যখনতখন রাস্তা খনন: সমাধান সিইউটি

প্রকাশ: May 25, 2015
utility line

সম্প্রতি পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন, ফাইবার অপটিক, কেবল টিভিসহ সেবা সংস্থার সকল লাইনকে একটি লেনে আনার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই অনুযায়ী রাজধানী ঢাকায় কমন ইউটিলিটি টানেল (সিইউটি) বা ডাকটাইল লেন নির্মিত হবে বলে জানা যায়। এজন্য দুইটি সিটি করপোরেশনকে নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে ৩৪টি সংস্থা সংশ্লিষ্ট হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইউটিলিটি সংস্থাগুলোর কাছে তথ্য চাওয়া হয়। কৌশল ও কর্মপরিধি নির্ধারণ এবং সমন্বিত সুপারিশ প্রণয়ের লক্ষ্যে ২০১৪ সালের ২৮ অক্টোবর বিভিন্ন সংস্থার কারিগরি বিষয়ের প্রধানদের যৌথ সভার আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সভায় টানেলের অ্যালাইনমেন্ট ও সাইজ নির্ধারণ, ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন প্রণয়নে কনসালট্যান্ট নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়।

তথ্য মতে, পুরাতন ঢাকার কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে আগে নতুন ঢাকাসহ বর্ধিত এলাকায় এই টানেল স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে সকল সিটি করপোরেশন এবং সারাদেশকে আনা হবে এইরূপ টানেলের আওতায়। উত্তরা, পূর্বাচল বা ঝিলমিলের ন্যায় নূতন এলাকায় ইউটিলিটি টানেল শুরু হতেই তৈরি করার বিধান থাকবে। তাছাড়া প্রকল্পের শুরুতে বিমানবন্দর সড়কে এই টানেল নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে দেখা যায়, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে অনেক সময় সেবা সংস্থার লাইনগুলি রাস্তার কোথায় আছে, সেই সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সুস্পষ্ট ধারণাও থাকে না। ফলে গ্যাসের লাইন মেরামতের সময় ওয়াসার পাইপলাইন ফেটে পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। আবার পানির লাইন সংস্কার করতে গিয়ে তার কেটে গেলে শত শত টেলিফোন লাইন বিকল হয়ে যায়। সকল সেবা লাইন একটি টানেলের আওতায় এলে এরকম সমস্যার সমাধান হবে সহজেই। অতীতে কোন সরকার এই ব্যাপারে উদ্যোগ না নিলেও এই ব্যাপারে নাগরিক সমাজ বরাবরই সোচ্চার।

CUT

কমন ইউটিলিটি টানেল বাস্তবায়ন করা হলে একই সড়ক বার বার খুঁড়তে হবে না। জনগণের দুর্ভোগ ও ভোগান্তি কমবে। বছরে সরকারের আর্থিক সাশ্রয় হবে দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—আজ হোক কাল হোক, কমন ইউটিলিটি টানেল পদ্ধতি আমাদের অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। উন্নত দেশসমূহে এরূপ ব্যবস্থাই বিরাজমান। আমাদের শহর-নগরে কেবল জঞ্জালের অসুবিধা ও সৌন্দর্যহানির কথা বহুবার লেখা হয়েছে। এই কারণে কত দুর্ঘটনা ঘটেছে তারও ইয়ত্তা নাই। এখন আধুনিক শহর নির্মাণ করতে হলে এর কোন বিকল্প নাই। যদিও এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা জটিল ও ব্যয়সাপেক্ষ, তবু ধীরে ধীরে হলেও এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে হবে সমগ্র শহর অঞ্চলকে। এই ধরনের টানেল নির্মাণের সময় বিশেষত পানি ও স্যুয়ারেজ লাইনগুলিকে একটু পৃথক রাখতে পারলেই মঙ্গল হবে। সর্বপ্রকার নিরাপত্তা ও ঝুঁকি মোকাবিলার ব্যবস্থা রেখেই কমন ইউটিলিটি টানেল নির্মাণ করতে হবে।

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন