‘নারীদের দোষারোপ করার মানসিকতাও ধর্ষণের কারণ’

প্রকাশ: May 25, 2015
r

২১ মে ২০১৫ তারিখ রাতে চলন্ত মাইক্রোবাসে এক নারীর ধর্ষিত হওয়ার ঘটনার ধারাবাহিক প্রতিবেদন হিসেবে বিবিসি বাংলায় এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে ২৪ মে ২০১৫ তারিখে। আমরা ঢাকা পাঠকদের জন্য প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হল-

বাংলাদেশের ঢাকায় চলন্ত মাইক্রোবাসে এক তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে নির্যাতনবিরোধী বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

নারী আন্দোলনকর্মীরা বলছেন, গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের মতো ঘটনা ঢাকায় নতুন ঘটতে দেখা গেলেও, বিচারহীনতা ও আইন প্রয়োগে শিথিলতার কারণে নারীদের উপর ধর্ষণ ও নির্যাতনের মাত্রা বাংলাদেশে দিনকে দিন বেড়েই চলেছে।

অপরদিকে ধর্ষণের শিকার নারীদেরকে দোষারোপ করার মানসিকতাও ধর্ষণ বৃদ্ধির একটি অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন একজন সমাজ বিজ্ঞানী।
“কোন নারী যদি লাঞ্ছনার শিকার হয়, তাহলে তাকেই উল্টো দোষটা ঘাড়ে নিতে হয়। এই দোষারোপের সংস্কৃতিটাও ধর্ষণের ঘটনার জন্য দায়ী।” , বলেন সমাজ বিজ্ঞানী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরিন।

ঢাকায় এর আগে ২০১৪ সালেও উত্তরা থেকে এক তরুণীকে বাসে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল এবং সেসময় একজন নিরাপত্তাকর্মীও নিহত হয়েছিলেন।
২০১২ সালে ভারতের দিল্লীতে এক চলন্ত বাসে এক তরুণীকে গণধর্ষণ এবং হত্যার প্রতিবাদে পুরো ভারতজুড়েই একটি বড় ধরণের বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ হয়, যাতে সেখানকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশে এধরণের ঘটনায় সেধরণের বড় আকারে প্রতিবাদ দেখা যায়নি।
অধ্যাপক নাসরিনের মতে, অনেকেই মনে করে প্রতিবাদ করাটা নারীদেরই কাজ বা কিছু সংগঠনের কাজ।

তিনি বলেন, “বিষয়টা নিয়ে অনেকে আলোচনা করলেও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার দায়িত্বটা তারা নিতে চায় না।”

বৃহস্পতিবার রাতে কাজ থেকে বাড়ি ফেরার জন্য বাসের অপেক্ষায় থাকার সময় ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড থেকে নির্যাতিতা তরুণীকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। চলন্ত মাইক্রোবাসেই গণধর্ষণ শেষে তাকে আবার সড়কেই ফেলে যায় তারা।

শনিবার তরুণীটির ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা বলছেন তার শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন