স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য উত্তরায় ফ্ল্যাট হবে

প্রকাশ: May 28, 2015
grey-tall-brick-apartment-building

স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সরকার কর্তৃক ঢাকার উত্তরায় ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনার খবর ২৮ মে ২০১৫ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে প্রথম আলো পত্রিকায়। আমরা ঢাকার পাঠকদের জন্য খবরটি তুলে ধরা হল-

স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য ঢাকার উত্তরায় ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৩২৯ কোটি টাকা। সচিবালয়ে গতকাল বুধবার এ বিষয়ে তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মোট ১৩টি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে বেজমেন্টসহ ১৬ তলা বিশিষ্ট আটটি ভবন নির্মাণ করা হবে। একেকটি ভবনে ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে ৮০-৮৮টি। প্রতি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে ১ হাজার ২৫০ বর্গফুট।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভবনগুলো নির্মাণ করা হবে তিনটি গ্রুপে। এর মধ্যে একটি গ্রুপে চারটি ভবনে যৌথভাবে ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে এআরকে-এমবিপিএল। এতে মোট ব্যয় হবে ১৭০ কোটি টাকা। এআরকে-এমবিপিএল অন্য একটি গ্রুপেও দুটি ভবন নির্মাণ করবে, যাতে ব্যয় হবে ৭৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া আরেকটি গ্রুপে দুটি ভবনে ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে নাভানা কনস্ট্রাকশনস লিমিটেড। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৮০ কোটি টাকা।

মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের বিভিন্ন সেক্টরে সারফেস ড্রেনসহ অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণকাজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর দুটি প্যাকেজের মধ্যে একটির কাজ পেয়েছে মেসার্স আতাউর রহমান। এতে ব্যয় হবে ১৪ কোটি টাকা। ১৫ কোটি টাকা ব্যয়সংবলিত অন্যটির কাজ পেয়েছে যৌথভাবে এমআরসি-আরবিএল।

এ ছাড়া উত্তরা আদর্শ আবাসিক শহর (তৃতীয় পর্ব) প্রকল্পের ৬ নম্বর ব্রিজের অবশিষ্ট নির্মাণকাজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ের এ কাজ পেয়েছে কাজী এন্টারপ্রাইজ।

ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে ঢালারচর পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় পাবনা-ধলারচর সেকশনের রেলসেতু নির্মাণকাজের ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যৌথভাবে এ কাজটি পেয়েছে পিবিএল-এসি। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান কার্যালয় নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদনের কাজ পেয়েছে যৌথভাবে প্রতিভা কনস্ট্রাকশন ও নাভানা কনস্ট্রাকশনস। এতে ১৪৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন ইয়ার্ড রি-মডেলিংয়ের জন্য চুক্তিপত্রভুক্ত কাজের ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ২২৭ কোটি থেকে ২৫ কোটি টাকা বাড়িয়ে ২৫২ কোটি টাকা করা হয়েছে।

বৈঠকে ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় ছয়টি প্যাকেজের ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি প্যাকেজে ১৫২ কোটি টাকা বৃদ্ধি এবং দুটিতে ১১ কোটি টাকা কমানো হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ১৯২ দশমিক ৩০ কিমি। ৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি ১৩টি প্যাকেজে বাস্তবায়নাধীন।

ক্রয় কমিটির বৈঠকের আগে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে তিনটি বিষয়ে নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়, যার দুটিই কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক-সম্পর্কিত।

কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কের দুটি ব্লক স্থাপনে এসআইএমসিএল-ইনফিনিটির সঙ্গে পুনঃসংশোধিত কনসেশন চুক্তি অনুমোদিত হয়েছে বৈঠকে। আরেকটি ব্লক নির্মাণেও তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি অনুমোদিত হয়েছে। এটি হবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) ভিত্তিতে।

বৈঠকে চিটাগাং কেমিক্যাল কমপ্লেক্সকে বেসরকারীকরণের তালিকা থেকে অবমুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: প্রথম আলো

You must be logged in to post a comment Login

মন্তব্য করুন