নতুন উদ্যোক্তা আলি আশরাফের পথচলা

প্রকাশ: May 11, 2015
Oat Fasion

ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার স্বপ্ন ছিল তার কৈশোর বয়স থেকেই। তার ধ্যান আর জ্ঞান সব কিছুই ব্যবসাকেন্দ্রিক। তিনি বিশ্বাস করতেন ব্যবসা হচ্ছে জীবনে সুন্দর ও স্বাধীনভাবে বাঁচার পথ। আর এ বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই ৮ বছরের গার্মেন্ট ট্রেডে মার্চেন্টডাইজিং পেশা ছেড়ে দিয়ে নিজেই শুরু করেছেন নতুন ধরনের বুটিক ব্যবসা। ২০১১ এর মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানের নাম দেন ওট ফ্যাশন। আর এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন প্রায় ৩০ জন বেকার যুবক। স্বপ্নজয়ী এই উদ্যোক্তার নাম আলি আশরাফ।

মিরপুরের স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওট ফ্যাশনের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ও পণ্য তৈরিতে প্রত্যক্ষভাবে ১২ জন লোক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। আর পরোক্ষভাবে কাজ করছে আরও ২৫ থেকে ৩০ জন। এরা বর্তমানে প্রায় সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। তিনি আরও জানান, এ ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতি মাসে তার খরচ ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া বাড়িতে খরচ বাবদ দেন ৩০ হাজার টাকা। আর লাভের কিছু অংশ সঞ্চয় করেন ভবিষ্যৎ স্বপ্ন পূরণের আশায়। তবে তার এ ব্যবসায় মা-বাবার পাশাপাশি তাকে সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী মাসুমা খাতুন।

ওট ফ্যাশনের ভিন্নতা:
মূলত বুটিক এবং হস্তশিল্প এর প্রতিটি উপাদানই পাওয়া যায়। তবে এ প্রতিষ্ঠানের বিশেষ পণ্য হচ্ছে জুটের তৈরি পোশাক। তাছাড়া মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের টপস, ফতুয়া, কুর্তি, থ্রিপিস। আর এসবের মূল্য ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা।

স্বল্প খরচে, নতুন ডিজাইন ও ভালোমানের কাপড় হওয়ায় এ প্রতিষ্ঠানের চাহিদা বেশি। ফলে ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু হওয়া এই ব্যবসার বর্তমান মূলধন ১৫ লাখ টাকা। আশরাফ জানান, প্রতিটি মানুষ তার কাজে সফল হবে যদি সে তার কাজে সৎ থাকে এবং পরিশ্রমী হয়।

আলি আশরাফ আরও জানান, উদ্যোক্তা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ২ হাজার নতুন উদ্যোক্তাকে অনুপ্রাণিত করতে ও ব্যবসার প্রসারে আর্থিক সহযোগিতা করছে। যার অর্থের জোগান দিচ্ছে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক। তিনিও একজন নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১৭ লাখ টাকা পাবেন বলে জানিয়েছেন। ব্যবসা নিয়ে সুদূর প্রসারী ভাবনা অনেক আগে থেকেই তার ছিল।

এখন ওই ভাবনাগুলো বাস্তবে রূপান্তরিত হওয়ার সময়। এ অর্থের মাধ্যমে আগামীতে ওট ফ্যাশনের পণ্য দেশের বাইরে রফতানি করার ইচ্ছে আছে। এক্ষেত্রে বাইরের কোনো একটি দেশে শোরুমও দিতে পারি। আর এতে কাজের পরিধি বাড়বে। লোকবলও বাড়বে।

ভবিষ্যৎ ভাবনা:
দেশের প্রতিটি বিভাগে ওট ফ্যাশনের শোরুম দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আলি আশরাফের। পরবর্তীতে ব্যবসার প্রসারে দেশের বাইরেও শোরুম দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। এক সন্তানের জনক আশরাফ বর্তমানে তার ব্যবসা নিয়ে পুরোপুরিই সন্তুষ্ট।

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন