জন্ম নিবন্ধন : নাগরিক মত

প্রকাশ: May 23, 2015
Birth+Reg

আমরা ঢাকা:
জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজীকরণের চেষ্টা চলছে আমাদের দেশে। কিন্তু তারপরেও জন্ম নিবন্ধনে ব্যাপক ভোগান্তি রয়েই গেছে। অভিযোগ আছে, ঘুষ ছাড়া মেলে না জন্ম নিবন্ধন সনদ। রয়েছে দীর্ঘসূত্রিতা। ফরম জমা দিয়ে জন্ম নিবন্ধন সনদ আনার জন্য ৩ থেকে ৪ দিন পরে আসতে বলেন অফিসের কর্মকর্তারা। নির্দিষ্ট সময়ে জন্ম সনদ আনতে গেলে তারা অতিরিক্ত ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দাবি করেন। চাহিদামতো টাকা দিলে সঙ্গে সঙ্গেই পাওয়া যায় জন্ম সনদ। আর না দিলে দিনের পর দিন ঘোরানো হয়।

নাগরিক অ্যাকটিভিজম প্ল্যাটফর্ম ‘আমরা ঢাকা’র উদ্যোগে ঢাকার নাগরিকদের কাছে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, জন্ম নিবন্ধন নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতার কথা। মেইল, ফেইসবুক মেসেজে, বিভিন্ন পোস্টের কমেন্টে মানুষ জানিয়েছেন তাদের অভিজ্ঞতা।

কামরুল ইসলাম ডালিম জানিয়েছেন ১৯ মে ২০১৫ এর অভিজ্ঞতা। তিনি লিখেছেন, ‘আজকের একটি ঘটনা। দুই ভাগ্নির জন্য জন্মনিবন্ধন করতে উত্তর সিটি কর্পোরেশন মিরপুর ২ নম্বর কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। কোন একজন সাহায্যকারীর সাথে কথা বলে সব ঠিকঠাক করলাম। তার তথ্য মতে ফেয়ার ভাবে করতে গেলে এক/দেড় মাস লাগবে তবে কোন টাকা লাগবেনা। অথবা আজ দিলে কাল পাবেন এবং ৫০০/- গুনবেন। সময় আর ঝামেলা এড়াতে ৫০০ টাকাই গুনলাম। এটা সরকারী সকল কাজের সিস্টেম হয়ে গেছে। টাকা সত্যিই কথা বলে!’

মিরপুর ২ এর বাসিন্দা অরণ্য আনাম লিখেছেন, ‘আমার সন্তানের জন্ম নিবন্ধন আমি আজো করতে পারিনি ঘুষ না দেয়ার কারণে’। সেখানকার আরেক বাসিন্দা ডি কে সুলতান বলছেন, ‘মিরপুর-২ এ ৪৫০ টাকা দালালকে দিতে হয়’।

মিরপুর ২-এ জন্ম নিবন্ধন এক বিভীষিকার নাম। সেখানকার আরেক অধিবাসী নজরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘অতিরিক্ত টাকা দিলে একদিনেই পাওয়া যায়। আমি অতিরিক্ত টাকা দেইনি বিধায় ৫ দিন যেতে হয়েছে। বিভিন্ন অজুহাতে ও ভুল তথ্য টাইপ করার জন্য সময় লেগেছে প্রায় ৪০ দিন। অতপর বকশিস না দেওয়ায় দায়িত্ব প্রাপ্তরা চরম বিরক্ত হয়েছেন। মিরপুর-২ এ অবস্হিত আঞ্চলিক কার্যালয়’।

এস এম নওশের বাদশাহ জানিয়েছেন, ‘মিরপুর-২ এর অঞ্চল ৭ হচ্ছে ঘুষের স্বর্গরাজ্য’।

মিরপুর-২ মারিনা মোয়াযযেম লিখেছেন, ‘জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে মনে হলো জন্ম নেওয়াটাই মনে হয় ভুল হইছে’।

ক্ষুব্ধ কাজী সামসুল হকের মন্তব্য, ‘জন্মনিবন্ধন বেজন্মাদের দায়িত্বে’।

‘আমি অনেক সমস্যায় পড়েছি। আর আমি এখনও আমার জন্ম নিবন্ধন করাতে পারি নাই’। লিখেছেন ফেসবুকে মেঘের খেলা তুমি নামের একজন।

ছেলের জন্ম নিবন্ধন করাতে শফিক উদ্দিনের টাকা লেগেছে ৩ হাজার। ওয়ার্ড ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান তার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন, ২০১৫২৬৯২৫১৯০৯৬*** নং জন্ম নিবন্ধন ফাইল প্রসেস করতে।

এ আর রবিন লিখেছেন, ‘টাকা ছাড়া নিবন্ধন হয় না’। ফারুক হোসেনের মন্তব্য, ‘ভোগান্তির অপর নাম জন্মনিবন্ধন নেয়া- — সব যায়গায় ভোগান্তি’।

সোহান চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘৩০০ টাকা আর ১ দিন লেগেছে আমার এবং আমার পরিবার সবার জন্ম নিবন্ধন করতে, উত্তর সিটি কর্পোরেশন এ’।

জানু নায়েম ঘুষকে সাধারণ ঘটনা বলে মেনে নিয়েছেন, ‘আমি গুলশানে গিয়েছি ৭ দিন আগে আমার কাছে টাকা চেয়েছে আমি রাগ করে করিনি’।

হেলাল উদ্দিন বলেছেন, টাকা ছাড়া কিছুই হয় না ৩ বছরের কাজ এক দিনেই হয় টাকা দিলে।

বেলাল হোসেন অবশ্য জন্ম নিবন্ধনে একটি সমাধান প্রস্তাব দিয়েছেন, তিনি লিখেছেন, ‘জন্ম নিবন্ধনের এর কাজ অনলাইন এর মাধ্যমে করলে অনেক সহজ হবে, একটা প্রক্রিয়া হতে পারে আমার মতে, অনলাইন এর মাধ্যমে আবেদন করার পর, রেজিস্ট্রেশন স্লিপ অনলাইন হতে ডাউনলোড করে ব্যাংকে ফি জমা দেয়া। টাকা জমা হলে এবং জন্ম সনদ তৈরি হলে তাকে মোবাইলে এস এম এস করে জানিয়ে দেয়া হবে। এরপর ব্যক্তিটি ব্যাংক পেমেন্ট স্লিপ এবং অনলাইন হতে জন্ম সনদ টোকেন ডাউনলোড করে তা রেজিস্টার এর কাছে দেখালেই রেজিস্টার জন্ম সনদ দিয়ে দিবে’।

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন