বিদ্যুৎ সংযোগ ভূতের বাড়িতে!

প্রকাশ: June 8, 2015
eee

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে বিল তুলে আত্মসাৎ করার অভিযোগ তুলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে মানবকন্ঠ পত্রিকায়। প্রতিবেদনটি আমরা ঢাকার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির ভুতুড়ে বিলের কথা প্রায়ই শোনা গেলেও এবার খোদ ভূতের বাড়িতেই বিদ্যুৎ সংযোগ! কথাটি আজগুবি শোনালেও এমন অবিশ্বাস্য ঘটনাই ঘটিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে বিল তুলে সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে সংশ্লিষ্টরা নিজেরাই পকেটস্থ করেছেন। আর অফিসকে বোঝানো হয়েছে এসব গ্রাহকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অদৃশ্য থেকে এসব গ্রাহক কীভাবে বছরের পর বছর বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন এ প্রশ্ন সবার মনে থাকলেও দায়ীদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানগুলোর মালামাল মজুদের ক্ষেত্রেও করা হয়েছে পুকুরচুরি। কাগজে পত্রে মালামাল যে মজুদ আছে দেখানো হয়েছে, যাচাই করে ভাণ্ডারে এর সিকিভাগ মজুদ পাওয়া যায়নি।

জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির গতকালের বৈঠকে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের উপস্থাপিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কমিটি দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সরকারের ক্ষতি হওয়া এসব টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে।
কমিটির সভাপতি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. আবদুস শহীদ, পঞ্চানন বিশ্বাস, আ,ফ,ম, রুহুল হক, মো. শামসুল হক টুকু, মো. রুস্তম আলী ফরাজী এবং ওয়াসিকা আয়েশা খান অংশ নেন। সিঅ্যান্ডএজি মাসুদ আহমেদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মনোয়ার ইসলাম ও অডিট অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ২০০৭-০৮ অর্থ বছরের হিসাব সম্পর্কিত মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের বার্ষিক অডিট রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা হয়। এ রিপোর্টে আপত্তির সঙ্গে জড়িত টাকার পরিমাণ ২৭ কোটি ৩২ লাখ ১৫৪ টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন শ্রেণীর গ্রাহকের নিকট বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ কোটি ৪৮ লাখ ৯৭ হাজার ৯৩৯ টাকা অনাদায়ী, সংযোগ বিচ্ছিন্ন গ্রাহকদের নিকট বিদ্যুৎ বিল বাবদ ২ কোটি ৬৭ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ টাকা অনাদায়ী এবং বিলম্বে বিল পরিশোধের জন্য সারচার্জ আদায় না করে শুধু বিদ্যুৎ বিল আদায় করায় সরকারের রাজস্ব ক্ষতি ৪৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩০৯ টাকা মর্মে উত্থাপিত অডিট আপত্তির প্রেক্ষিতে কমিটি অনাদায়ী টাকা আদায়ে আইনী উদ্যোগ গ্রহণের ব্যবস্থাসহ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের পাশাপাশি ৬০ দিনের মধ্যে সমুদয় অর্থ আদায় করে অডিট অফিসের মাধ্যমে কমিটিকে অবহিত করার সুপারিশ করে।

নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সিস্টেম লস নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যর্থতাজনিত কারণে সরকারের ক্ষতি ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৬৩ হাজার ৩০ টাকা এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সিস্টেম লস নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যর্থতাজনিত কারণে সরকারের ক্ষতি ৫ কোটি ৭৯ লাখ ১৩ হাজার ৮৮ টাকা মর্মে উত্থাপিত অডিট আপত্তির প্রেক্ষিতে কমিটি প্রি-পেইড মিটার সিস্টেম অতি দ্রুত চালু, ১০ শতাংশের বেশি সিস্টেম লস হলে দায়ীদের চিহ্নিত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সিস্টেম লসের মাত্রা ১০ শতাংশের নিচে কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার সুপারিশ করে।

ভাণ্ডারে সংরক্ষিত মজুদ মালামালের সঙ্গে যাচাই প্রতিবেদন প্রদর্শিত মজুদ মালামালের ঘাটতি থাকায় সরকারের ৪২ লাখ ৪৩ হাজার ১২০ টাকা ক্ষতি মর্মে উত্থাপিত অডিট আপত্তির প্রেক্ষিতে কমিটি মালামাল সঠিক আছে এ মর্মে প্রমাণক আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অডিট অফিসে জমাদান করে তাদের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুপারিশ করে।

বৈঠকে নিখোঁজ গ্রাহকের নিকট প্রাপ্য রাজস্ব অনাদায়জনিত সরকারের ক্ষতি ৪৫ লাখ ১৫ হাজার ৯২৭ টাকা মর্মে উত্থাপিত অডিট আপত্তির প্রেক্ষিতে কমিটি বিষয়টি নিষ্পত্তির সুপারিশ করে। কমিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন গ্রাহকদের নিকট বিদ্যুৎ বিল বাবদ অনাদায়ী থাকায় ৮৬ লাখ ৮৭ হাজার ৩৪১ টাকা সরকারের ক্ষতি মর্মে উত্থাপিত অডিট আপত্তির প্রেক্ষিতে কমিটি আগামী ৭ দিনের মধ্যে আদায়কৃত টাকার প্রমাণক অডিট অফিসে জমাদান করে তাদের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুপারিশ করে।

বৈঠকে সারাদেশে পল্লী বিদ্যুতের মিটার সংযোগ প্রদান, ট্রান্সফরমার প্রদান, খাম্বা লাগানোর অজুুহাতে সাধারণ জনগণের নিকট থেকে টাকা আদায় ও প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণের অভিযোগ থাকায় বিষয়টির সঠিকতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবকে দৈবচয়নের মাধ্যমে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

সূত্র: মানবকন্ঠ

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন