মেয়রের শনিবার

প্রকাশ: June 21, 2015
Annisul-huq-Ward-300x336

আমরা ঢাকা: সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগ ও কার্যক্রম পরিদর্শন করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মেয়র আনিসুল হক। শনিবার সরকারি ছুটির দিনে মেয়র ধলপুরে কর্পোরেশনের যান্ত্রিক বিভাগ, আমিন বাজারের বলিয়াপুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ল্যান্ডফিল্ড প্রকল্প এবং পরিদর্শন করেন। এছাড়া তিনি নাখালপাড়ার পানির সঙ্কট উপদ্রুত এলাকায় পরিদর্শন করে ওয়াসার প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

তিনি বিভিন্ন বিভাগের অব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রমের ধীরগতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত অব্যবস্থাপনা দূর করে কার্যক্রম শেষ করতে নির্দেশনা দেন।

যান্ত্রিক বিভাগে অব্যবস্থাপনা, প্রকৌশলী সাসপেন্ড
ঢাকার ধলপুরে রয়েছে উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) যান্ত্রিক বিভাগ। এখানে ডিএনসিসির বিভিন্ন ধরনের পরিবহন ও যন্ত্রপাতি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হয়। শনিবার সকালে মেয়র আনিসুল হক এখানে আকস্মিক পরিদর্শন করেন।

যান্ত্রিক বিভাগে রক্ষিত কোটি কোটি টাকার ভারী গাড়ি, ট্রাক, মাইক্রোবাস, পে-লোডার, বুল-ডোজার, হাইড্রোলিক গাড়ী, সাকার মেশিন, বর্জ্য কন্টেইনারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ইত্যাদি রক্ষণাবেক্ষণে অব্যবস্থাপনা দেখতে পান মেয়র। এরপরই তিনি দায়িত্বরত নির্বাহী প্রকৌশলী ও অপর একজন সহকারী প্রকৌশলীকে তাৎক্ষনিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

যান্ত্রিক বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে এবং যান্ত্রিক, পরিবহন ও বর্জ্য বিভাগের তিন সহকারী প্রকৌশলীকে সমন্বয়ের মাধ্যমে ধলপুরে নিয়মিত অফিস করার নির্দেশ দেন। সেই সাথে প্রধান প্রকৌশলীকে প্রতি মাসে একবার সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিতেও নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি পুরো প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন। এসময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একমাসের মধ্যে যান্ত্রিক বিভাগের সকল প্রকার যন্ত্রপাতির কম্পিউটারাইজড ডাটাবেজ তৈরির নির্দেশ দেন। এছাড়া ভাণ্ডার ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, অফিস বিল্ডিং, রক্ষিত বর্জ্য কন্টেইনার, অকার্যকর ভারী গাড়িগুলোকে ব্যবহারোপযোগী করতে নির্দেশ দেন তিনি।

ওই বিভাগ পরিদর্শন শেষে মেয়র আনিসুল হক তাঁর ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘সিটি করপোরেশনের যান্ত্রিক বিভাগে আচমকা পরিদর্শন করলাম, এ জায়গাটি সরকারি টাকা ও সম্পদ কীভাবে নষ্ট হচ্ছে, তার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রতিটি বিভাগে অনিয়মের মাত্রা দেখে আমি অবাক! এই অনিয়ম যেন আমি কঠোর হস্তে দমন করতে পারি, সে জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করি।’

আনিসুল হক বলেন, এভাবে সম্পদ ও অর্থের অপচয় মানা যায় না। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাখালপাড়ায় পানিসংকট সমাধানে ওয়াসাকে নির্দেশনা
একই দিনে তিনি পশ্চিম নাখালপড়া যান। সেখানে খাবার পানি সংকটের বিষয়টি তিন দিনের মধ্যে সমাধানের জন্য ঢাকা ওয়াসাকে নির্দেশনা দেন।

আনিসুল হক বলেন, জনস্বার্থে যা করা দরকার তাই করতে হবে। এ নিয়ে কোন রকম গাফিলতি করা চলবে না।
ওয়াসার প্রকৌশলীরা জানান, এসময়ের মধ্যেই সংকটের সমাধান করা সম্ভব।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অপচয়, তদন্তে কমিটি
পরে তিনি আমিন বাজারে বলিয়াপুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ল্যান্ডফিল্ড প্রকল্প পরিদর্শন করেন। সার্বিক অব্যবস্থাপনায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে জরুরি ভিত্তিতে তেল অপচয় রোধে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহবায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট শক্তিশালী কমিটি গঠন করেন। এই কমিটিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন মেয়র। তিনি ল্যান্ডফিল্ড এলাকায় সিসি ক্যামেরা, দুটি ল্যান্ডফোন স্থাপনের ব্যাবস্থা করার নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি আমিনবাজারে উপস্থিত জনসাধারণের বক্তব্য শোনেন এবং তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, ঢাকাকে আবর্জনামুক্ত করতে ২০০৭ সালে আমিন বাজারের বলিয়াপুর ২০ একর জায়গা জুড়ে ল্যান্ডফিল্ড তৈরির কাজ শুরু হয়। ১৯৭২ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত সময়ে জাপান সরকার বাংলাদেশকে যে ঋণ দিয়েছিল জাপান তা মওকুফ করে দেয়। মওকুফ করা এই অর্থ দিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করার অনুরোধ করেছিল জাপান। বলিয়াপুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ল্যান্ডফিল্ড তার মধ্যে অন্যতম । এতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে জাপানের সাহায্য সংস্থা জাইকা। ২০১০ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ডিএনসিসি এখনো পর্যন্ত কাজ শেষ করতে পারেনি। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণ সহ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরিতে ৪৫ কোটি এবং ট্রাক ক্রয়ে ২৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
001
অবৈধ বিলবোর্ড থাকবে না
শনিবার বিভিন্ন বিভাগ ও কার্যক্রম পরিদর্শনকালে মেয়র আনিসুল হক বলেছেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় কোনো অবৈধ বিলবোর্ড থাকবে না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। অবৈধ বিলবোর্ড ভেঙে ফেলতে সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সব মহলকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের এসব কর্মযজ্ঞের কারণে বিভিন্ন মহল থেকে তার ওপর নানা চাপ আসছে। বিশেষ করে কর্পোরেশনের দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে অসহযোগিতা করছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে, নগরীকে জনগণের জন্য বসবাসযোগ্য, সচল ও নিরাপদ করে তুলতে হবে।

মেয়র আনিসুল হক বলেন, আমাদের অনেকগুলো কমিটমেন্ট আছে। এসব কমিটমেন্টের প্রত্যেকটি ব্যাপার নিয়ে একটু হলেও উদ্যোগ নিয়েছি। প্রত্যেকটি কাজে হাত দিয়েছি। আশাকরি নগরবাসীর জন্য আমরা ভাল কিছু করতে পারব। এক সাথে কাজ করলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। আমরা আশা করি দুই বছর পরে রাজধানীতে কোথাও পরিত্যাক্ত অবস্থায় কোনো বর্জ্য পাওয়া যাবে না। আজ থেকে চার বছর পর ঢাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যাও থাকবে না। সচল-সুন্দর ঢাকা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সব রকম প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় তিনি বদ্ধপরিকর বলে জানান।

You must be logged in to post a comment Login