিপর্যয় ঘটছে। প্রয়োজন, এখনই পরিকল্পনা মাফিক পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলা।

প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে পরিবেশ। বদলে যাচ্ছে চিরচেনা দৃশ্যপট। কামরাঙ্গীরচরে পানি ছাড়া ক’দিন আগেও কিছু ছিল না, আজ সেখানে গিজগিজ করছে মানুষ। টঙ্গী, গাজীপুর, সাভারে মাঠের পর মাঠ ছিল সবুজ ধানের ক্ষেত। অথচ আজ সেসব জায়গায় শিল্প প্রতিষ্ঠান আর উঁচু উঁচু ভবন দখল করে নিয়েছে। কলকারখানার কালো ধোঁয়ায় প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে বাতাস। ক্ষতিকর বর্জ্য গিয়ে মিশছে জলাশয়ে। ইটিপি ব্যবস্থা না থাকার কারণে পরিবেশের দূষণ কেবল বাড়ছেই। ঢাকার বায়ুদূষণে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে ইটভাটাগুলো। রাজধানীর ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে ৫০০-রও বেশি ইটভাটা রাজধানীর বায়ুদূষণ করছে। বুড়িগঙ্গার পানিকে এখন আর পানি না বলে নিকষ কালো তেল বলাই ভালো। বর্জ্যরে দূষণে দূষিত আজ বুড়িগঙ্গা। দখলদারদের লোভের কাছে প্রতিদিনই নদী হচ্ছে সংকুচিত। নাব্যতা কমে যাচ্ছে দিন দিন। নদী দখলের চিত্র এতটাই মাত্রাতিরিক্ত এবং ভয়াবহ বুড়িগঙ্গার সংযোগস্থল এখন খালে পরিণত হয়েছে। তাই ধলেশ্বরীর পানি আজ আর ঢোকে না বুড়িগঙ্গায়। বিভিন্ন জরিপ থেকে দেখা যায়, বুড়িগঙ্গা দূষণের ৬০ শতাংশ আসছে শিল্প বর্জ্য থেকে। ৩০ শতাংশ আসছে ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ডাম্পিং থেকে। আর মাত্র ১০ শতাংশের জন্য দায়ী অসচেতন জনগণ। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবহেলায় বুড়িগঙ্গার দুই পাশে অসংখ্য পাইপ দিয়ে সুয়ারেজের ময়লা সরাসরি বুড়িগঙ্গার পানিতে পড়ে। সদরঘাট থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত এ রকম দূষণের উৎসমুখ ১০৭টি। সদরঘাট থেকে ফতুল্লা বিজি মাউথ পর্যন্ত ৫৭টি উৎসমুখ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ওয়াসা ২২টি উৎসমুখ থেকে পানি ও বর্জ্য ফেলছে। টেক্সটাইল, ডাইং, প্রিন্টিং ও ওয়াশিং কারখানাগুলো প্রতিদিন ৬০ হাজার লিটার তরল বর্জ্য নদীর পানিতে ফেলছে। মুকিত মুজমদারের আহ্বান, সময় থাকতে আর প্রকৃতি ধ্বংস নয়, জীববৈচিত্র্যের বিনাশ নয়। সুন্দর প্রকৃতিতে সুস্থ জীবন গড়ার প্রত্যয় নিয়ে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতেই হবে সবাইকে।

পরিবেশ দূষণরোধে চাই আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন: সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান
নদী দখল এবং দূষণের ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান যুগান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে আসলে হাইকোর্টের বিস্তারিত রায় রয়েছে। সেটা হল, নদীর বর্ষাকালীন সর্বোচ্চ প্রবাহটা ধরে নদীর সীমানা চিহ্নিত করতে হবে। সেটা সিএস দাগ অনুযায়ী হবে। আর যদি সিএস দাগ থেকে নদী গতিপথ পরিবর্তন করে থাকে তাহলে পরিবর্তিত গতিপথকে সর্বোচ্চ প্রবাহ ধরে সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। আর নদী গতিপথ পরিবর্তন করলেও আগের জমি সরকারেরই থাকে যদি না সরকার জমি নিজ উদ্যোগে কাউকে লিজ দিয়ে থাকে।

দূষণের ব্যাপারে তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদফতর দূষণের জন্য শুধু অভিযুক্ত কারখানাগুলোকে জরিমানাই করে যায়, কিন্তু শিল্পকারখানাগুলোকে বন্ধ করে না। পরিবেশ অধিদফতর শুধু ৫০ লাখ টাকা ফাইন করল, কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠান পরে মন্ত্রণালয়ে আপিল করে সেটা কমিয়ে ২ লাখ টাকা করে। দেখা যায়, আপিলে গিয়ে পরিবেশ অধিদফতর বলে যেহেতু প্রতিষ্ঠানটি কর্মসংস্থান করছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে সেহেতু জরিমানা কমিয়ে ২ লাখ টাকায় আনা হল। পরিবেশ অধিদফতর যতক্ষণ পর্যন্ত তার কার্যপরিধিকে যথাযোগ্য গুরুত্ব এবং অন্যের যুক্তির কাছে নতজানু হবে; ততক্ষণ পর্যন্ত নদী দখলমুক্ত করার আশা করা যায় না।
তিনি আরও বলেন, সরকার মুখে পরিবেশ রক্ষার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত নিজ দলের ন্যস্ত স্বার্থগোষ্ঠীর কাছে মাথা নিচু করে ফেলে। কাজেই পরিবেশ রক্ষায় জনমতের চাপ এবং আদালতের চাপ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোকে আরও বেশি তৎপর হতে হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা নগরীতে রাজউকের ডিটেইলড এরিয়া প্লান অনুযায়ী আজ থেকে ৫ বছর আগে রাজধানীতে জলাশয়ের পরিমাণ ছিল ১০ শতাংশের মতো। কিন্তু এখন সেটি কমে দাঁড়িয়েছে ৬ শতাংশ। শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশেই বিশেষ করে নগর এলাকাতে এভাবে জলাশয় ভরাট করে মার্কেট ও কারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে।

জলাশয় ভরাট আমাদের দেশে নতুন কোনো বিষয় নয়। নতুন বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশে যে জলাশয় আইন ও পরিবেশ আইন রয়েছে তার কোনোটিই বাস্তবায়ন হয় না, হচ্ছে না।

সূত্র: যুগান্তর

You must be logged in to post a comment Login