মেয়রের প্রতি খোলা চিঠি

প্রকাশ: May 12, 2015
open-letter-300dpi

কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের দুই অংশের নির্বাচন। দীর্ঘদিন পরে নগর পেল তাদের নগরপিতা। ঢাকা উত্তরে আনিসুল হক ও দক্ষিণে সাঈদ খোকন সেই কাঙ্ক্ষিত নগরপাল। যাবতীয় নাগরিক সমস্যা থেকে রেহাই দিতে একরাশ আশ্বাস ও তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তারা। বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে নগরবাসীও বসে আছে তাদের স্বপ্ন পূরণের আশা নিয়ে, তিন নগর অভিভাবককে উদ্দেশ করে তরুণ তরুণদের খোলা চিঠিতে এমন সব স্বপ্নের কথাই উঠে এসেছে। এসব চিঠি প্রকাশ হয় দৈনিক জনকন্ঠের ১২ মে ২০১৫তে প্রকাশিত বিশেষ আয়োজনে।

মেয়র আনিসুল হকের প্রতি
শ্রদ্ধেয় মেয়র মহোদয়

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের উত্তরের মেয়র হওয়ার জন্য শুরুতেই আপনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। আমার এ চিঠি আপনার চোখে পড়বে কিনা জানি না, তবুও লিখছি। আপনি অবগত আছেন, ঢাকা উত্তরের রাস্তাঘাট আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে, চওড়া করা হয়েছে। কিন্তু এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে এখানকার গাছপালা কেটে ফেলে। আগে চারদিকে সবুজের আধিক্য ছিল। কিন্তু বর্তমানে গাছ সব কেটে ফেলায় ধুলোয় ধূসরিত হয়ে থাকে চারদিক। আগের মতো করে গাছ লাগালে পরিবেশ যেমন রক্ষা পায়, এলাকার সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায়। আপনি যে সবুজের স্বপ্ন দেখিয়েছেন, আশা করি তা দ্রুতই বাস্তবায়ন করবেন। তাছাড়া রাস্তা চওড়া হলেও হাঁটার জন্য ফুটপাথ নেই। যতটুকু আছে, সেখানে অপরিকল্পিতভাবে দোকান গড়ে ওঠায় আর লোকজন দাঁড়িয়ে থাকায় হাঁটার জায়গা পাওয়া যায় না। রাস্তার পাশে প্রশস্ত ফুটপাথ নির্মাণ এবং সেখানে হাঁটার মতো ব্যবস্থা গ্রহণে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাস্তায় নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর খাবার পানির ব্যবস্থা রাখাও জরুরী। আশা করছি, এ বিষয়গুলো আপনার সুনজরে আসবে।
সুপ্রিয় মেয়র, আপনি তো জানেন, যে কোন বয়সের জন্য শরীরচর্চা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। কিন্তু ঢাকার উত্তরে হাঁটার উপযুক্ত কোন ফাঁকা স্থান নেই, আর খেলার জন্য মাঠ তো নেই । সুতরাং আপনার কাছে পর্যাপ্ত মাঠ চাই। এদিকে ঢাকা উত্তরে, বিশেষ করে মিরপুরের বাসিন্দা হিসেবে দেখা যায় রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা মধ্যেই এলাকাতে অধিকাংশ আলো নিভিয়ে দেয়া হয়। গণমাধ্যমের সূত্রে আপনি হয়ত অবগত আছেন, এখানে বেশকিছু ক্রাইম জোন আছে। তাই সেসব স্থানে পুলিশী প্রহরা এবং আলোর ব্যবস্থা করা একান্ত জরুরী। তাছাড়া নারী নিরাপত্তার জন্য স্পেশাল ফোর্স গঠন এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগের উপায় সহজ করা প্রয়োজন। যে কোন অবস্থানে যে কোন নারী কোন অপ্রীতিকর অবস্থার মুখে পড়লে তৎক্ষণাৎ নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে তাকে রক্ষার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হলে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পাবে। আপনার অবগতির জন্য একটি বিষয় জানাই, কুড়িল ফ্লাইওভার নির্মাণের পর উত্তরা ও টঙ্গী রুটের বাসগুলো মিরপুর ১০-১২ এর রাস্তা ব্যবহার করে। যার ফলে রাস্তা হয়ে গেছে ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। তাই বাস থামার জন্য স্থান নির্বাচন করে দিলে এই ঝুঁকি হ্রাস পেতে পারে। সঙ্গে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করলে রোদ এবং বৃষ্টিতে মানুষ যেমন রক্ষা পায়, একই সঙ্গে যেখানে সেখানে বাস থামিয়ে বাস থেকে নামা বা ওঠার প্রবণতাও কমে। এ পদক্ষেপগুলো আপনি নেবেন আশা করি।
সুপ্রিয় নগরপিতা, প্রতিটা শাখা রাস্তার মোড়ে ময়লা ফেলার উপযুক্ত ব্যবস্থা করা এবং প্রতিটা দোকানের সঙ্গে একটা করে ডাস্টবিন রাখা বাধ্যতামূলক করা হলে যত্রতত্র ময়লায় নাজেহাল হতে হবে না নগরবাসীকে।

জাহরা জাহান পার্লিয়া
প্রকৌশলী

মেয়র সাঈদ খোকনের প্রতি
প্রিয় নগরপিতা

প্রত্যেক নগরবাসী চায় তাদের নগরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র যেন সফলতার সঙ্গে তার দায়িত্ব সম্পন্ন করতে পারেন। তা তিনি সমর্থিত দলের প্রার্থী হোন অথবা অসমর্থিত দলের প্রার্থীই হোন। কারণ নগরপিতা সফল হলে নাগরিক হিসেবে আমিই লাভবান হবো। তাই এই খোলা চিঠির শুরুতে আপনার সাফল্য কামনা করছি।
বয়সে তরুণ হলেও আপনার রাজনৈতিক অবস্থান এখন পর্যন্ত অনেক স্বচ্ছ বলে একটি ধারণা সবার মনে স্থান করে নিয়েছে। তাই ঢাকা দক্ষিণের যাবতীয় নাগরিক সমস্যা সমাধানে আপনি আন্তরিক হবেনÑ এমনটাই সবাই আশা করছে।
আপনি আগেই জানিয়েছেন, যানজট নিরসনের বিষয়টি আপনার কাছে অধিক গুরুত্ব পাবে। এটি সত্যকার অর্থেই আমাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। আপনার সদিচ্ছায় এটি একেবারে কমিয়ে আনা সম্ভব না হলেও সহনীয় মাত্রা পাবে নিশ্চয়। পাশাপাশি গরম পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অসহনীয় লোডশেডিং অতীতের মতো এখনও চলমান। এর সমাধান কোন কর্তৃপক্ষের এক্তিয়ারভুক্ত জানি না। যদি এ ব্যাপারে আপনার কিছু করার থাকে তা হলে সেটা হবে ঢাকা দক্ষিণবাসীর জন্য জরুরী সেবা।
এদিকে বর্ষাকাল চলে এসেছে। ঢাকা দক্ষিণের খিলগাঁও, বাসাবো, মালিবাগ, মৌচাক এবং হাতিরপুল, কালাবাগান ধানম-িসহ বেশকিছু স্থানে বর্ষাকালের জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। অনেক অভিযোগ, নানা গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশনের পরও সমাধান পায়নি ঢাকা দক্ষিণবাসী। এবার কি তারা আশায় বুক বাঁধতে পারবে মাননীয় নগর পিতা? আর জলাবদ্ধতার কারণে অলিগলির রাস্তার বেহাল দশাও নিত্য বছরের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। সেদিকেও আপনার সতর্ক দৃষ্টি আশা করব আমরা। এছাড়া ঢাকা উত্তরের মেয়র জনাব আনিসুল হক সবুজ ঢাকা গড়ার যে প্রত্যয় জানিয়েছেন, আপনিও নিশ্চয় বিষয়টকে সমান গুরুত্বের সঙ্গেই নেবেন।
এদিকে ভাড়াটে নগরবাসীর আরেকটি চূড়ান্ত ভোগান্তির নাম বাড়িভাড়া ও বাড়িওয়ালা। বাড়িভাড়া বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার দাবি দীর্ঘদিনের হলেও প্রশাসনের কোন পর্যায় থেকে মেলেনি বিন্দুমাত্র ইতিবাচক পদক্ষেপের আশ্বাস। বাড়িওয়ালার হাত থেকে আমাদের এই জিম্মি দশা ঘোচাতে আপনার কি কিছু করণীয় আছে মাননীয় মেয়র?
বর্তমানে ভূমিকম্প আতঙ্কে কাঁপছি আমরা। অপরিকল্পিত ও অবৈধ স্থাপনায় ঠাসা এই নগরের এক অংশের অভিভাবক হিসেবে, আপনি আমাদের কিছুটা হলেও নিরাপত্তা দিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা করছি। এছাড়াও নারী পুরুষের সমতা, দূষণ ও দুর্নীতিমুক্ত ঢাকা গড়ার যে আশ্বাস আপনি দিয়েছেন, তা নিশ্চয় একে একে বাস্তবায়িত হবে।

মিজানুর রহমান সুমন
সাংস্কৃতিককর্মী

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন